একখান পেমের গপ্পো

Anirban & Arijit, Bus, Childhood, Conversation, Humor, Love Story, Marriage, Nostalgia, Saddest Stories Are The Best Stories, School, Short Story, Story, আদতে আনাড়ি, বাংলা

সেদিন একটা কলিগ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লো সপাটে, বেশ তো লেখাজোঁকা করছিস দেখছি, এবার একটা প্রেমের গল্প লিখে দেখা দিকিনি যদি এলেম থাকে। হেব্বি আঁতে লাগল মশাই, কাজের ফাঁকে একটু আধটু লেখাজোকা করি বলে আবার লোকজনের থেকে চ্যালেঞ্জ ও অ্যাকসেপ্ট করতে হবে নাকি!

তা আমি হলুম গিয়ে শিবপুরের পোলা আর হাওড়ার ল্যা….. থাক গে। পেম পেম ব্যাপারটা না, আমাদের মানে, জানেন তো এক্কেবারে মানে, ইয়ে তে থাকে। হাওড়ার মানুষগুলোর মধ্যে পেম পীতি ভাওবাসা এইসব জিনিসপত্তর গুলো পুরো জন্ম থেকেই বডি তে সাঁটা। ছোট ছোট বয়স থেকে সব পেকে টুসটুস। পেট গুড়গুড় বুক ধরফর হৃৎপিন্ডের তিড়িং বিড়িং এগুলো কে রোগ বলেই ধরি না আমরা। সহর জুড়ে যেন পেমের মরসুম।

সরস্বতীপূজা, ভ্যালেন্টাইন্স ডে – এইসব দিনে আমরা পাতি ঘরে বসে রেস্ট নিতুম। আরে মশাই গোটা বছর তো একে ছেড়ে ওকে ধরতে ধরতে ক্লান্ত, তাই ইস্পেশাল প্রেমের দিনগুলো একটু জিরিয়ে নেওয়া বানতা থা, পাতি কথায় বাকিদের একটু সুযোগ দেওয়া আর কি।

আমার এক বন্ধু ছিল তোচন বলে, পুরো লুজ মাল। সামনে দিয়ে কোনও মেয়ে গেলেই ও প্রেমে পড়ে যেত, হয়তো মুখ টাও দেখতে পায়নি ভালো করে, শুধু পেছন দিক থেকে ওকে হেঁটে যেতে দেখেছে, ব্যাস, ধপাস। শঙ্খিনী পদ্মিনী চিত্রানি ভেবে দৌড়ে দৌড়ে যেত, আর একটু বাদেই ডাকিনী যোগিনী এল শত নাগিনী বলে ছুটে পালিয়ে আসতো।

তা এই তোচন একবার সত্যিকারের প্রেমে পড়ে গেল। সে যে কি ধাঁই করে পড়ল বলে বোঝাতে পারব না। ঘুম গন্, খাওয়া লাটে, নেখাপড়া চুলোয় – দুনিয়া জুড়ে শুধুই রিতিষা। এত্তো ভালোবাসতো ওকে তোচন, এত্তো ভালোবাসতো, যে ঠিক এক বছরের মাথায় আর সাড়ে সাত খানা প্রেমের পরেই তৃণা কে বিয়ে করল, সম্বন্ধ করে। জীবনে পেত্থম বার মেয়ে দেখতে গিয়েছিলুম ওর সাথে। কি খাওয়ালো মাইরি, মনে হল বিয়ের আগেই জামাই আদর করছে। আমি তো খেয়েদেয়েই তোচন কে বললাম এই মেয়ে রিজেক্ট, তুই আরও দ্যাখ, আমি পাশে আছি। কিন্তু পাত্তাই দিল না শালা, আমার আরও গেলার চান্সটা স্রেফ মাঠে মারা গেল। ড্যাং ড্যাং করে গান্ধর্ব মতে বিয়ে করে ফেলল তৃণা কে। গান্ধারির মতো চোখ বুঁজে এরকম একখানা গন্ধমাদন ডিসিশান নেওয়া কে আর কি বলি বলুন তো!

তা তোচনের কথা ছাড়ুন, ও সুখেই ঘরকন্না করছে। তবে আমার দেখা একখানা সেরা প্রেমের গল্প আপনাদের শোনাবো আজ। দেখবেন একদিন এই গল্প টাই “দুই বাংলার শতাব্দীর সেরা প্রেমের গল্প সংকলন” নামের কোনো একটা বই তে ঠিক জায়গা করে নিয়েছে। চারিদিকে গোল হয়ে বসে পড়ুন দিকিনি। কমবয়সী ছেলে মেয়ে রা একসাথে বসতে পারো, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্করা দয়া করে আলাদা বসুন, আপনারা বেশি ডেঞ্জারাস! বাচ্চা গুলো কে একটু জায়গা ছাড়ুন প্লিজ। ওই, কে আছিস, দাদু কে একটা টুল এনে দে। কাকিমা আমার ঘাড়ে উঠবেন না প্লিজ, অনেক জায়গা আছে বাঁদিকে, সরুন। মামনি, ফোন বন্ধ। দরজা টা ভেজিয়ে দিন। গল্প শুরু করলাম।

||

সন ২০০১। কলকাতার তখনও লন্ডন হওয়ার ইচ্ছে জাগেনি। চারিদিকে বেশ একটা ইতিহাস ইতিহাস টাইপের ইস্টম্যান কালার ছড়ানো। বাচ্চা রা গরমকালের ঠা ঠা দুপুরের রোদেও মাঠে খেলাধুলো করে। ৫ টাকার ক্যাডবেরি ডেয়ারি মিল্ক ম্যাগনিফাইং গ্লাস ছাড়াই খালি চোখে দেখা যায়। ভিক্টোরিয়ার বাইরের রাস্তায় বয়স্ক ভদ্রলোক ছাতা মাথায় ঠায় ভেতরের ঝোপের দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন কখন সেটি নড়বে তার আশায়। নন্দনে সিনেমা দেখে বেরিয়ে রাজুস কিচেনের চা আর চিকেন মোমো না হলে আড্ডা জমে না। তো এইরকমই একটা মায়াবী পরিবেশে কালো হুলো বেড়ালটা কে ঠিক হাওড়া-রানীহাটি মিনিবাসের সামনে দিয়ে গুনে গুনে বেলা ১১ টা ৩৮ মিনিট নাগাদই রাস্তা পার হতে হল!

ফলস্বরূপ সাডেন ব্রেক। ফলস্বরূপ সিটে বসা সাত্যকির কোলে সোজা উড়ে এসে জুড়ে বসল এক সুশীলা তন্বী। গতিজাঢ্য থেকে স্থিতিজাঢ্যের এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফ্র‍্যাকশান অফ সেকেন্ড সময়কালে কিউপিড ব্যাটা টুকুস করে তীর ছুঁড়ে ধাঁ। স্যাট করে এফোঁড়ওফোঁড় বিঁধেও গেল।

কানের ঝোলা দুল আর একটু হলে সাত্যকির কলারে আটকে যাচ্ছিল। সরু চেনের ঘড়িওয়ালা হাত দিয়ে চুল টা কানের পাশ থেকে সরাতেই একটা মোহময়ী গন্ধ যেন মাতিয়ে দিল সাত্যকির ভেতর টা।

– সরি সরি, প্লিজ কিছু মনে করবেন না, এমনভাবে ব্রেক কষল না!
– ইটস্ অলরাইট। আপনি বসুন এখানে।
– আরে না না…
– বসুন বসুন।
– আপনার ব্যাগ টা দিতে পারেন।
– না না, ঠিক আছে, কতদূর যাবেন?
– শিবপুর ট্রামডিপো।
– ওহ্, সেম ডেস্টিনেশান!

ডেস্টিনেশান যে ঠিক হয়ে গেছিল ব্রেক মারার সময়তেই। কথায় আছে জন্ম মৃত্যু বিয়ে – তিন বিধাতা নিয়ে। প্রেমের জন্য কোনো অ্যালোকেটেড ভগবান নেই, যা খুশি করে বেড়াও, কেউ নেই ব্যাগরা দেওয়ার। কামদেব একটা ছোট্ট ডিপার্টমেন্ট দেখেন অবশ্য, কিন্তু কাজের হেব্বি চাপ, প্রেম রিলেটেড যাবতীয় কেস শুরু হতে না হতেই ফাইল গুলো এই ডিপার্টমেন্টে ঠেলে দেয়, কি জ্বালা। তবে মিষ্টি ফুটফুটে মুচমুচে কুচিমুচিমুশ প্রেম বলতে যা বোঝায়, তার খিদে সাত্যকির অনেকদিন থেকেই ছিল, তবে যতই তীর ছুঁড়ুক না কেন, বুলস আই ঠিক হচ্ছিল না।

ছোট্ট টিপ, হালকা লিপস্টিক, আর আগুন রঙা সালোয়ার কামিজ কম্বিনেশান হলে যামিনী শাড়ি আর কোথায় লাগে বস। চোখ কটা, হাইট মোটামুটি সাড়ে ৫ ফুটের মতো, উজ্জ্বল গৌড়বর্ণা, আর ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স? আমার বন্ধুর প্রেমিকা না হলে লিখেই দিতাম। হ্যাঁ একদম ঐ অনুপাতখানাই যেটা ভাবছেন! মিলি আমাদের অনেকেরই মনের মণিকোঠায় ছিল, কিন্তু শিকে ছিঁড়লো সাত্যকির। তবে মিলি “পাত্র চাই” কলামের ভাষায় প্রকৃত সুন্দরী হলেও আমাদের হিরোও কিন্তু “সঃ চাঃ উঃ মাঃ”, মানে “সব চাই উচ্চ মানের” আর কি।

ফোন নাম্বার জোগাড় করার দায়িত্ব পেল এই অধম। আমি আবার সরাসরি পাতে মাছ তুলে দেওয়ার থেকে মাছ ধরা শেখাতেই বেশি ভালোবাসি। খেটে খাও, কিছু করে দেখাও। বিশ্বম্ভর বাবুর কমার্স কোচিং-এ বুধবার সন্ধ্যে ৬ টার ব্যাচ, পুরো পাক্কা খবর দিতেই সায়েন্সের স্টুডেন্ট সাত্যকি সেন সটান গিয়ে ভর্তি হয়ে গেল কমার্স ক্লাসে। পুরো হয় এস্পার নয় ওস্পার!

বিশ্বম্ভর বাবু খুব রাগী মানুষ, ছেলেদের বসান বাঁদিকে, আর মেয়েরা সবাই ডানদিকে। উঠতি কপোল রা তাই সবাই চোখে চোখে কথা বলে, মুখে কিছু বলে না। তবে ধরা পড়লে মন নিয়ে খেলা টা বিশ্বম্ভর বাবুই করেন, সটান গার্জেন কল। ভর্তি হওয়ার ঠিক ২ দিনের মাথাতেই তাই কেস খেয়ে গেলেন আমাদের সাত্যকি বাবু। মিলি ঠুকে দিল কমপ্লেইন্ট, “স্যার, জানেন তো, খালি চেয়ে চেয়ে দেখে সারাদিন।”

– সাত্যকি, যা শুনলাম মিলির থেকে তা কি ঠিক?
– হ্যাঁ স্যার, একদম ঠিক।
– তোর সাহস তো কম না, কাল ডেকে আনবি বাবা কে।
– বাবা আসবে না স্যার।
– কেন?
– বাবা যে চলে গেছে অনেকদিন আগেই।

সাত্যকি আমাদের সবার প্রিয় অনেকটা হয়তো এই সেন্টু কারণেই। তখন ক্লাস সিক্স। স্কুল চলাকালীন হঠাৎ একদিন হেডস্যার এসে ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে চলে গেল সাত্যকি কে। ৭ দিন আর স্কুলে আসতে দেখিনি ওকে। তারপর যেদিন দেখলাম, সেদিন প্রথম বুঝতে শিখলাম দুঃখ কতোটা গভীর হলে কান্নাও শুকিয়ে যায়। ঐ বয়সে ছেলেটা একসাথে একইদিনে হারিয়ে ফেলল বাবা মা দুজনকেই।

আমাদের কয়েকজনের বন্ধুত্ব টা যেন হঠাৎ এক নতুন মাত্রা পেল। একটা ভরসার কাঁধ হয়ে পাশে থাকতে শুরু করলাম সাত্যকির, আর সে ব্যাটাও কিন্তু সব ভুলে সবদিক থেকেই বেশ তুখোড় তৈরি হতে থাকল। ক্লাসে ফার্স্ট না হলেও ধন্যিছেলের অধ্যবসায় নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ ছিল না। তাই সাত্যকি মিলির হবু হবু প্রেম ব্যাপারটাও আমরা বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে শুরু করলাম।

সরস্বতী পুজোর দিন ওর মাথায় ভূত চাপলো যে যেভাবেই হোক ওকে মিলির স্কুলে ঢুকতে হবে। ওদিকে মিলির স্কুলও অদ্ভূত, ছেলেদের ঢোকা বারণ, তবে কোলে ছেলে থাকলে ছাড় দেয়! মিলির বন্ধু মৌপিয়া কে দলে টানতে হল, তবে সাত্যকির ডাকে মেয়ে রা হেল্প করতে গিয়ে পুরোপুরি ঝুলে পড়ার রিস্ক টাই বেশি থাকে, তাই খুব ট্যাক্টফুলি ম্যানেজ করতে হল। ওকে ওর কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল আগেই। সকাল ১০ টা বাজতেই আমাদের ওস্তাদ পাঞ্জাবি পাজামার জেল্লা মেরে সাইকেলে স্টার্ট দিলেন, আমি হলাম ডবল ক্যারির সাথী।

বালিকা বিদ্যালয়ের মেনগেটে বেশ কড়া পাহারা, আর গেটের সামনে ছুকছুকে জনতার একটা ছোটখাটো সমাবেশ। তবে প্ল্যান কি মুতাবেক মেনগেট আমাদের টার্গেট নয়। ক্যাম্পাসের দক্ষিণদিকের ১০ ফুট উঁচু পাঁচিলের গা ঘেঁষে সাইকেল টা দাঁড় করালো সাত্যকি। আমার কাজ এখানে দাঁড়িয়ে পাহারা দেওয়া, আর বিপদের সিগনাল শুনলেই ফুল কভার অ্যাটাক। পাঁচিলের ওপারে মৌপিয়ার ডিউটি মিলি কে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে আসা। সাইকেলের ওপরে উঠে আমাদের জিমবাবু কাম মাসেলম্যান সাত্যকি পাঁচিল টপকে প্রবেশ করল ঘেরাটোপে।

৫-৭ মিনিট বাদে চিল্লিয়ে জিগালাম কেউ এলো কিনা। ও বলল, “না, কাউকে দেখতে পাচ্ছি না, আমি এগোচ্ছি মেন বিল্ডিং এর দিকে, ঝামেলা হলে সামলাস।” আবার চেঁচিয়ে ওকে আটকাতে গেলাম, কিন্তু এ পূর্বরাগের টান, থোড়াই থামে। আমিও প্রস্তুত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের জন্য, সিগনাল পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ব।

প্রাইমারি বিল্ডিং ক্রস করে সাত্যকি হনহন করে এগিয়ে চলল মেন বিল্ডিং এর দিকে। অগুন্তি শাড়ি পরিহিতা রমণীর মধ্যে ওর অবশ্য মিলি কে খুঁজে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু নাহ্, বাইরে কোথাও তো নেই। সাত্যকি ঢুকে পড়ল ক্লাসরুমের ভেতর যেখানে পুজোর আয়োজন চলছে। রাক্ষসকূলে প্রহ্লাদ কে দেখার মতো বিস্ময়ে হতবাক ততক্ষণে সমগ্র ছাত্রীকূল। এদিক ওদিক তাকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো সাত্যকি, সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত উঠে গেল দোতলায়, তারপর ছাদে, নাহ্ মিলির তো স্কুলেই থাকবার কথা আজ। ওদিকে মেনগেটের গার্ডদের কাছে খবর পৌঁছে গেল। আমি সিগনাল না পেয়ে ক্যাবলার মতো বাইকে বসে আছি আর সামনে দিয়ে কোনও সুন্দরী রমণী গেলেই কেত মেরে চুল টা আঁচড়ে নিচ্ছি, যদি বাইচান্স শিকে ছেঁড়ে।

সমস্ত ক্লাসরুমে তন্নতন্ন করে খুঁজেও মিলি কে না পেয়ে বিল্ডিং এর বাইরের মাঠে এসে দাঁড়িয়ে গগনভেদী চিল চিৎকার ছাড়ল সাত্যকি, “মিলিইইইইইই, কোথায় তুইইইইই?” এই বাজখাঁই হাঁক শুনেই আমার পিলে চমকে উঠল, কেস জন্ডিস। সাইকেল ওখানেই রেখে ছুটলাম মেনগেটের দিকে। দেখি জটলা আরও বেড়ে গেছে কিছু একটা গণ্ডগোলের আঁচ পেয়ে। বাইরে আশাহত ছেলেরা চেঁচাচ্ছে, “ওই যে ঢুকেছে একটা ভেতরে, আমাদেরও ঢুকতে দিতে হবে!”

ওদিকে মেন বিল্ডিং এর দোতলা থেকে ঘন্টা বাজিয়ে সমস্ত গার্ডদের অ্যালার্ট করে দিয়েছেন বালিকা বিদ্যালয়ের এক ম্যাডাম, কেল্লা তে অ্যাটাক! পাঁচ অ্যাঙ্গেল থেকে পাঁচজন দশাসই গার্ড তেড়ে আসছে ওকে ধরতে, আর সাত্যকি পাজামা গুটিয়ে কবাডি কবাডি খেলছে। জমে উঠেছে খেলা! আমিও বাইরে থেকে উৎসাহ দিচ্ছি, “ফাইট, সাত্যকি ফাইট!” গোটা ৫ মিনিটের দুরন্ত ড্রিবল শেষে দুম করে ক্যালানে কার্তিকের মতো দাঁড়িয়ে গেল সাত্যকি। পাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে চার জোড়া হাত ওর কলার ধরে, পাঞ্জাবি টেনে জাপটে ধরে হিঁচড়ে মেনগেটের দিকে আনতে লাগল।

গেটের কাছাকাছি আনতেই সকলে সমস্বরে একরাশ ঘৃণাভরে চিৎকার করে কিছু বলার আগেই গার্ডদের পেছন থেকে একটা মিহি কণ্ঠস্বর শোনা গেল, “বাহাদুর দা! ও বাহাদুর দা!”

থমকে দাঁড়ালো প্রহরীদের দল। যুবরাজের কিন্তু চোখ ঘুরছে। মাঠের অশ্বত্থ গাছের পাশ দিয়ে হাই হিল চটি পরে, পরনে সবুজ আর বাসন্তী রঙের শাড়ি আর কাঁধে ব্রাউন কালারের একটা ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে আসছে আমাদের রানী, দ্য মিলি চক্কোত্তি! আমার আশেপাশের ফ্রাস্টু ভিড়ের মধ্যে থেকে রব উঠল, “হুউউউউউউউউউউউউ”। কি লাগছে শালা আজ মিলি কে শাড়ি পরে, আমি নিজেই চোখ ফেরাতে পারছি না, হাওড়ার গর্ব!

গার্ডের সামনে এসে দাঁড়ালো মিলি। সাত্যকির দিকে একবার তাকিয়ে হাসি-তো-ফাসি মার্কা একটা স্মাইল দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে তাকালো গার্ডের দিকে।

– “ওকে ছেড়ে দাও বাহাদুর দা, আমার পিসতুতো ভাই হয়, একটা দরকারি খবর দেওয়ার জন্য আমাকে খুঁজছিল।”

সাত্যকির কান টা গরম হয়ে উঠল। গার্ডদের সাথে কথা বলে চলে যাওয়ার সময় পিছন ফিরে একবার তাকালো মিলি, সাত্যকির চোখাচুখি হতেই মুখ ঘুরিয়ে নিল।

||

– বিড়ি দে। কিরে? বিড়ি দে রে।
– এই নে ভাই, তুই ঠিক আছিস তো, লাগেনি তো কোথাও?
– ঢ্যামনা, বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলিস হতভাগা!
– আরে তুই তো বললি সিগনাল দিলে অ্যাটাক করতে, কিন্তু নিজেই অ্যাটাকড হয়ে গেলি।
– সবার সামনে এইভাবে অপমান করলো!
– শান্ত হ, তুই বেঁচে গেলি বে আজ।
– “ভাই” বানিয়ে দিলো!
– আরে ওটা ট্রিক মনে হয়।
– ট্রিকের ভাই হয়েছে শালা।

খেয়াল করিনি কখন মৌপিয়া এসে দাঁড়িয়েছে পাশে। ওকে দেখেই তো বকাঝকা করতে তেড়ে যায় সাত্যকি আর একটু হলেই, আমি সামলালাম। ঠান্ডা হতে আমি মৌপিয়া কে জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় ছিলিস তুই? ফোনেও পাওয়া গেল না।” কিছু না বলে আমার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর হঠাৎ আমার ডানহাত টা ধরে টেনে হাতের চেটো তে একটা চিরকুট দিয়ে ছুট্টে পালিয়ে গেল! দরদর করে ঘামতে শুরু করলাম। সাত্যকি এগিয়ে এসে নিচু হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল, “শালা, তলে তলে এতো!”

আমি ধীরে ধীরে চিরকুট টা খুললাম। ভেতরে লেখা,


সাত্যকি সেন,

তোর মতো লম্পট লাফাঙ্গা ছেলেকে ভাই বানাবো ভাবলি কি করে!!

কাল কোচিং এর পর মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডের পেছনে অপেক্ষা করিস, কথা আছে। আর হ্যাঁ, এবার ঐ লম্বু সাগরেদ টা কে সঙ্গে আনিস না।

ইতি,
মিলি

রাস্তার মাঝখানে চারিদিকে শাড়ির মিছিলের মধ্যেই আমাকে কাঁধে নিয়ে পাক্কা ১০ মিনিট খ্যামটা নাচল শুয়ার টা। তারপর কাঁধ থেকে নামিয়ে বলল, “সন্ধ্যেবেলা সোসাইটির বিরিয়ানি সাথে ব্রিজ ভিউ এর চিকেন রোল, আর স্টার্টারে চন্ডির বোমা, আমার ট্রিট।”

আমার শুধু মনে হল মৌপিয়া যেন কিছু বলতে চেয়েছিল আমায়, চুলটা ঠিক ছিল তো তখন!

||

হাড্ডি কে ছেড়ে দুই কাবাবের জমপেশ লীলাখেলা শুরু হল এবার। সাত্যকি মিলি জুটির নাম শোনেনি এমন ছেলে মেয়ে খুঁজে পাওয়া ভার। তবে আদর করে মিলি কে একটা স্পেশাল নামে ডাকে সাত্যকি, সেটা ওরা দুজন ছাড়া শুধু আমিই জানি, সেটা হল “সনপাঁপড়ি”, নামকরণের কারণ আমায় শুধাবেন না প্লিজ। কোচিং এর পর সাত্যকি সাইকেলে করে লিফ্ট দিয়ে যায় ওকে, তবে মিলির বাড়ির আগের রাস্তা অবধি, আর রুটেও মোটামুটি অন্ধকার গলি ঘুঁজিই পছন্দ ওদের। আমি খুব খুশি সাত্যকির জন্য, আর বুজুম ফেরেন্ড হওয়ার সুবাদে সবকিছুই ও শেয়ার করে আমার সাথে, মানে অভিজ্ঞতা গুলো আর কি।

ওইসময় ভিক্টোরিয়ার লেকের ধারে গাছের নিচে বসে ছাতার তলায় প্রেমিকা কে চুমু না খেলে অপরাধ বলে গণ্য করা হত। একদিন আমাকে এসে জিজ্ঞেস করল সাত্যকি,

– আচ্ছা, কোনদিন কাউকে ফ্রেঞ্চ কিস করেছিস?
– হ্যাঁ, ড্রিউ ব্যারিমোর কে করেছিলাম একবার, হলিউডের প্রীতি জিন্টা। ছ্যাবলামো হচ্ছে!
– ধোর, মুভি তে তো তাহলে দেখে থাকবি।
– তোর দাবি কি বল তো? প্রথম চুমু আলতো করে টুকুস, দেখবি মাথা দিয়ে ৭ টা প্রজাপতি উড়ে যাবে, পিট্যুইটারি থেকে ফিলগুড হরমোন টস টস করে ক্ষরণ হবে, আরও অনেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গে পরিবর্তন আসবে। ভারতীয় স্টাইলে শুরু কর আগে, ফ্রেঞ্চ এর সাজেশান পরে দিয়ে দেব।
– ভাই, টুকুস করেই খেয়েছিলাম, থপাস করে চড়িয়ে দিল। তাই ইম্প্রেস করার জন্য ভাবছি ফ্রেঞ্চ স্টাইল টাই নেব।
– বুঝে গেছি, আমার মতে তুই আবার ফ্লাইং কিসে নেমে আয়।

||

মিলির মতো মেয়ে এক পিস ই হয়। যেমন মিশুকে, তেমন পড়াশুনায়, আবার তেমনই নাচে গানেও পারদর্শী। সাত্যকির গার্লফ্রেন্ড হওয়ার পাশাপাশি কিছুদিনের মধ্যেই আমরাও সবাই মিলির ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম। স্কুলের গন্ডি কাটিয়ে এবার কলেজের পালা। মিলি আর সাত্যকির কলেজ আলাদা হলেও এসপ্ল্যানেডের মোড় ওদের মিলনস্থল। সেখান থেকে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে কখনো গড়ের মাঠ, কখনো ইলিয়ট পার্ক, বা কখনো নীরবে নিভৃতে ভিক্টোরিয়ার বেঞ্চ, আবার কখনো বা সেন্ট পলস চার্চ। মিলির মধ্যে নিজের ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া আপনজনের ভালোবাসা আবার খুঁজে পেল সাত্যকি। ছেলেটা ভালোবাসতে জানত মনপ্রাণ উজাড় করে।

– আচ্ছা, তুই তো সব জানিস, প্রথম দিনই তোকে সব বলেছিলাম, তারপরেও তুই এতো নাছোড়বান্দা কেন বল তো।
– শোন মিলি, সব দোষ ওই বাস ড্রাইভারের, ও সেদিন ব্রেক মেরেছিল বলেই না এতকিছু।
– কথা ঘোরাস না সাত্যকি, জানিস তো আমার মাথার পোকা গুলো নড়ে উঠলেই…
– তুই রেগে যাস, আর রাগলে না তোকে পুরো…
– উফ্, তোর সবকিছু তে ইয়ার্কি!

সন্ধ্যের মিঠে আলোয় মিলির কোলে শুয়ে ওর মুখটা দেখতে লাগল সাত্যকি, আজ যেন মায়াবী লাগছে ওকে।

– তোকে না পুরো জিনাত আমানের মতো দেখতে।
– ইশ, আর নায়িকা পেলি না!
– ওয়ে, কোনও কথা নয় জিনাত কে নিয়ে, আমার বাবার ফেভারিট ছিল।
– তুই বাবা মা কে খুব মিস করিস না রে?
– একদম না, ওরা আমাকে মিস করেছিল তখন?
– ওরম বলিস না। আমি চাই তোকে খুব নিজের করে ভালোবাসতে, কিন্তু…
– কিন্তু মাঝে নাকটা চলে আসে খালি…

মিলিকে কাছে টেনে নিল সাত্যকি। হিসাব নিকাশ স্মৃতি বেদনা দূরে সরিয়ে রেখে ঘন ঘন নিঃশ্বাসের ওঠানামা শুরু হল। খেলতে থাকল দুজোড়া ঠোঁট একে অপরের সাথে। শক্ত করে চেপে ধরল মিলি সাত্যকির হাতের মুঠো টা।

||

কলেজে প্রথম তিনটে বছর যে কোথা দিয়ে কেটে গেল টের ই পেলাম না, ফাইনাল ইয়ারে বেড়ে গেল চাপ, একটা চাকরি বাগাতেই হবে। সাত্যকি আর আমার কলেজ ছিল আলাদা। তবে দুজনেরই ইলেক্ট্রনিক্স হওয়ায় নোট আদান প্রদান করতে সুবিধাই হত। ওদিকে মিলির স্ট্রিম ছিল অন্য, তবে মেয়েটা মেরিটোরিয়াস হওয়ায় ওকে নিয়ে খুব একটা চিন্তা ছিল না। আর ওদের প্রেমকাহিনীও অবাধ গতিতে এগোচ্ছিল। সাত্যকি মোটামুটি একটা মাসিক ১৫০০০ টাকার চাকরি ম্যানেজ করতে পারলেই আগামী দু বছরের মধ্যে ওদের লাইসেন্স পেতে মানে মালাবদল করে নিতেও আর কোনও চাপ নেই। দুজনের বাড়ির লোকজনও বেশ সাপোর্টিভ, রাজযোটকের ভাগ্য নিয়ে জন্মেছিল শালা দুজনে।

ফাইনাল সেমিস্টার এর আগে একমাসের স্টাডি লিভে আমি চলে গেলাম বাঁকুড়ায় আমার দেশের বাড়ি। নিরিবিলিতে পড়াশুনা করার জন্য আদর্শ জায়গা এটা। পরীক্ষার ঠিক তিনদিন আগে ফিরব বলে ঠিক করলাম।

তবে যতই এক মাস হাতে সময় থাকুক না কেন, স্টেজে মেকাপ দেওয়ার মজাটাই আলাদা। তাই ঠিক শেষ সপ্তাহে নাওয়াখাওয়া ভুলে মেতে রইলাম বই আর নোটস এর পাতায় পাতায়। এমন সময় হঠাৎ মৌপিয়ার ফোন, নাহ্ এই মেয়ের সাথে আমার কোনও সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি এর মধ্যে, আর আমার প্রেমকাহিনী অন্য কোনদিন শোনাব। যাই হোক, ফোন ধরতেই বলল, “তুই শিগগিরি ফিরে আয়, সব শেষ,” আর বলেই ফোন রেখে দিল। রিং ব্যাক করলাম ৫ বার, ধরল না। সাত্যকি কে ট্রাই করলাম অনেকবার, মিলি কেও করলাম, কেউই ফোন ধরল না। বেশ চিন্তায় পড়া গেল। বাড়িতে খবর নিলাম সবাই ঠিক আছে। অগত্যা ট্রেন ধরে বেরিয়ে পড়লাম, একটা প্রিমোনিশান আসছিল মনে যে খুব খারাপ কোনো খবর হয়তো অপেক্ষা করে আছে আমার জন্য।

বাড়ি ঢুকলাম রাত ৮ টা নাগাদ। বাড়ির লোকেরা কিছু জানে না দেখলাম। সবার ফোনে আবার ট্রাই করলাম, কিন্তু নো রেসপন্স। সাইকেল নিয়ে চলে গেলাম সাত্যকির বাড়ি, তালা বন্ধ। কি মনে হল জানি না, চলে গেলাম মিলির বাড়ি, কড়া নাড়লাম বেল বাজালাম, কেউ খুলল না। বাড়ি ফিরে এলাম আর কোনও উপায় না দেখে।

ঠিক রাত ১১ টা নাগাদ বেল বাজল। দরজা খুলতেই দেখি সাত্যকি দাঁড়িয়ে। দেখেই জিজ্ঞেস করলাম,

– কি হল, কোথায় ছিলিস তুই, ফোন করলেও ধরিস না কেন? সব ঠিক আছে তো?

খুব ক্লান্ত দৃষ্টি তে তাকিয়ে সাত্যকি বলল, “একটু জল খাওয়াবি?”

ভেতরে এসে বসল, জল খেল। তারপর আমার হাত ধরে বলল,

“ভাই, মিলি কে পুড়িয়ে এলাম, ইলেকট্রিক চুল্লীর মধ্যে একা রেখে দিয়ে চলে এলাম ওকে।”

|| @ || @ ||
২০১৭ সালের জুলাই মাস। মাঝে কেটে গেছে গোটা ১০ খানা বছর। কিন্তু আজও ২০০৭ সালের সেইদিন টার কথা মনে পড়লেই বুকের কাছে যেন কিছু একটা দলা পাকিয়ে ওঠে। মিলির মাথার পোকাগুলো সেদিন সকালেই নড়ে উঠেছিলো। হঠাৎই অসহ্য মাথা যন্ত্রণা শুরু হল ওর, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঘাড়ও শক্ত হয়ে যেতে থাকল, হাসপাতালে ভর্তি করতে হল ওকে।

একটা অদ্ভুত রোগ নিঃশব্দে বাসা বেঁধেছিল মিলির শরীরে। মস্তিস্কের একটা জায়গায় জট পাকিয়ে ছিল অনেকগুলো ছোট ছোট ধমনী। মেডিসিনের গাল ভরা নামে একে অ্যানিউরিজম বলে। এই অ্যানিউরিজম টাই সেদিন ফেটে গেছিল হঠাৎ। সাথে সাথে রক্তের ধারা ছড়িয়ে পড়েছিল মস্তিষ্কের চারপাশে। যখন সিটিস্ক্যান করা হল ততক্ষনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। জমাট বাঁধা রক্ত টুঁটি টিপে ধরেছে মস্তিষ্কের। ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলি কোমাতে চলে গেল। বিকেল পাঁচটায় সব শেষ।

মিলি জানত ওর পুষে রাখা অ্যানিউরিজমটার কথা। অনেক মানুষই গোটাজীবন কাটিয়ে দেয় এইধরণের অ্যানিউরিজম নিয়ে, কিছুই হয় না। মিলিও তেমন টা ভেবেছিল নিশ্চয়। খুব স্বার্থপরের মতোই হয়তো ভালোবেসেছিল সাত্যকিকে, তবে ওর এই রোগের কথা কিন্তু নিজের ভালোবাসার মানুষকে প্রথমদিনই জানিয়েছিল। আমাদের জীবন বড়োই অদ্ভুত, হিসাব নিকাশ কখনোই মেলে না, এবং সেটা আবার মিলল না দশ বছর পর এই ২০১৭ সালে দাঁড়িয়ে।

জুন মাসের শেষে আমাকে ফিরতে হয়েছিল একবার দেশে, তবে কোম্পানির আদেশে আবার জুলাই এর শেষের দিকে চলে এলাম লন্ডনে। সবে ইমিগ্রেশানের বেড়া টপকে এসে দাঁড়িয়েছি হিথরোর ব্যাগেজ ক্লেম লাউঞ্জে। হঠাৎ দেখি একটু দুরেই আর একটা কাউন্টার থেকে ব্যাগেজ কালেক্ট করতে ব্যস্ত আমার বন্ধু সাত্যকি সেন। চেহারা একটু ভাঙলেও গঠন এখনও সেই মাসলম্যান দের মতোই, আর দেখতে যে খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে তাও বলা যায় না, একের পর এক আপনজন কে হারিয়ে কোথায় যেন নিজেই হারিয়ে গিয়েছিল ছেলে টা। মাঝের অনেকগুলো বছর আর কোনও যোগাযোগ করে উঠতে পারিনি দুজনের কেউই, তাই হঠাৎ ওকে দেখতে পেয়ে কেমন একটা ভেবলে গেলাম আমি, চেয়ে রইলাম ওর দিকে যাতে ও দেখতে পায়। তবে ও একা নয়, দেখলাম সমানে আগলে রাখছে ওর মিসেস আর সাথে বছর তিন চারেকের ফুটফুটে মেয়ে কে। আমার কেমন একটা ভালোলাগা আর মন্দলাগা টাইপের মেশানো ফিলিং হল এটা দেখে। আজ হয়তো ওর পাশে মিলি কে দেখতে পেতাম। তবু মনে হল, যাক, জীবন তো এগিয়ে গেছে ওর নিজের নিয়মেই।

হঠাৎ আমাকে দেখতে পেয়েই হাত নাড়তে শুরু করল সাত্যকি। হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে আসতে লাগল দাঁত কেলাতে কেলাতে। এসেই পেটে একটা হালকা ঘুঁষি মেরে বলল,

– কোথায় ছিলে ওস্তাদ, তুমি কোথায় ছিলে চাঁদু এতদিন? শেষে লন্ডনে দেখা হল তোর সাথে?
– আমি তো এদিকেই ছিলাম, তবে দেশে গিয়েছিলাম কিছুদিনের জন্য। তুই কেমন আছিস বল আগে?
– চলে যাচ্ছে বস, আমার চাকরি টাই এমন, এই দেশ সেই দেশ ঘুরে বেড়াতে হয় মাঝে মাঝেই।
– বাহ্, খুব ভালো লাগল রে তোকে দেখে। আরও ভালো লাগল এখন বিয়ে করে নিয়েছিস দেখে। বৌদি আর প্রিন্সেসের সাথে আলাপ করা!
– বৌদি! আরে, উনি যে আমারও বৌদি হন রে। আমার কলিগের বউ। ওনারা একা আসতে ভয় পাচ্ছিলেন, তাই আমার সাথেই এসেছেন। হোটেলে পৌঁছে দেওয়া অবধি আমার দায়িত্ব।
– ওহ্, সরি সরি। কিন্তু তুই? তুই বিয়ে করিসনি?
– আমি! করব ভেবেছিলাম তো আজ থেকে ১০ বছর আগেই, কিন্তু সুযোগ দিলো কই?

 

 

লেখক ~ অরিজিৎ গাঙ্গুলি


প্রচ্ছদ ~ অরিজিৎ গাঙ্গুলি

One thought on “একখান পেমের গপ্পো

Leave a Reply