নহি যন্ত্র আমি প্রাণী, শোনো IT-র এ কাহানী

Anirban & Arijit, Humor, Satire, Series, Technology, আই টি ভাইটি, বাংলা

এর আগে “অফিসই মোদের বাড়ি, মোরা আই টি কর্মচারী” লেখার পর আপনারা অ্যাইসান কেস খাওয়ালেন, যে তার পরিণতিতে আমাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হল। সুদূর বিলেতে এসে ঘাঁটি তো গড়লাম, কিন্তু প্রত্যহ সেই যন্তর মন্তর ঘর, মানে আই টি অফিসে এসে দৈনন্দিন কার্যকলাপের মধ্যে থেকে রস নিংড়ে নেওয়ার ছ্যাবলা মানসিকতা কে কিছুতেই বাগে আনতে পারলাম না। জানি না এই স্বভাবসিদ্ধ ছ্যাবলামো টা আমার লেখা কোনও ভূতের গল্পের জনৈক ভূতের থেকে প্রাপ্ত বর কিনা!
পাতি বাংলায় আমাদের একটা নাম আছে জানেন তো? আই টি ভাইটি বা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার না বলে আমাদের অনেকে ভালোবেসে “সফো” বলে ডাকেন, খুব মিষ্টি একটা নাম না! ভুলেও এই মিষ্টতার ফাঁদে পা দেবেন না, এরা কেউই আর মানুষ নেই, সবাই এক একটা যন্ত্রে পরিণত। এরা বাড়ি তে ডিউটি সেরে অফিসে ফেরে রোজ। এরা জানে না যে গোধূলি শুধু মেয়েদের নাম নয়। এরা সারাজীবন চেয়ারে বসে কাটিয়ে দিতে পারে। তা এহেন সফো সম্প্রদায়ের আর্ত চিৎকারের কথা মাথায় রেখেই মনে হয় রায় বাবু বলে গিয়েছিলেন, “নহি যন্ত্র, নহি যন্ত্র, আমি প্রাণী”। আমার আজকের টপিক এই বিচিত্র প্রজাতির ১০ প্রকার প্রাণীদের নিয়ে আপনাদের অবগত করা। আমি কোন প্রকারে অবস্থান করি, তা নয় আমি নিজেই শেষে বলে দেবো, বাকি কাজ আপনাদের।
শুরু করলাম…

১. মৌমাছি:
এরা সব কাজ নিজের মনে বিড়বিড় করে বলে বলে করে। পাশের কিউবিকল থেকে গুনগুন সুরে মন্ত্রপাঠ ভেসে এলেই বুঝবেন এই প্রজাতির সন্ধান পেয়ে গেছেন।
“অ্যা, কপি করে নিলাম… রইল তোলা… উইন্ডো টা কোথায় গেল…. কই রে কই রে…. অ্যা এই এলাম স্ক্রিনে….. এই হলো গিয়ে পেস্ট… গুড… এইবার সেভ মারলাম….. হ না শালা সেভ হ…. হুমম্… হতচ্ছাড়া আধঘন্টা ধরে শুধু সেভই করছিস!….. হয়েছে…. লিঙ্ক টা কোথায় পাই কোথায় পাই… এই যে লিঙ্ক… আয় বাবু তাড়াতাড়ি আয়… মেশিনটার পেছনে তেল দিতে হবে শালা…. আয় আয়… ওরে আয় রে…. এসেছে… এই তুললাম…. মেল মেল… মেল টা কই গেল…. যাহ্!!! ……………… ওয়ে তুই প্লাগ টা খুলে দিলি??!!! আমার মেশিনের ছিল তো ওটা!!”
এরা ছোটবেলায় জোরে জোরে রিডিং পড়ে সব পড়া মুখস্থ করতেন। স্বভাব যায় না মলে! এরা নিজেরাই নিজেদের এনটারটেন করতে ভালোবাসেন। পাশে বসলে আপনার এই গুঞ্জনের ঠেলায় ঘুম আসতে বাধ্য।

২. বিপ্লবী:
কলে জল আসছে না, বা পাড়ায় কুকুরের উপদ্রব, বা সাইকেলে হাওয়া নেই, বা বিটকয়েন আবার হোঁচট খেলো, বা রাত থেকে কোমরে ব্যথা, সবই “সিপিএম” এর চক্রান্ত। হাজির করলাম দ্বিতীয় প্রজাতিকে, “যত দোষ নন্দ ঘোষ” স্টাইলে এরা মনে করেন অফিসে দৈনন্দিন ঘটে চলা যেকোন অপ্রিয় ঘটনার জন্য দায়ী শুধুমাত্র একজনই, “ম্যানেজার”।
রেটিং, অ্যাপ্রেজাল এইসব তো ছেড়েই দিলাম, ওগুলোর জন্য তো এই “ম্যানেজার” গোষ্ঠী এমনিতেই কোণঠাসা, চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য না রাখতে পারার আদি অকৃত্রিম দোষে দুষ্ট এনারা আগে থেকেই। কিন্তু তা বলে…
– আজ অনসাইট কাজ দিয়েছে? ম্যানেজার কে ফরওয়ার্ড করে চ পালা। ওর পোজেক্ট, ওই বুঝুক।
– শনিবার আসতে হবে? ম্যানেজার টা কে বল আগে আসতে।
– পুজোয় ছুটি নেই! কল লাগা ম্যানেজারকে এক্ষুনি।
– তোকে কাজে আরও মন দিতে বলেছে? আজ ম্যানেজারের ১০৮।
– অপর্ণা কে রিলিজ করে দেবে বলছে? দাঁড়া ম্যানেজারের অদ্যই শেষ রজনী।
– কোড ফেটেছে তো আমার কি! ম্যানেজারের ব্যাটা কে দেখতে বল।
– বাস পাচ্ছিস না ফেরবার? ম্যানেজার কে বল না।
– এস্কালেট করেছে আমাদের নামে! পাত্তা দিস না, ম্যানেজার বুঝবে।
ম্যানেজার এরপর সমস্ত কিছুকে “সাজানো ঘটনা” বলে আখ্যা দিলেও বিপ্লব যুগে যুগে চলছে চলবে। ম্যানেজার মানেই নন্দ ঘোষ, তাই যারা যারা এই পদে অবস্থান করছেন, তারা আশা করি টের পান এই আন্দোলনের।

৩. প্রশ্নবিচিত্রা:
– তাহলে জেনে রাখো, ডেটাবেসের সাইজ যদি না বাড়ানো হয়, তাহলে পরশুদিনের মধ্যেই সেটা ভরে যাবে, আর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এক্ষুনি ক্লায়েন্ট কে মেইল পাঠাও সাইজ বাড়ানোর….
– আহ্ আই হ্যাব এ কোচ্চেন!!
– বলে ফেলো।
– আচ্ছা, আমাদের ডেটাবেসে কিন্তু আর বেশি জায়গা নেই। সাইজ বাড়াতে হবে। ক্লায়েন্ট কে বলবো?
সাতকান্ড রামায়ণ যখন আপনি পড়ছিলেন, তখন এই বিশেষ প্রজাতির প্রাণি কিন্তু তা না শুনে আপনার কথা কেটে “সীতা কার মাসি” পোশ্চেন টা করার জন্য আকুপাকু করছিলেন। তাই, উনি ভ্রূক্ষেপই করেন না মাঝে বক্তা কি বলে ফেলেছেন, কারণ প্রশ্ন করাটাই ইম্পর্টেন্ট!

৪. অশরীরী:
না না, এরা আপনার কোনও ক্ষতি করবে না, কারণ এরা কখনোই কারুর সাতে পাঁচে থাকেন না। এরা কখন অফিস আসে, কোথায় ঘাপটি মেরে বসে থাকে, আর কখন বেরিয়ে যায়, তা কেউ জানে না, জানতেও পারে না। প্রোজেক্টের সবার নামের লিস্টি ধরে যখন লাঞ্চের জন্য ভেজ না নন-ভেজ জিজ্ঞেস করা হয় জনে জনে, তখন এরা দেখা দেন, বা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু লাঞ্চের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা চাঁদা তোলার সময় এনারা সিটে থাকেন না, বা থাকলেও একটাই ২০০০ টাকার নোট বের করে বলেন ভাঙিয়ে দিতে। এরা কি কাজ করেন, বা আদৌ কিছু করেন কিনা কেউ টের পায় না, কিন্তু সামনে গেলেই দেখা যায় কম্পিউটার স্ক্রিনে কোনও খোলা এক্সেলের দিকে একমনে তাকিয়ে। আপনি ৪-৫ ঘন্টা বাদে গিয়ে দেখলেও খেয়াল করবেন যে সেই একই পাতা খোলা আছে। এরা একই প্রোজেক্টে ৩ থেকে ৪ বছর অবধিও হেসেখেলে কাটিয়ে দিতে পারেন, কেউ খোঁজ রাখে না।

৫. ফেভিকল:
এই প্রজাতি কিন্তু একাধারে মেধাবী, পরিশ্রমী ও বিচক্ষণ। আর হ্যাঁ অফিসই এদের বাড়ি। রাত ১০ টার সময় আপনি অফিস থেকে বেরোতে গিয়ে দেখবেন এনারা তখনও কাজ করছেন। আবার পরেরদিন সকাল ৯ টায় অফিস এসে দেখুন, ঠিক একইভাবে সে বসে, শুধু জামা টা আলাদা। শনি বা রবি দুর্ভাগ্যবশত যদি অফিসে আসতে হয় আপনাকে, তাহলে আপনার লাঞ্চ পার্টনার পেতে অসুবিধা হবে না। পুজো, রাজনৈতিক স্ট্রাইক, ক্রিস্টমাস, মে ডে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যাই চলুক না কেন অফিসের বাইরে, আপনি এদের সবসময় অফিসেই পাবেন।
মজার ব্যাপার হলো রেটিং বেরোনোর সময় এদের কাজের বহর আরও বেড়ে যায়। কিন্তু তারপর যখন এরা রেটিঙে “ক” না পেয়ে “খ” বা “গ” পান, তখন মুহূর্তের জন্য একটু ভেঙে পড়লেও পরক্ষণেই মরণপণ শপথ নিয়ে নেন যে এর থেকেও বেশি কাজ করে ম্যানেজারকে দেখিয়ে দিতে হবে সামনের বছর। এইভাবে বছর ঘুরতে থাকে, কিন্তু অফিস আর এই প্রাণীর মধ্যে ইয়ে ফেভিকল কা মজবুত জোর হ্যায়, টুটতা নেহি!

৬. চাতক:
এই প্রজাতি তে আমি শুধু পুংলিঙ্গ কেই দেখেছি, তবে স্ত্রীলিঙ্গের দিক থেকেও যদি এমন কেউ দেখে থাকেন, তাহলে জানাবেন। এদের কথাবার্তা শুনুন, বুঝতে পারবেন।
– দাদা, আমাদের টীমে দুজন নতুন জয়েন করলো তো আজ দেখলাম।
– হ্যাঁ, সঞ্জয় আর দীপাঞ্জন, বাচ্চা ছেলে, একটু গাইড করে দিস তো। আরো লোকজন লাগবে।
– সে করে দেবোখন, টীম টা তো বাড়ছে ভালোই, এর মধ্যেই আমরা ১৭ জন হয়ে গেলাম। কিন্তু দাদা, একটু যদি অভয় দাও তো বলি।
– কি বলবি, বল না?
– তুমি তো ম্যানেজার, তোমার হাতেই সব। এই ১৭ জন পুরুষ একই কাজ দিনের পর দিন করি আমরা, আমাদের তো একটু মোটিভেশন দরকার।
– কি চাই তোদের বল না।
– না মানে, ইয়ে মানে যদি স্ত্রী পুরুষ রেশিও টা একটু ব্যালেন্স করা যেত আর কি। এতে কাজেও মন বসতো, আর টীম টাও একসূত্রে বাঁধা থাকতো আর কি।
তো এই অভাগা প্রজাতির ভাগ্যে সবসময় সমগোত্রীয় মানুষের টীমই লেখা থাকে। কিন্তু এনারা হাল ছাড়েন না, বছরের পর বছর কেটে যায়, কতদিন বৃষ্টি পড়ে না, কত রাত এই বিষণ্ণতা।

৭. চতুর:
খুব চালাক প্রজাতির প্রাণী। এরা চালাকির দ্বারাই মহৎ কার্য সম্পন্ন করতে পারেন। সেই কার্য শিখে নিজে করার বদলে এনারা দক্ষ শ্রমিক কে তৈল লেপনের মাধ্যমে পুরো কাজ টি করিয়ে নেন। দেখুন কিভাবে, হার চিজ কা ডেমো দেনা পারতা হ্যায়!
– শুধাসত্ত্ব দা, ব্যস্ত আছো?
– না না বোস না, করে ফেললি টাস্ক টা? এত ক্যুইক!
– না না, ওটা নিয়েই কয়েকটা প্রশ্ন ছিল।
– ওহ্, বল না।
– আচ্ছা, একটু স্টেপ বাই স্টেপ বলে দেবে কিভাবে করতে হবে? অনেকদিন আগে করেছি, যদি কিছু ভুল হয়, তাই একটু দেখিয়ে দাও প্লিজ।
– শোন তাহলে…
ব্যস, গোটা দশেক স্টেপ শোনার সময় এই প্রাণী খাতায় নোট নিল, মোবাইল বার করে গোটা কতক ছবি তুলল, আর এই ট্রেনিং এর ফাঁকেই ট্রেনার কে দিয়ে টাস্কের অংশবিশেষ করিয়ে সেভ করে নিল।
– একদম ক্লিয়ার দাদা, থ্যাংক ইউ, করে নিচ্ছি।
ঠিক ১৫ মিনিট বাদে।
– দাদা, আর একবার ডিস্টার্ব করছি। স্টেপ ওয়ান ডান। কিন্তু স্টেপ টু তে একটা প্রশ্ন ছিল। একবার খুলবে তোমার মেশিনে প্লিজ।
আপনি যদি ট্রেনারের জায়গায় থাকেন, তাহলে এইরকম খানকতক অ্যাটাকের পর “ধুর বালমুরালি” বলে নিজেই বাকি টা শেষ করে ফেলবেন, আর আপনার পেছনেই মুচকি হেসে সিটে ফিরে যাবেন সেই চতুর ভদ্রলোক (বা ভদ্রমহিলা)।

৮. গজনী:
আমাদের অফিসে মাঝে মধ্যেই ক্লিন ডেস্ক পলিসির মেইল আসে এইচ আর এর থেকে। যার ডেস্ক সবচেয়ে বেশি পরিস্কার, তাকে পুরস্কারও দেওয়া হয় (সারাবছর তিরস্কারের মধ্যে যা পাওয়া যায় আর কি)। তবে গজনী প্রজাতির প্রাণীদের ডেস্কে গেলে বুঝবেন শুধু উনি নিজের গায়ে লেখা টা বাকি রেখেছেন।
কম্পিউটার স্ক্রিনের পেছনের সমস্ত দেওয়াল জুড়ে পিপীলিকার ন্যায় হায়রোগ্লিফ ভাষায় অবোধ্য জিনিসপত্র লেখা। তার মধ্যে টীমের সবার নাম, ফোন নাম্বার, জন্মদিন, অ্যানিভার্সারি, সাপ্তাহিক মেন্টেনেন্সের ডেট, ক্লায়েন্ট কলের যাবতীয় নোটস, ক্যাবের নাম্বার, ইউজার আইডি থেকে শুরু করে ছোট ছোট শিল্পকলাও স্থান পায়। উল্টোদিকের ডেস্কের কেউ সেই দেওয়ালের মাথায় ভুলবশত হাত রেখে উঠে দাঁড়ালে “হা রে রে রে” করে ওঠেন এই প্রাণী, “মুছে গেলে তোকে দিয়ে লেখাবো মনে থাকে যেন”। এরা খাতা বা নোটবুক ব্যবহার করেন না। শুধু দেওয়ালই নয়, এদের ডেস্কে কিবোর্ড আর মাউস ঘোরাফেরা করার জায়গা বাদে বাকিটাও স্কেচপেনের প্রকোপে পুরো আইনস্টাইনের বংশধরের কর্মক্ষেত্রের চেহারা নেয়। এদের কোনও প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেই বলেন, “দাঁড়া, চল আমার ডেস্কে, ওখানে লেখা থাকতে পারে!”

৯. পেটুক:
এনারা অদ্ভুত জীব, সবসময় কিছু না কিছু খেতে ভালোবাসেন, মুখ চলতেই থাকে। খিদে পেলে বিস্কুট খান, ঘুম পেলে সিগারেট খান, সুযোগ পেলে কেস খান, আর তার ফলস্বরূপ গালি খান। কিছু একটা খাওয়া চাই। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহের মধ্যেও এদের অফিসের গেটের বাইরে পাবেন মুখে বিড়িসমেত। আপনার খিদে পেলে চলে যান এদের ডেস্কে, কিছু না কিছু স্ন্যাক্স পেয়েই যাবেন যেকোন সময়ে। মাঝরাতে রেড মারুন, দেখবেন আধখাওয়া বাপুজি কেক বা প্রজাপতি বিস্কুটের দুটো ডানা পড়ে আছে কিবোর্ডের পাশে ঠোঙায়। চিন্তা করবেন না, সব ফ্রেশ মাল, কারণ এরা খাওয়া থামান না কখনোই। মাঝে মাঝে এদের ম্যানেজারের ডেস্কের সামনেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবেন, হাতে বারবন বিস্কুট নিয়ে মুখে দিয়ে একমনে দাঁড়িয়ে কেস খাচ্ছেন। খাওয়ার জন্যই তো বাঁচা, এদের দেখলেই বোঝা যায়।

১০. শার্লক:
এটা খুব কমোন প্রাণী। আখছার দেখতে পাওয়া যায় আই টি তে। ধরুন আপনার ডেটা লোড হতে সময় লাগছে, ১ জিবি ডেটা আপলোড হচ্ছে ২ ঘন্টায়। ওদিকে ক্লায়েন্টের ব্যাটন শুরু, তাড়াতাড়ি ২০ জিবি ডেটা পাঠাতে হবে ডেটাবেসে। ঠিক এহেন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে হাজির হন মিস্টার শার্লক। প্রথমে সিটের পেছনে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করেন ব্যাপারখানা, তারপর ঝুঁকে স্ক্রিনের দিকে দেখেন, ২ মিনিট তাকিয়ে থাকার পর পাশ থেকে ভুক্তভোগী বলে ওঠেন “এটা কি দেখছ মন দিয়ে, সবার জন্মদিনের এক্সেল তো!” তখন থতমত খেয়ে এই প্রাণী বিজ্ঞ মুখে বলেন, “আমি দেখিনি কিছু, ভাবছিলাম, দাঁড়া মুখ বন্ধ রাখ তোরা”।
এবার কিছুক্ষন হুমম্ হুমম্ আওয়াজ বের করার পর ডিডাকশান থিয়োরির পশ্চাৎমর্দন করে শেষে উনি চেয়ার টেনে বসেন আর সবাই কে কাছে ডেকে নেন।
– একটু মাথা খাটাস না রে তোরা, কি আর বলব বল! আগে বলিসনি কেন তোরা যে ক্লায়েন্ট নেটওয়ার্কে ডেটা লোড হতে এত সময় লাগছে?
– না মানে দাদা আগে তো ঠিকঠাক হচ্ছিল, আজ সকাল থেকেই….
– শোন, মুখ বন্ধ রাখ। আমি তো ওটার থেকেই ধরলাম। চোখ কান খোলা রাখবি সবসময়। এটা হার্ডওয়্যার প্রবলেম। তোর মেশিনের পেছনে আটকানো নেটওয়ার্ক কেবিল টা গেছে। ওই তার দিয়ে ডেটা পাস করছে না। টিকিট রেজ করছি দাঁড়া, কেবিল টা চেঞ্জ করতে হবে।
এই বলে তিনি দৃঢ় পায়ে চেয়ার ছেড়ে প্রস্থান করেন। ভুক্তভোগীর টীম ঠিক ৫ মিনিট একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন ঘটনার আকস্মিকতা কে হৃদয়ঙ্গম করতে।
||

তা এই ছিল “সফো” প্রজাতির ১০ প্রকার প্রাণীদের কথা। শুধু আই টি বলেই নয়, মোটামুটি কর্পোরেট দুনিয়ার সব জায়গা তেই এদের পাবেন। পড়তে পড়তেই মনে হয় আপনার চোখে ভেসে উঠেছে সেই লোকগুলোর মুখ যাদের আপনি আইডেন্টিফাই করতে পেরেছেন, হয়তো কিছু কেসে নিজেকেও আয়নায় দেখে ফেলেছেন, ক্ষমা চাইছি তার জন্য। আর হ্যাঁ বলেছিলাম না লেখার শেষে জানাবো যে আমি কোন ক্যাটেগরির লোক। ইয়ে মানে, বলছিলাম কি, “আমি তোমাদেরই লোক”।
খিক খিক!
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
লেখক ~ অরিজিৎ গাঙ্গুলি

ছবি- indianexpress.com

অলংকরণ- আনাড়ি মাইন্ডস

One thought on “নহি যন্ত্র আমি প্রাণী, শোনো IT-র এ কাহানী

Leave a Reply