রঙ্গোলি

ভবেশ এসে মারে ওকে রোজ। শালা চুল্লুখোর বুঢ্ঢা। মারতে মারতে গালি দেয় হারামিটা। কান পেতে শোনে শ্রীধর। মিতার কান্নার আওয়াজ। গোঙানির আওয়াজ। ইচ্ছা করে এ পাঁচফুটিয়া দিওয়ার ভেঙে ওপারে যায় ও। পরদিন সকালে আবার যখন দেখে মিতাকে, গুল দিচ্ছে চুপচাপ, মনের ইচ্ছাটা দবাতে হয় ওকে। এত্ত মার খায়..লেকিন অওরত জাতভি কেয়া অজীব জাত হ্যায়।

লেখিকা~ পিয়া সরকার
#AnariMinds #ThinkRoastEat

ইগের অভিশাপ

অন্ধকারের মধ্যে একটু ভাল করে দেখতে হয়, একটা মানুষের অবয়বের মতো কিছু যেন পড়ে রয়েছে সেই বেদির উপর। অবয়বটা একবার নড়ে চড়ে উঠলো যেন। মৃদু শিসের শব্দটা এবার একটু জোড়ালো হয়েছে। মিঃ রোজারের হৃদ- স্পন্দন দ্রুত হয়ে গেছে তা তিনি আঁচ করতে পারছেন। এবার তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন জানোয়ারটাকে। দূর থেকে দেখলে প্রথমে মানুষ ভেবে ভুল করতে হয়। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, কোমরের উপরিভাগ মানুষের মতো হলেও কোমরের নীচে পা নেই। তার জায়গায় এক মস্ত বড় আঁশযুক্ত লেজ রয়েছে। যা হিলহিলিয়ে জলের উপর মৃদু তরঙ্গ সৃষ্টি করছে জানোয়ারটা।

লেখক ~ সুদীপ্ত নস্কর
#AnariMinds #ThinkRoastEat

এবার মঞ্চে আসছেন

আর একটু এগোতেই বুইতে পারলাম কেসটা। সাউন্ড চেকের মধ্যেই মাইকে ঢুপ ঢুপ করে দুবার হাতের তালু ঠুকে খদ্দরের পাঞ্জাবি পরা অ্যাঙ্কর অ্যানাউন্স করলেন, “ধইয্যো ধরুন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সুরু হতে চলেছে বহু পোতিক্ষিতো কিসোর রোফি নাইট!”

লেখা ও প্রচ্ছদ ~ অরিজিৎ গাঙ্গুলি
#AnariMinds

দরিন্দা

গাড়ীটা বেরিয়ে যেতে মেয়েটা পিছন ঘুরে টলতে টলতে এগিয়ে গেল গেটের দিকে| … অপলক তাকিয়ে আছে সে মেয়টার দিকে| ফোঁটা ফোঁটা জল চুঁইয়ে পড়ছে তার বর্ষাতি থেকে, কানের লতি থেকে, চোখের পাতা থেকে|

লেখক ~ দিব্যেন্দু বিজলী
#AnariMinds #ThinkRoastEat

শেষ চিঠি

হঠাৎ’ খাটটা একটু নড়ে উঠল। খাটে কেউ বসলে যেমন ভাবে নড়ে উঠে ঠিক তেমন। পা থেকে মাথা অবধি এক হিমেল স্রোতের প্রবাহ অনুভব করলাম। খুব সন্তর্পণে দম বন্ধ করে ক্ষীণ চোখ খুলে দেখে সারা শরীর অবশ হয়ে গেল। খাটের উপর পায়ের কাছে বসে অবিনাশ, আমার দিকে এক দৃষ্টে চেয়ে আছে। তার চোখ দুটি জ্বলন্ত ভাটার মত লাল হয়ে জ্বলছে। ক্ষুধিত বাঘের মত ক্ষিপ্র ভাবে সে আমার মাথার কাছে সরে এসে মুখের কাছে ঝুঁকে এলো, বিদ্যুৎ খেলে গেল শিরা উপশিরায়।

লেখক ~ সুদীপ্ত নস্কর
#AnariMinds #ThinkRoastEat

তরল রহস্য

ঢিবির একপ্রান্তে আমি আর একপ্রান্তে ফ্র‍্যাঙ্ক। আমি ক্যামেরাটা তাক করে সুইচটা টিপে দিলাম হয়তো ছবিটা ঠিক উঠলো না, কারণ উত্তেজনায় আমার হাতটা তখনও ঠক ঠক করে কাঁপছে। এই অবস্থায় প্রথম শর্টে স্পষ্ট ছবি উঠবে সে কথা কল্পনা করাই বোকামি। সঙ্গে সঙ্গে এক চোখ ঝলসানো ফ্ল্যাশের আলোয় কয়েক সিকি সেকেন্ডের জন্য প্রগাঢ় অন্ধকারের নিকষ ঘনত্ব চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। আকস্মিক উজ্জ্বল আলোর ঝলকে সাময়িক বিচলিত হওয়ার পরই জানোয়ারটি আমাদের দিকে ক্ষিপ্রদৃষ্টে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল।

লেখক ~ সুদীপ্ত নস্কর
#AnariMinds #ThinkRoastEat

জোকার

– ক্লাইম্যাক্সটা ঝুলিও না। তীরে এসে তরী ডোবানোর মত, ওই নোলান ছোঁড়াটা যেমন আমাকে টাঙিয়ে দিলে একটা দশতলা বাড়ি থেকে! ওটা বড্ড গায়ে লাগে।

– আহা, তা সাড়ে আটশ ফিটের গ্ল্যামারাস হাইরাইজ চলবে কী?

লেখক ~ সপ্তর্ষি বোস
প্রচ্ছদ ~ সৌমিক পাল
#AnariMinds

একটা হঠাৎ পাওয়া বিকেলবেলা

আজ হঠাৎ মনে পড়ে গেল সেই বিকেলগুলোর কথা। তখনও হাতে ফোন বা জয়স্টিক আসেনি। বিকেলবেলা বন্ধুরা দল বেঁধে ডাকতে আসত “পিকলুউউউউ, খেলতে যাবি!” ব্যাট উইকেট আর সাথে চাঁদা দিয়ে কেনা সাড়ে তিনটাকার রবার ডিউস বল নিয়ে দৌড়ে দৌড়ে হাজির হতাম অবিনাশ ব্যানার্জি লেনের সেই লম্বা গলির মুখে।

লেখক ~ অরিজিৎ গাঙ্গুলি
#AnariMinds

ম্যাচ রিপোর্ট ৩ – নাইজেরিয়া বনাম আর্জেন্টিনা

ম্যাচ শেষে সাম্পাওলি-কে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেন, “হিগুয়াইনের এই ধারাবাহিকতার রহস্য কি?” উনি মুচকি হেসে উত্তর দেন, “ছেলেটাকে গোল পোস্টের ভেতরে দাঁড় করিয়ে বলি গোল দিয়ে দেখা……. তাতেও বাইরে মারে!”

লেখক ~ অরিজিৎ গাঙ্গুলি
#AnariMinds