শান্ত হয়ে বোস্ বাবা

Humor, বাংলা
বোস কোম্পানি খুব ফলাও করে লেখে নয়েজ ক্যানসেলিং হেডসেট্ এর কথা।তা আমার এনআরাই বৌ আমায় একটা বোসের অন ইয়ার হেডসেট এনে দিয়েছিল।
একদিন ভাবলাম এই কোলকাতার রাস্তার অবাঞ্ছিত শব্দ এড়াতে একটা টেস্টিং করা যাক।তা বাড়ি থেকে বেরিয়ে অটোর সামনের সীটের ধারে আধঝোলা নিতম্ব নিয়ে বসে হেডসেটে একটা গান চালিয়েছি।স্পষ্ট শুনলাম পেছন থেকে একটা ছেলে বলল – “শালা!শুয়োরের বাচ্চা অটোয় বসে বোস মারাচ্ছে”।জ্বলে গেল শরীরটা।পেছনে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম তিনজন মহিলা বসে।ধারের দুজন জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।আর মাঝের জন মোবাইলে কিছু একটা করছে।শালা নয়েজ ক্যানসেলেশন টেকনোলজি কি কাজ করছে না?নিশ্চয়ই রাস্তা থেকে কেউ ফুট কেটেছে।মরুক গা।সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে স্টপেজ এসে গেল।
অটোর ভাড়া-টারা চুকিয়ে এবার বাসে ওঠার পালা।বাস এল। মোটামুটি ভালই ঠাসাঠাসি।হেয়ারব্যান্ডের মতন রাখা হেডফোনটাকে বকলেসের মতন করে গলায় লটকে দিলাম।ওটাই স্টাইলটা।অবাক হওয়ার কিছু নেই।মোটামুটি একটু দূরে যেতে হলে বাসে উঠেই আমি গুঁতিয়ে পিছন দিকে চলে যাই।আরামসে দাঁড়ানো যায়।এবার ব্যাগটাকে বাঙ্কারে গ্যারেজ করে,কনুইদুটোকে সাবধানে ড্রিবল করে অন ইয়ার/ওভার দা ইয়ার হেডফোন সেট করতে হবে কানে।করতে গেলাম।বাসটা দুলছিল তাই আমার বাম কুনুইটা তুলতে গিয়ে একটা ছেলের চোয়ালে লাগল।তার হাত থেকে মোবাইল টোবাইল পড়ে গিয়ে একশা।কিন্তু আমার নয়েজ ক্যানসেলেশন কাজ করতে শুরু করেছে।ছেলেটার রক্তচক্ষু দেখতে পেলেও মুখের ব্রজবুলিগুলো শুনতে পেলাম না।বেড়ে জিনিস বটে।
এঃ,একটু গুঁতো খেয়ে নড়ে গেল হেডফোনটা,ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যাবে।রড ছেড়ে দু হাতে হেডফোনটা সেট করছি অমনি বাসটা একটা কষে ব্রেক মারল।বাসের পেছনের সীটের মাঝের লোকটা জীবনেও ভাবেনি সে এত ক্ষমতাবান,কারণ মেরে কেটে ৪৯ কেজির সুঁটকোর ওপরে ৯৪ কেজি একটা লোক বেমালুম বসে গেল।ব্রজবুলি শুরু হয়েছে।কিন্তু ঐ যে নয়েজ্ ক্যানসেলেশন টেকনোলজি কাজ করছে।কিছু শুনতে পেলাম না।
উঠে দাঁড়িয়ে দুবার আস্তে করে “সরি” বললাম।তারপর বললাম “দাদা ইচ্ছে করে তো আপনার কোলে বসিনি,আর বসবই বা কেন?প্লিজ কিছু মনে করবেন না”।দেখলাম গোটা বাস আমার দিকে তাকাচ্ছে।আস্তে করেই তো বললাম।
আসলে আজকাল তো লোকে আর যেচে সরি বলে না দোষ থাকলেও।তাই হয়ত দেখছে।
কে যেন একবার বলল “শালা লোকে দাঁড়াতে পারছে না ঠিক করে,আর এই শালা এ.র রহমান,দু কানে দুটো গাম্বাট কুলো চাপিয়ে ঘুরছে”।যাঃ শালা নয়েজ ক্যানসেলেসান কাজ করছে না নাকি?আওয়াজটাও চেনা চেনা লাগল।অটোয় যেরকম শুনেছিলাম।
তন্ময় হয়ে একের পর এক কিশোর, রফি,লতা,আশা,অরিজিৎ,শানু শুনছি তো শুনছি।চোখ বুজে আসছে আমার।বেস্,ট্রিবল্,সাউণ্ড ব্যালেন্স,স্টিরিও,মোনো সব বুঝে যাচ্ছি।বাইরের নশ্বর জগৎ ছেড়ে আমি এখন টোটাল সামবেদের সঙ্গীতমুখর দুনিয়ায় প্রবাদপ্রতিম শিল্পীদের মঞ্চে আসীন হয়ে তাল ঠুকছি।আহা ঐ তো হরি দাদু
বাঁশীতে ফুঁ দিচ্ছে,ঐ তো বিসমিল্লাহ সাঁনাইয়ে লহরী তুলছে,ঐ জাকির হুসেন বায়া ঠুকে নিলেন।
এমন সময় আমার কাঁধ ধরে ঝাঁকায় কোন বেয়াদব।ঘুরে দেখি কণ্ডাক্টর।শালা বোবা নাকি।লিপ নাড়াচ্ছে।বুঝলাম,নয়েজ ক্যানসেলেশন।হেডফোন খুলতে বলছে।খুললাম।
“কালা নাকি মশাই?সায়েন্স সিটি নামবেন বললেন।এতো রুবি চলে এল।কখন থেকে ডাকছি,কানে শোনেন না?”

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

লেখক- দেবপ্রিয় মুখার্জী

ছবি- অনির্বাণ ঘোষ

Leave a Reply