ডিম্বানু

Anirban & Arijit, Humor, বাংলা

না না, নাম দেখেই গল্প টা পড়তে চাইছেন তো? ওইটি হতে দিচ্ছি নে। গল্পের নাম “একটি ডিম” বা “আন্ডে কা ফান্ডা” দিলে আর ঢুকতেন পড়তে? বলুন, ঢুকতেন? খিক খিক করে হাসছেন কি? ঢপ দেবেন না। নিজের ডিমে…. আই মিন নিজের বুকে হাত রেখে বলুন তো দেখি!

যাজ্ঞে, ঢুকেই যখন পড়েছেন, তখন মনোরঞ্জনের দায়িত্ব আমার। ২ টো মিনিট শরীর টা চেয়ারে আলতো করে এলিয়ে দিন। শো শুরু হলে বলে।

দিনে মিনিমাম ২ টো করে ডিম না হলে আমার পৌষ্টিক অর্গ্যাজম টা ঠিক রিচ করে না। বেশি হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু না পেলেই হর্নি অবস্থায় জিভ বের করে খুঁজে বেড়াই। “আমায় ডিম দাও গো, বলে বাড়িয়ে দি হাত”।

নিজের বাড়ি হলে না হয় যোগানের চিন্তা থাকে না, কিন্তু এই সুদূর বিলেতে এসে আকেলা সংসারধম্মো পালন করতে গিয়ে ইয়ে জ্বলে যায় আর কি। পোস্ত করেছিলাম একখান, সে কি ঘ্যামা পোস্ত মাইরি, বললে বিশ্বাস করবেন না। অলিভ অয়েল, দারুচিনি, লবঙ্গ, পোস্তবাটা, সরষেফোরন, জিরেগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, গরমমশলা, মরিচ, লঙ্কাগুঁড়ো, আলু, গাজর, কপি, কড়াইশুঁটি, ধনেপাতা দিয়ে সে এক পেল্লাই পোস্তর মোচ্ছব। মারাঠি রুমমেট খেয়ে বলল নবরত্ন কারিও নাকি ঠিক এমনটাই হয়; বিশ্বাস করুন পুরো বাঙালির গর্বের বেলুন টা ফুসসসসস্ করে হাওয়া বের করে কোথায় গিয়ে সটকে গেল।

ভরসা হল গিয়ে তাই ডিম। সেই লর্ড কার্জনের আমল থেকে দিনেরাতে প্রোটিনের ব্যালেন্স বজায় রেখে চলেছে। আরে ভাই, হঠাৎ মাথায় এল লোকটার নাম, তাই বললাম, সবসময় সন্দিগ্ধ হয়ে থাকেন কেন, আরাম করে পড়তে থাকুন।

তা এহেন এক রাতে অফিস থেকে ফিরে ডেচকি তে চাপিয়ে দিলাম ৬ খানা ডিম্ব। ঠোকাঠুকি করে সেদ্ধ হতে থাকল। বিলেতের ডিমগুলো আবার লালচে রঙের, সাইজ ও ছোট। ৬ খানা একবারে খাব না রে বাবা, আপনার এত চিন্তা কিসের, আরে ২ দিন ধরে খাব মশাই। একা থাকলে এসব চলে, একদিন পাকাও, ৫ দিন খাও, না না পচে না, পচলেও বুঝতে পারি না, বুঝলেও কিছু করার থাকে না, জেলুসিলের লেয়ার ফেলে দিলেই হয় ওপরে।

সেদ্ধ হতেই ছাল ছাড়িয়ে নুন মাখিয়ে ঢুকিয়ে রাখলুম ফ্রিজে, কাল সকাল থেকে শুরু ভক্ষণ।

ব্রেকফাস্ট আমার খুব ফ্লেক্সিবল। যা পাওয়া যায় হাতের কাছে – বিস্কুট, কেক, আপেল, কলা, দই, মুসলি, পাঁউরুটি, ওটস্ – এনি অয়ান অর টু। মেরে দিলাম দুটো কলা, দুটো বিস্কুট। ফ্রিজ থেকে বের করে টিফিন বক্সে ভরে নিলাম স্বর্গীয় দুইখান আন্ডা।

দেখলেই খাড়া হয়ে যায়, কন্ট্রোল করা বেশ চাপের। আরে দাদা, প্লিস, সবসময় স্পুন ফিড করা যায় না, লেখার স্মুথনেস টা বিগড়ে যায়, গায়ের লোম দাদা, গায়ের লোম। লোমহর্ষক অ্যাপিল আছে কিন্তু ডিম ব্যাপার টা তে। নাহ্, মেরেই দেওয়া যাক একটা এখুনি। এই ভেবে ঢুকিয়ে দিলাম মাইক্রোওয়েভে হাল্কা গরম করে নেওয়ার জন্য।

না দাদা ডিম টা ফাটে নি। এই ভয়টা আমারও ছিল, তাই জাস্ট ৩০ সেকেন্ড দিয়েছিলাম, ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে ছিলাম। অনেকের মুখেই আগে শুনেছি ওভেনের ভেতরে ডিম বার্স্ট করতে। আমার সেই অভিজ্ঞতা নেই। টিং টিং, বের করে আনলাম মোহময়ী ডিম্ব কে। নুন ফুন লাগে না, যে ডিম ভালোবাসে, সে এমনিতেই একটা নোনতা স্বাদ পেয়ে যায় কুসুমে। পরম তৃপ্তি তে প্রথম কামড় টা বসালাম মুখের কাছে এনে।
.
.
.
ভড়াম!!!!!
.
.
কেন রে শুয়ার, ওভেনের ভেতর ফাটতে তোর কি হয়েছিল? আর জায়গা পেলি না হতচ্ছাড়া! আমার মুখেই বিস্ফোরণ ঘটাতে হলো?

হাসবেন না। একটা ডাবকা বেলুন ফুলিয়ে ফাটাবো আপনার ঠোঁটের কাছে? জিভ, মাড়ি, ঠোঁট – কেউ আর নিজের পোজিশানে নেই মনে হছে। খিস্তি টা নিজেকে মারব, না ডিম টা কে মারব, না ওভেন কে বুঝে উঠতে পারলাম না। কিচেনের চারিদিকে ছড়িয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ডিম্বানু। হেঁ হেঁ, খুব মজা পাচ্ছিলেন তো? নিন এইবার, এই হল নামকরণের সার্থকতা।

এক খাবলা কুসুম আমার কপালে চিপকে। চশমা টা খুলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথার তালু তে থপাস। হাত দিয়ে বুঝলুম তেনারই ধ্বংসাবশেষ, নির্ঘাত সিলিং-এ লটকেছিল।

এই ছিল রে তোর মনে? এইভাবে দিলি ভালোবাসার প্রতিদান? ডিম ফেটে বাচ্ছা হতে দিইনি বলে সেই ফেটেই বদলা নিলি?

বিশ্বাস করুন, সেদ্ধ ডিম দেখলেই এখন আগে দূর থেকে বাচ্ছাদের মতো চামচ বা কাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে দেখে নিচ্ছি। আসলে সময় যখন খারাপ যায়, ডিম ফাটলে বাচ্ছা হয়!

হ্যাঁ জানি জানি, ইচ্ছে থাকলেও অতো ওপেনলি লেখা যায় না দাদা। শো খতম, আন্ডা হজম! কাটুন তো দেখি এবার।

 

 

লেখক ~ অরিজিৎ গাঙ্গুলি

প্রচ্ছদচিত্র উৎস ~ fp.reverso.net

প্রচ্ছদ অলঙ্করণ ~ Anari Minds

Leave a Reply