হায়রোগ্লিফের দেশে- ৯ / রোসেটার পাথর

Anirban & Arijit, বাংলা, হায়রোগ্লিফের দেশে

আগের উইকএন্ডে বাড়ি গিয়েছিলাম। সোমবার তেমন কোন ভাল ক্লাস ছিল না। তাই সেদিনও দিনের বেলাটা বাড়িতে কাটিয়ে সন্ধ্যেবেলায় যখন হোস্টেলের ঘরে ঢুকলাম দেখি ভবেশদা পিজির সাথে বসে চা আর তেলেভাজা খাচ্ছে। পিজি আমাকে দেখেই বলল,

– এই দ্যাখ, একদম ঠিক টাইমে এসে গেছিস, ভবেশদা কালিকার বেগুনি নিয়ে এসেছে। ঝটপট বসে পড়।

কালিকার তেলেভাজা আবার ছাড়া যায় নাকি! আমি প্রায় ঝাঁপিয়েই পড়তে যাচ্ছিলাম আর তখনই ভবেশদা বলল,

– টি শার্টটা তো বেশ। কোথা থেকে জোগাড় করলে এটা?

– মামা ইজিপ্টে বেড়াতে গিয়েছিল বলেছিলাম না। ওখান থেকে এনে দিয়েছে।

গোলগলা টি-শার্টটাতে সাদার ওপরে কালো দিয়ে হায়রোগ্লিফিক অক্ষর প্রিন্ট করা ছিল। আমাদের চলমান মিশরীয় এনসাইক্লোপিডিয়ার চোখ এড়ায়নি সেটা।

ভবেশদা আমাকে দাঁড় করিয়ে টি-শার্টটার ওপরে ঝুঁকে এল। মিনিটখানেক খুঁটিয়ে দেখার পরে বলল,

– ধুস, তোমার মামাকে বেকার জিনিস গছিয়েছে। হায়রোগ্লিফিক অক্ষর আছে। কিন্তু এলোমেলো। এগুলোর কোন মানে নেই।

পিছন থেকে পিজি বলল,

– আপনি হায়রোগ্লিফ পড়তে পারেন?

– হুঁ, খুব সামান্য। হায়রোগ্লিফ পড়া কি অত সহজ হে পিজি ভাই। এর রহস্য উদ্ধার করার জন্য কত মানুষ কত রাত জেগেছে জানো?

– হ্যাঁ, শুনেছিলাম খুব কঠিন ভাষা নাকি এটা।

– হ্যাঁ, সত্যি খুব কঠিন। সে কথায় পরে আসছি। আগে যে লোকটার জন্য শুধু হায়রোগ্লিফ না, গোটা মিশর দেশটাকেই পৃথিবীর মানুষ চিনল তার কথা বলি। কয়েকটা হিন্টস দি তোমাদেরকে, দেখি পার কি না,

লোকটার হাইট ৫ফুট ৭ ইঞ্চি, যুদ্ধবাজ, প্রায় গোটা ইউরোপ দখল করে ফেলেছিলেন, কিন্তু বিড়ালকে ভয় পেতেন, সত্যজিত রায় যে লিজঁ দি অঁর পেয়েছিলেন সেটা ইনি চালু করেছিলেন।

আমরা দুজনেই মাথা চুলকোলাম একটু, ভবেশদা এবারে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

– তোমাদের দেখলে মাঝে মাঝে মনে হয় উলুবনে মুক্তো ছড়াচ্ছি। ওকে আরো দুটো শব্দ বলছি, দেখ পারো কি না এবারে। ওয়াটারলু, সেন্ট হেলেনা।

– নেপোলিয়ন বোনাপার্টে!

– এই তো হয়েছে এবারে। স্কুলের ইতিহাস বইয়ের বাইরে আর কোনদিন কিছু পড়নি বুঝতেই পারি।

ভবেশদার কথা গায়ে মাখলে চলে না, আমি বললাম,

– কিন্তু নেপোলিয়নের সাথে ইজিপ্টের কি সম্পর্ক?

– ওই লোকটাই তো সব কিছুর উৎস!

– মানে?

– গুছিয়ে বলি শোনো। সালটা ১৭৯৮, নেপোলিয়ন তখন ফ্রেঞ্চ অ্যাডমিলার জেনারেল। হটাৎ করে ওঁর মাথায় একটা ইচ্ছা চাপল। আলেকজান্ডার ছিল ওর ছোটবেলাকার হিরো। সেই আলেকজান্ডারের পথ অনুসরণ করবেন। ইজিপ্ট দখল করতে হবে।

– আচ্ছা এই হল নেপোলিয়নের মিশরে আসার কারণ।

– এইটা ছাড়াও আরেকটা কারণ ছিল যদিও। নেপোলিয়নের ফন্দি ছিল ইজিপ্ট দখল করে সুয়েজের মধ্যে দিয়ে ক্যানাল বানিয়ে রেড সীতে এসে পড়া। সেখান থেকে আরব সাগরের পথ ধরে এশিয়ার একটা দেশে আসা।

– কোন দেশ?

– যে দেশে এখন আমরা বসে আছি।

– বলেন কি! নেপোলিয়ন ভারতে আসার চেষ্টা করেছিলেন?! কিন্তু কেন?

– কারণটা খুব সহজ। ভারত তখন ব্রিটিশদের অধীনে। নেপোলিয়নের লক্ষ্য ছিল দেশের এক রাজার সাথে হাত মিলিয়ে ব্রিটিশদের ভারত থেকে উৎখাত করা। এতে ব্রিটিশদের শক্তি কমত। ইউরোপেও ওদের হারানো সহজ হয়ে যেত। এবারে দেশের কোন রাজার সাথে নেপোলিয়ন হাত মেলাবার কথা ভেবেছিলেন সেটা দেখো পিজি ভাই কেমন চট করে বলে দেবে।

ভবেশদা এবারে পিজির দিকে তাকিয়ে বলল,

– তোমাদের ছোটবেলায় দুরদর্শনে এঁকে নিয়ে খুব বিখ্যাত একটা সিরিয়াল হয়েছিল। এর ভুমিকায় অভিনয় করেছিলেন সঞ্জয় খান। একবার সেটে আগুন লাগার জন্য এর শুটিং তিনবছর পিছিয়ে গিয়েছিল।

– হেঁ হেঁ, বুঝে গেছি, টিপু সুলতান।

– ওই দেখো, বল কোর্টে পড়ার সাথে সাথে লুফে নিয়েছে ছেলে। টিপু সুলতানকে নেপোলিয়ন নাকি চিঠিও পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির কি হয়েছিল সেটা আজও কেউ জানে না। তো যাই হোক, আগের কথায় ফিরে আসি।

– হ্যাঁ, নেপোলিয়নের ইজিপ্টে আসা।

– ঠিক, পয়লা জুলাই, ১৭৯৮তে কয়েকশো রণতরীতে চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে নেপোলিয়ন ইজিপ্টের উত্তরদিকে আলেকজান্দ্রিয়ার উপকূলে পৌঁছলেন। আলেকজান্দ্রিয়ার শহর দখল করার পরে ফ্রেঞ্চ আর্মি ধীরে ধীরে কায়রোর দিকে এগোতে লাগল। বিখ্যাত গিজার যুদ্ধে তারা সেই সময়ের শাসক মামলুকদের হারিয়ে কায়রোর দখলও নিল। যাকে এখন বলে ব্যাটেল অফ দা পিরামিডস। ২১শে জুলাই কায়রো ফ্রেঞ্চদের হাতে এল। কিন্তু নেপোলিয়নের গোটা ইজিপ্ট দখল করার স্বপ্ন সত্যি হয়নি। মরুভূমির প্রচন্ড গরমের মধ্যেই অনেক সৈন্যর মৃত্যু হয়। অনেক মারা যায় পেট খারাপে আর প্লেগে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সৈন্যরাও চলে আসে ইজিপ্টে। খুফুর পিরামিডের গল্প বলার সময় অ্যাডমিরাল নেলসনের কথা বলেছিলাম মনে আছে?

– হ্যাঁ ক্রিকেটে ১১১ যার নামে।

– কারেক্ট, এই অ্যাডমিরাল নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ ন্যাভাল ফোর্স ফ্রেঞ্চদের প্রায় সব কটা রণতরী ধ্বংস করে ফেলে। ১৮০১ সালে ফ্রেঞ্চরা হার মানে ব্রিটিশদের কাছে। নেপোলিয়ন যদিও তার অনেক আগেই ফ্রান্সে পালিয়ে এসেছিলেন। ব্রিটিশদের জাহাজে করেই শেষমেশ ফ্রান্সে ফেরে মাত্র ১০০০ জন সৈন্য। নেপোলিয়নের আর সুয়েজ খাল কেটে ভারতে পৌঁছানো হয়নি। সেটা হলে আমাদের ইতিহাসটা অন্যরকম হত।

 

 

 

– কিন্তু আপনি বলেছিলেন নেপোলিয়নের জন্যই পৃথিবীর মানুষ প্রাচীন মিশরকে চিনেছিল। সেরকম তো কিছু পেলাম না এতে।

– সেই কথাতেই আসছি এবারে, নেপোলিয়ন তো শুধু সৈন্য সামন্ত নিয়েই ইজিপ্টে আসেননি। ওঁর সাথেই এসেছিল ১৬৭ জন স্কলার। তাদের মধ্যে ছিল ইঞ্জিনিয়ার, সার্রভেয়র, ডাক্তার, বোটনিস্ট, আর্কিওলজিস্ট, ইন্টারপ্রিটার, কেমিস্ট,জুলজিস্টরা। এদের কাজ ছিল মিশরের সব মাটিতে যা কিছু পাওয়া যাবে সেগুলো পরীক্ষা করা, এক জায়গাতে নোট করা। আর সেগুলোকে হস্তগত করা দেশের জন্য। এরা মিশর থেকে অজস্র মূর্তি, প্রত্নসামগ্রী আর প্যাপিরাস নিয়ে দেশে ফেরে। যেগুলো ফ্রান্সে সাড়া ফেলে দেয়। সবার তখন এই অদ্ভুত দেশটা নিয়ে আগ্রহ, যেখানে নাকি বিশাল উঁচু পিরামিড আছে, অদ্ভুত দেখতে স্ফিংস আছে আর আছে মমি! মৃত মানুষের শরীরকে নাকি ওরা বাঁচিয়ে রাখে! ফ্রান্সের সব কটা বড় খবরের কাগজে এগুলো প্রথম পাতায় চলে আসে। সেখান থেকে বাকি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে আর সময় লাগেনি। মানুষ সেই প্রথম চিনল অনেক দূরের একটা দেশকে। দেশে ফিরে আসার পরে এই স্কলাররাই একটা বিশাল বই প্রকাশ করেন। নাম ডেস্ক্রিপশন দি ইজিপ্তে। নটা ভল্যুমের টেক্সট, আবার ১১টা ভল্যুম শুধু ছবির জন্য! মিশর দেশটার হেন কোন জিনিস নেই যা এর মধ্যে ছিল না। তবে সবারই একটা জায়গাতে গিয়ে মুশকিল হল।

– সেটা কি?

ভবেশদা কচরমচর করে বেগুনি চেবাতে চেবাতে বল,

– যা কিছু পাওয়া গেছিল মিশরে তার সবেতেই একটা অদ্ভুত লিপিতে লেখা। অন্য সবরকম লিপির থেকে একদম আলাদা। ছোট ছোট ছবি ওপর থেকে নিচেতে আঁকা । সাপ, পালক,পাখি, সূর্য.. কেউ কিচ্ছু বুঝতে পারছিল না এর মানে। আবার এর মানে উদ্ধার না করা গেলে তো দেশটার ইতিহাসই অধরা থেকে যাবে!

– বুঝেছি, হায়রোগ্লিফের কথা বলছেন।

– হুম, হায়রোগ্লিফ শব্দটা হল গ্রীক, যার মানে খোদাই করা পবিত্র অক্ষর। মিশরের খুব হাতে গোনা কয়েকজনই এই লিপির ব্যবহার জানতো। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই ছিল পুরোহিত। এরা আর কাউকে এই বিদ্যা শেখাতেন না। তাই ফারাওদের যুগ শেষ হওয়ার সাথে সাথে হায়রোগ্লিফ জানা মানুষও একসময় পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়। হায়রোগ্লিফ একটা লিপি যার সাথে আশেপাশের আর কিচ্ছুর মিল নেই। সাধারণত কোন নতুন লিপি উদ্ধার করার সময় তার কাছকাছি থাকা অন্য কোন লিপির সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন কিছুই পাওয়া যাচ্ছিল না। আর এইখানেই একটা বড় আবিস্কারের কথা লুকিয়ে আছে। একটা কালো পাথরের টুকরো।

– পাথর?!

– হ্যাঁ। রোসেটা স্টোনের নাম শুনেছ?

– না তো।

– তাহলে সেই গল্পটা ঝট করে বলে দি, সালটা ১৭৯৯, ব্রিটিশ ন্যাভাল আর্মি তখন ফ্রেঞ্চ দের চারিদিক থেকে ঘিরে ধরছে। তাই ফ্রেঞ্চরা চেষ্টা করল সমুদ্রের উপকূলগুলোতে নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে। রোসেটা হল এমনই একটা জায়গা, নীলনদ যেখানে ভুমধ্যসাগরে এসে মিশেছে সেখানকার একটা পুরনো পরিত্যক্ত শহর। ফ্রেঞ্চ অফিসার জ্যাভিয়ার পকার্ডের ওপরে দ্বায়িত্ব পড়ল এই রোসেটাতে একটা আর্মিবেস তৈরি করার। ওখানে মামলুকদের আমলের একটা ভেঙে পড়া প্রাসাদ ছিল, সেটাকেই সাড়িয়ে নিয়ে একটা আর্মি ব্যারাক আর ওয়াচ টাওয়ার বানাতে আরম্ভ করলেন পকার্ড। কাজ ভালই চলছিল। কিন্তু ১৯শে জুলাই একজন ফ্রেঞ্চ সৈন্য সেই ভাঙা প্রাসাদের ভিতরের দিকে একটা ঘর পরিষ্কার করার সময় দেখতে পেল একটা মাঝারি মাপের পাথরের চাঁই পড়ে আছে। তার ওপরের আর নিচের দিকটা ভাঙা। আশেপাশের আবর্জনা সড়িয়ে ফেলার পরে গোটা পাথরটা সামনে এল। সাথে সাথে খবর গেল পকার্ডের কাছে। পকার্ড একনজরে পাথরটাকে দেখেই বুঝেছিলেন এর গুরুত্ব। চকচকে মসৃন কালো রঙ, লম্বায় তিনফুট, প্রস্থে দু ফুট, আর প্রায় দশ ইঞ্চি মোটা বেশ ভারী পাথর। তার গায়ে খোদাই করা তিনরকমের লিপি। একটা হায়রোগ্লিফ, একটা ডিমোটিক, যে ভাষা দেশের সাধারণ মানুষ ব্যবহার করত। আরেকটা হল গ্রীক।

– গ্রীক!

– হ্যাঁ, এতে অবাক হওয়ার তো কিছু নেই। গ্রীকরা বেশ কয়েকশো বছর রাজত্ব করেছিল মিশরে। তবে তাদের সময়কার কোন লেখা এতদিন পাওয়া যায়নি। এই প্রথম এমন কিছু পাওয়া গেল যেখানে হায়রোগ্লিফের লিপিগুলোকে গ্রীক লিপির সাথে মেলানো যাবে! পকার্ড সাথে সাথে খবর পাঠিয়ে দিলেন ফ্রান্সে। সেখান কার খবরের কাগজ গুলোতে বড় করে বেরোলো রোসেটা স্টোনের কথা। সবাই এবারে আশায় বুক বাঁধল। এবারে দুর্বোধ্য হায়রোগ্লিফের মানে উদ্ধার করা যাবে!

– দাঁড়ান দাঁড়ান!

শেষ কয়েক মিনিট দেখছিলাম পিজি মোবাইলে কি একটা দেখছে। মোবাইলটা এবারে আমার হাতে দিতে দিতে বল,

-এই দেখ , রোসেটা স্টোন কেমন দেখতে, কিন্তু ভবেশদা এখানে ত বলছে যে পাথরটা এখন আছে লন্ডনে,ব্রিটিশ মিউজিয়ামে!

– হ্যাঁ তাই তো।

– কিন্তু আপনি যে বললেন…

– ফ্রেঞ্চদের হাত থেকে ব্রিটিশদের কাছে কি করে এল তাই ভাবছ তো? এটাও একটা মজার গল্প ,একটু আগেই বললাম যুদ্ধে হেরে গিয়ে ফ্রেঞ্চদের ব্রিটিশ জাহাজে করেই দেশে ফিরতে হয়েছিল। তো এই জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন জেনারেল হাচিনসন। ইনি একটা অদ্ভুত জেদ করে বসেন। তার হাতে পাথরটা দিয়ে তবেই ফ্রেঞ্চরা জাহাজে উঠতে পারবে। তার আগে না। হাচিনসনের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না এই পাথরটার ব্যাপারে। শুধুমাত্র চকচকে কালো রঙের জন্য ইনি প্রায় জোর করেই রোসেটা স্টোনকে কেড়ে নেন ফ্রেঞ্চদের কাছ থেকে। তাই এই পাথরের ঠাঁই হয় ইংল্যান্ডে। ইজিপশিয়ান ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যান্টিকুইটি এখন অনেক চেষ্টা চালাচ্ছে পাথরটাকে মিশরে ফেরত আনার। কিন্তু মিউজিয়াম কতৃপক্ষ একটা অদ্ভুত যুক্তি খাড়া করেছে। পাথরটাকে ওরা মিশরের মাটিতে পায়নি, পেয়েছে ফ্রেঞ্চ সৈন্যদের হাত থেকে। তাই মিশরে ওটাকে ফেরত পাঠাবার কোন প্রশ্নই ওঠে না।

– ঠিক এমনটাই আমাদের কোহিনুরের সাথেও হয়েছে তাই না?

– একদম তাই, কোহিনুরের মতই রোসেটা স্টোনও যে তার উৎসে কোনদিন ফিরতে পারবে বলে মনে হয় না।

– তাহলে এই পাথর থেকে হায়রোগ্লিফের রহস্যের সমাধান হয়েছিল কি?

– সেটা হয়েছিল, কিন্তু তাতে লেগেছিল আরো ২৩ বছর! আর যে লোকটা হায়রোগ্লিফের মানে উদ্ধার করেছিলেন সে কোনদিন পাথরটাকে নিজের চোখে দেখার সুযোগও পাননি!

– বলেন কি?!

– হ্যাঁঁ ভাই। ইতিহাস বার বার আমাদের অবাক করে , তাই না!

(চলবে)

————————————————————————————————————–

লেখক- অনির্বাণ ঘোষ

Leave a Reply