আমি মদ বলছি

Friends, Humor, Ideas, Listicles, বাংলা

মদ একটা অসম্ভব ভাল জিনিস, সেই মধ্যযুগ থেকে শুরু হওয়া সুরা থেকে অধুনা আইরিশ হুইস্কি – এই বিরাট সময়কাল এর মধ্যে মদ নিজের অনেক গুনমুগ্ধকারী কে পেয়েছে, আবার জগত সংসার এর ঢপ এর কারনে হারিয়েওছে অনেক কে….তবু ওই বোতল কে ভালবেসে, সব দুঃখ বেদনা কে টেম্পরারি দূরে সরিয়ে রেখে আমরা যে কজন এখনো বউ এর গালি, বাবা মা এর কটুক্তি, ডাক্তার এর ভাঁট, বন্ধুদের স্যারকাসম এর ওপরে কর্পরেট এর ভাষায় “ফ্লাইং কালারস্” নিয়ে উড়ে চলেছি, তাদের ই একজন এর মুখ থেকে কিছু বাণী নিয়ে এই লেখা –

#করেঙ্গে পার্টি সারি রাত!!

১.

মদ কখনওই বেশি হয় না, “মদ বেশি হয়ে গেছে” ইস আ পিওর এগজ্যাম্পল অফ “অক্সিমোরন”… সুতরাং শুক্রবার রাতে অফিস ফেরত ওই “এফ এল অফ শপ” এ দাঁড়িয়ে সাত জন আছে, মানে পার হেড্ ৫ পেগ হলে ৩৫ পেগ এসব হিসেব না করে ৩ টে “লিটার” তুলে নিন, বেচে গেলে পরদিন লেগে যাবে কাজে.

২.

কোল্ড্রিনক দিয়ে মদ খাওয়া টা ছাড়ুন…কোক এর বোতল উপুর করে বাথরুম এর কমড পরিষ্কার করা যায় কিনা জানিনা, তবে আপনাকে ঘোড়া থেকে হাতি করতে পারে ওই সোডা-গোলা-কোলা – এটা একদম সিওর কাকা….বস, মদ দিয়ে পেট ভরাও, থামস-আপ তো ভাইজান ও খায়!!

৩.

যদি পরদিন সকালের ওই মাথাধড়া হ্যাল্ অবস্থায় বেড়োতে না চান, মনে করে দু প্যাকেট এক্সট্রা সিগারেট কিনে জিন্স এর পেছনের পকেট এ রেখে পাতি ভুলে যান – সকালে যখন আপনার ওই সবেধন নীলমণি জিন্স এর পকেট এ “সোনা ফ্লেক” এর গোটা প্যাকেট টা পাবেন, ওই মুহুর্ত টা কিন্তু প্রাইসলেস।

৪.

গরম বিয়ার আর ঠান্ডা স্টারটার – এর থেকে খারাপ পার্টি স্পয়েলার আর কিছু হয় না, তাই হাউস পার্টি হলে পাকোড়া গরম হতে হতে, সেই “এফ এল শপ” থেকে দু-হাজার টাকার খুচরো করানোর শিশু অজুহাত এ ঘাপানো টিউবর্গ এর ক্যানটা হাল্কা “ফসসস্” করে খুলে দু চুমুক মেরে, ডিপ ফ্রাই করা চিকেন পাকোড়া টা মুখ এর কাছে নিয়ে একটু “ফু: ফু:” করে চালান করে পেট এর বেস টা তৈরি করুন – আরে দাদা বিয়েবাড়ি গিয়ে ফার্স্টেই কি মাটন রেজালায় হামলে পড়েন নাকি?

৫.

সুইগি ফুড-পান্ডা আছে বলেই যা খুশি অর্ডার দেবেন না, মনে রাখবেন আকন্ঠ মদ গিলে কেউ ডিনার করে না – পুরো খাবার টা ডাইনিং টেবিল এ সারারাত পরে থেকে পিঁপড়ের উপদ্রব বাড়ানো ছাড়া আর কিছু করে না।

৬.

লাস্ট বাট নট দ্যা লিস্ট – খালি পেট এ মদ টা খাবেন না, ওতে আসলে আপনি মদ টা কে নয়, মদ আপনার লিভার টা কে খায়…চেষ্টা করুন প্রতি দু পেগ এ একটা করে সিগারেট আর সেটার জন্য এমন কোন জায়গা য় বসে খান যেখানে “স্মোকিং ইস নট আলাউড” – দেখবেন আপ্সেই বিড়ি খাওয়া টা কমে গেছে…স্টারটার এ গ্রিল্ড ফুড বা ফল রাখুন, পাড়ার “নটরাজ ফাস্ট ফুড” এর ওই কালো ড্রাই চিল্লি চিকেন টা নাহয় উইক এর মাঝে একদিন হবে।

এটাতো গেল সাজানো গোছানর প্রলাপ যেগুলো আপনি বাল ও মানবেন না এবং যথারীতি ছড়িয়ে মাঠ ময়দান করবেন….তাই সেই “ফ্লাইং কালারস্” বাবা বলছেন –

#পার্টি অল নাইট!!

১.

চেগে মেগে “আই আম দ্য বার টেন্ডার টুডে” বলে চেল্লাবেন না, প্রত্যেক পার্টি তে একজন আসাইন্ড লোক থাকে যে পুরো আপ্লিকেসন টার এন্ড টু এন্ড জানে – মানে ধরুন অরিজিত কত পেগ এ ঢালবে, আর সন্দীপন কত পেগ এ আগের ক্রাস কে হোয়াটস-আপ করবে ইত্যাদি প্রভৃতি..তাই ওই গুরুভার টা তার হাতেই রাখুন।

২.

মিউসিক একটা খুব এসেন্সিয়াল পার্ট যে কোন ঠেকে, আবার সবার পছন্দের গান চালানো টাও চাপ এর ব্যাপার – এ বলবে ক্যাটি পেরি, ও বলবে প্যান্টেরা – তাই বাওয়াল আভয়েড করতে পাতি কিশোরদা বা রফি সাহেব এর সফট নাম্বারস চালিয়ে দিন- সবাই খুশি!!

৩.

মদ খেয়ে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরদিন সকাল এ সব কিছু মনে করা…মানে গতকাল রাতে আপনি কি কি ছড়িয়েছেন…জেনারেলি এখন এই স্মার্টফোনের যুগে হোয়াটস-আপ বা মেসেঞ্জারেই জনতা কেস গুলো খায়. ধরুন সবে প্রথম পেগ এ চুমুক টা মেরেছেন হঠাত ফোনে “টুং” করে ক্লাস টুয়েলভ এর পারমিতা আপনার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আক্সেপ্ট করে আপনাকে ১৫ বছর আগে নিয়ে গেল..ব্যাস, আপনি পেগ নিয়ে বারান্দায় গিয়ে সোজা ঝাঁপ দিলেন সেই সায়েন্স ক্লাসরুমে যেখানে ব্লাকবোর্ড এ ইন্টিগ্রেশন আর আপনার হৃদয়ে ডেরিভেসন হচ্ছে সেকেন্ড বেঞ্চে বসা ফরসা রোগাসোগা মেয়ে টা কে দেখে….এফবি মেসেঞ্জার এ হাল্কা উপন্যাস পাঠিয়ে দিলেন, তারপর ৬ পেগ এর পর যখন একলা হওয়ার “রাম-রহিম” ইংগিত দেওয়া শুরু করলেন অমনি মামনি “ধাঁ” – অর্থাৎ অফলাইন – এবার সারারাত আপনি ___ “ধরে” বসে থাকুন!!

মনে রাখবেন, আপনি মদ খেয়েছেন, টুল হয়েছেন খুব ভাল কথা – আপনার সেই “বাল্যসখা” কিন্তু টোটালি সজ্ঞানে…তাই সন্ধ্যা আহ্নিক সেরে বসার আগে মোবাইল ডেটা ওয়াই-ফাই সব অফ করে বসুন – কেস খাওয়া কিন্তু আমাদের জন্মলগ্নে!!

৪.

যদি আপনি কলকাতার বাইরে থাকেন বাবা মা এর থেকে দূরে, অতি অবশ্যই ডেইলি স্ট্যাটাস কল টা আগে সেরে নিন….মা বাবা কে সবাই ভালবাসি আমরা, কিন্তু মনে রাখবেন ভালবাসার ঠেলায় যেন আপনার বাবা পরদিন সকালে আপনাকে বলতে বাধ্য না হন “বাবাই, কাল রাতে কি খেয়েছিলে?”..
আর যদি কলকাতার মধ্যেই হঠাত করে প্ল্যান টা হয়ে থাকে, আর আপনি বুঝতে পারেন যাদের সাথে “বসছেন” তাদের ওই “ভাই দু পেগ ভাই, ঠিক দু পেগ মেরে চলে যাস” এর থেকে বড় সত্যি আমাদের মোদি ও বলেন – তাহলে দেরি না করে বাড়িতে বলে দিন “কোড ফেটেছে, আজ ফিরতে পারছি না” ( বি: দ্র: আইটি র লোকজন ছাড়া বাকিরা এরম কিছু একটা টেম্পলেট বানিয়ে রাখবেন)

৫.

ধরুন মদ প্রচুর এনেছিলেন, খাওয়া ও হয়েছে ভালই তবু…..
“ভাইইইই….আর একটা পাঁইট লাগবে ভাই…তুই বোস না ব্বাঁ, আমি জাস্ট যাব আর আসব”
– এই লুপে পড়বেন না, মনে রাখবেন যারা যায় এই শেষ মুহুর্তের বিশল্যকরণী র সন্ধানে তারা কোনদিন ঠিক সময়ে ফেরে না….বেড়োবে, গ্যাঁজাবে, ছড়াবে, বিড়ি খেয়ে যখন ফিরবে, তখন আপনি অলরেডি কাউন্টার স্ট্রাইক এ গুলি-ফুলি খেয়ে কেলিয়ে গেছেন -সেই পাঁইট পড়েই থাকবে, যারা আনতে গেছিল তারাও তখন মোটামুটি খরচার খাতায় – সুতরাং এই আরো মদ লাগার ফান্ডা মার্কেট এ লঞ্চ হওয়ার সাথে সাথে সেটাকে সমূলে বিনাশ করুন।

৬.

“ঠিক আছে ভাই, মদ আর আনছিনা – চল রাজারহাট এ একটা লং-ড্রাইভ মেরে আসি, বাগুইহাটি থানায় আমার চেনা আছে – কেউ ব্বাঁ কিসস্যু করতে পারবে না – চল ভাই” –
আরো বড় ভুল – শান্তিতে মদ খান, লোককে খাওয়ান – প্লাস্টিক ভেবে ল্যাম্পপোস্ট এ ধাক্কা মেরে “ড্রিঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভে” এর কেস খেয়ে সারাজীবন থানাপুলিশ মারিয়ে কি লাভ বলুন তো?

৭.

অতি বড় মাতাল ও বলতে পারবে না বুকে হাত রেখে যে সে কখনো ঢালেনি – হ্যাঁ হয়তো সারারাত বাথরুমে কাটায়নি বা ধরুন বেসিন এ বমি করতে করতে পুরো বডি প্রেসার দিয়ে বেসিন শুদ্ধু ধ্যাড়ায়নি. তবে সাধারণত মাতাল রা তিনটে কারনে ঢেলে থাকে – দেখে নিন আপনি কোন খাপে ঢুকছেন –

  • বিয়ার আফটার হুইস্কি অলয়েস রিস্কি – এই দুটো বিয়ার মেরে বিপি র ছিপি খোলা টা খুব ই বালখিল্য, বিশ্বাস করুন, এতে আপনার হিরোগিরি বা নেশা কোনটাই বাড়েনা
  • খালি পেট? ও ঠিক আছে, চানাচুর দিয়ে মেরে দেবো – কদাপি না, কদাচ না!! আপনাকে বলছি না যে আপনি ভাত ডাল মেখে পাসে লন্কা চিবিয়ে এক গেলাস জল ঢকঢকিয়ে “ব্যায়ায়ায়াউউউপ” করে একটা বিচ্ছিরি ঢেকুর তুলে তারপর বসবেন – কিন্তু মদ খাওয়ার আগে কিছু একটু পেটে দিয়ে নিন
  • মদ খেয়ে পুতনা কেও “করিনা” লাগে, তাই ঠেকে কোন মামনি থাকলে, তাকে ইম্প্রেস করার চক্করে “আমার কিছু হয়না, আমি ঠিক আছি, গাড়ি চালিয়ে বাড়ি চলে যাব” এসব বলে, বারে উঠে বটমস্ আপ মারতে যাবেননা।

৮.

মদের আসরে অনেক সেন্টি কেস হয় – আমার জেঠতুতো দাদার মাসতুতো ননদের বড় জা এর ছোট ছেলে কাল সকাল এ আসছে – আমায় এয়ারপোর্ট যেতে হবে – আজ যদি পউনে ১২ টায় বাড়ি না ঢুকতে পারি, বউ শ্যাটা ভেংগে আটা করে দেবে – এই ধরনের পাব্লিক কে আভয়েড করুন – ঠেকে এরা নেগেটিভিটি ছড়িয়ে থাকে।

নেক্সট, ৩ পেগ হল কি না হল, “ভাই…(খু: খু:) তুই তো অপর্ণা কে চিনতি বল?? কোনদিনও ভাই?? কোনদিনও ভেবেছিলি ও আমায় এভাবে ছেড়ে যাবে ওই, ওই শুওরের বাচ্ছা কুন্তল এর জন্য??” আর তারপর হাপুস নয়নে কান্না… আরো আছে, “ভাই আমার দাঁত তুলেছি আজ, তান্দুরি চেবাতে পারছিনা” – কান্না ইত্যাদি – এদের কাটাতে পারবেন না, তাই এদের কাঁদতে দিন -শুধু খেয়াল রাখবেন এদের পেগ ঢালার দিকে – একা লিটার নামিয়ে দিলে বাকিদের হেব্বি ঝাঁট জ্বলবে কিন্তু।

৯.

মদের গন্ধ থেকে বাঁচতে মানুষ নানাবিধ উপায় অবলম্বন করে – কিন্তু বিশ্বাস করুন, ওই ক্লোরমিন্ট বা বাবা ইলাইচি কোনদিন মদ এর গন্ধ তাড়াতে পারেনি কারন গন্ধ টার ফ্রন্ট এন্ড আপনার মুখ, সোর্সকোড কিন্তু পেটে আছে – তাই বেস্ট অপশন, হয় অল্প খেয়ে কিছুক্ষন সময় বাইরে কাটিয়ে বাড়ি ঢুকে বেশি না বকে শুয়ে পড়ুন আর যদি দেখেন “মাহল” জমে গেছে, ৫-৬ পেগ নেমে গেছে তাহলে বাড়ি ফিরে বউ যখন কেস টা দেবে আপনাকে, একদম নরমালি বলুন “গন্ধ?? কোথায়??” তারপর নিজের শার্ট টা শোঁকার ভান করে বলুন “ওহহ!! তুমি পারো বটে, আরে আজ ক্লায়েন্ট এর প্রেজেন্টেশান দিচ্ছিলাম…. এতো লিখেছি যে মার্কার এর গন্ধ জামা তেও হয়ে গেছে” – আপনার বউ সহজ সরল হলে বেঁচে গেলেন (যেমন আমার এক বন্ধু বেঁচেছিল), নাহলে লাথি, ঝ্যাঁটা র জন্য রেডি হতে থাকুন।

১০.

ইদানিং একটা নতুন “সোয়্যাগ” এসেছে মার্কেটে – বিয়ে তে মদ খাওয়া – এটায় পাঞ্জাবি দের কপিরাইট থাকলেও বাঙালি দের মধ্যে ভয়াবহ ভাবে ঢুকে গেছে ব্যাপারটা. এরকম ও দেখা গেছে, নতুন জামাই এর বন্ধু হবু শাশুড়ির পায়ে পড়ে বলছে “মাসীমা, মদ খেয়ে বলছিনা বিশ্বাস করুন (হিক্)….সন্তু হীরের টুকরো ছেলে… আমাদের বুবলি কে হেব্বি খুশি রাখবে, আপনি কোন চিন্তা করবেননা মাসীমা (হিক্ হিক্)…. আর কিছু ব্যাগর-বাই করলেই আমায় বলবেন – শালা র গাঁ___” – বন্ধু রা ধরাধরি করে নিয়ে গেল. আর নিজের বিয়েতে বা রিসেপশন এ মদ খাওয়ার কথা তো ভুলেও ভাববেন না – সব সময় মনে রাখবেন, ফুলসজ্জা র ফুলে কিন্তু ভদকার গন্ধ যাবে না এবং বউ এর কাছে সারাজীবন এই “পেঁচো মাতাল” ডাক শুনতে হবে – তাই এই “সোয়্যাগ”-হীন সোয়াগাত থেকে মুক্তি পেতে ওই একটা দিন ভগবান এর নামে নম: করে দিন!!
.
.
.
.
কি ভাবছেন? আপনার সবগুলো কেস এভাবে কি করে মিলে গেল?? চাপ নেই কাকা, আমাদের সবার সাথে প্রত্যেকবার এই ঘটনাগুলো কোন না কোন ভাবে হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ এও হবে!!

খালি একটা জিনিস একটু খেয়াল রাখবেন – বয়স হচ্ছে তো, আর সেই কলেজের ইম্পেরিয়াল ব্লু খেয়ে যেখানে সেখানে পড়ে থাকার দিন নেই – বছরে একটা হেলথ চেকাপ করিয়ে যান আর উইকেন্ডে একটু বুঝেশুনে খান!!

#হোককলরব #হোকউল্লাস!!

~~~♦♣♦~~~

সিকুয়েল ~ এই মদ যদি না শেষ হয়

লেখক ~ ছন্দক চক্রবর্তী

প্রচ্ছদ ~ সংগৃহীত

4 comments

Leave a Reply