আমি সে এবং অপর একটি মাত্রা

Friends, Ideas, Journey, Love Story, Short Story, Technology, Thriller, বাংলা

খুব টায়ার্ড লাগছে কেন রে বাবা আজ? দুপুরে ঘুমোলাম তো অনেকটা। রাত যদিও বেশ হয়েছে, যাই ওয়াশ রুমে গিয়ে চোখ মুখে একটু জল দিয়ে ওয়ার্ডে একটা রাউন্ড মেরে আসি। নার্সিং স্টেশন থেকে একটু আগেও তো হাহাহিহি ভেসে আসছিল। বেশ ভালই আছে ওই সাউথ ইন্ডিয়ান মেয়েগুলো। ইডলি ধোসা খেয়ে নিজেদের নিয়ে ট্যান্ডাই ম্যান্ডাই ভাষায় গল্প গাছাতেই মত্ত। পেশেন্টের কন্ডিশন একটু খারাপ হলেই কি নার্ভাস হয়ে ম্যাম ম্যাম বলে ছুটে আসবে। তখন মেজাজটা গরম হয়ে যায়। বেশি করে মনে পড়ে মেডিক্যাল কলেজের সাদা শাড়ি পড়া চেহারা গুলো। চরম পর্যায়ে মাথাটা ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল রেখে সব রকমের সিচুয়েশন হ্যান্ডল করতে ওনারা একদম পারফেক্ট। স্যাররা না থাকলেও কল বুক পাঠিয়ে দিয়ে নিজেরাই ইমিডিয়েট পেশেন্ট বা পার্টি ডিল করতে পারত। আমাদের জুনিয়রদের বেশি চাপও নিতে দিতনা।

যাকগে আজ আমার মেডিসিন ওয়ার্ডে তেমন কোন সিরিয়াস কেস নেই, একমাত্র ওই ৯০৭ টার সোডিয়াম পটাশিয়াম লেভেল টা দেখে নিলেই হবে। সার্জারি বা গাইনি থাকলে জাস্ট আমার মরে যেতে ইচ্ছা করে। কথায় কথায় স্পেশালিষ্ট কে ফোন করে আপডেট দিতে হয় বা লেবার অ্যাটেন্ড করতে হয়। তখন আবার অ্যানেস্থেসিস্ট বা গাইন্যাক আর পিডিয়াক কে সাধ্যসাধনা করে অঞ্জলি দিয়ে ডেকে আনো রে, পার্টিকে ফোন কর রে, হরেক রকমের হ্যাপা। সেই সময়ে মম ড্যাডের ওপর খুব রাগ হয়। কেন রে বাবা, নিজেরা ডাক্তারি করছ কর না, আমাকেও ঠেলে ঠেলে না পাঠালেই কি হচ্ছিল না? এখন আবার পিজি এন ই ই টির জন্য পড়তেও হচ্ছে। উফ আর বেশি পড়াশুনো করতেও ভাল লাগে না। সেই নার্সারি থেকে শুরু……

পনিটেল টা খুলে একবার চুলটা ব্রাশ করে টেনে বেঁধে নি বরং। টুং করে একটা হোয়াটসআপ মেসেজ ঢুকল। কে আবার, উনি ছাড়া। চেক ইওর মেল। উফ, পারিনা। কত প্রেম। সারাদিন ভাল করে কথাই হয়নি আজ। কিসের এত ফিজিক্স করছে কে জানে। এখন মনে হয় ওই প্রথম দিকের দিনগুলো সবচেয়ে ভাল ছিল। সেই টুয়েল্ভের পর বৈঠকখানা বাজারের মধ্যের কলেজেটাতে ফিজিক্স অনার্স নিয়ে অ্যাডমিশনের দিন প্রথম দেখি ওকে।

অ্যাপ্রোচটাই সো ন্যাস্টি ওইখানকার। বাজারের মধ্যে খাড়াই বিল্ডিং উঠে গেছে। প্রথম দিন গিয়ে কান্না পেয়েছিল। কিন্তু ওই যে, প্রেসি জেভিয়ারস জেইঊর জন্য যা প্রয়োজন অতটা মার্কস ছিলনা আমার। কাউন্সেলিং এ একদম প্রথম ক্যান্ডিডেট ছিল সে। প্রথমদিন কেন জানিনা বেশ আনইম্প্রেসিভ ই লেগেছিল। লম্বা, হুইটিশ কমপ্লেক্সন, ঝাঁকড়া চুল। জামাকাপড়ের তেমন কিছু বাহার নেই, কিন্তু একদম প্রথম ক্লাসেই যাকে বলে কিনা ক্লিন বোল্ড হলাম। মাই গড। কি ব্যারিটোন ভয়েস। হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট ক্লাসিকাল মেকানিক্স ইন্ট্রোডিউস করছেন। তাঁর সাথে রীতিমত পাল্লা দিয়ে আলোচনা করে গেল। ফাইনম্যান লেকচারস গুলে খেয়েছে মনে হয় প্লাস টুর পর। শুধু স্যার নয়, আমরা গোটা ক্লাস ইম্প্রেসড। পরের ক্লাসগুলোতেও সেই একইরকম। যখন হেঁটে আসত আনমনে, ওই লাইব্রেরীর পাশের করিডোর দিয়ে ফার্স্ট ফ্লোরের সেমিনার রুমে, মনে হত যেন কত কত আলোকবর্ষ ধরে একরকম ভাবে চলে আসছে। চারপাশের কোন কিছুতেই যেন কিছু যাচ্ছে আসছেনা ওর… সুদুরের কোন একটা লক্ষের দিকে স্থিরভাবে একমনে চলা ছাড়া আর কিছুই যেন ওর করনীয় নয়। ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসীর মত, খুব কম কথা বলত সবার সাথে, আমরা বুঝে নিয়েছিলাম যে ও ঐরকমেরই। অহমিকা, নিজের ব্যাপারে তো একদমই ছিলনা। কেউ কোনো প্রব্লেম দিলে খুব যত্ন নিয়ে কষে বুঝিয়ে দিত। প্রফেসররাও খুব ভালবাসতে লাগলেন। আর ফিফথ সেপ্টেম্বর টিচার্স ডে কাম ফ্রেশারস ওয়েলকামে গিটার নিয়ে ডিপার্টমেন্ট মাতিয়ে দিল যখন, বুঝতে পারলাম, ভালরকম ভাবে ফেঁসে গেছি আমি নিজে।

ওইসব ন্যাকামি করে রোজ ডে, প্রপোজ ডে, টেডি ডে, চকোলেট ডে হয় নি আমাদের। কবে কিভাবে দুজনে মিশে গেছি বুঝতেই পারিনি। প্ল্যানমাফিক কলেজ স্কোয়ার, হেদুয়া, মিলেনিয়াম বা ইকো পার্ক অল্প স্বল্প, আমারও বাড়ীর চাপে নেক্সট ইয়ারে আবার মেডিক্যাল এন ই ই টি তে বসার মধ্যে, ধাক্কাটা লাগল যখন কাউন্সেলিং এর পর দেখলাম আর ওই কলেজে যাচ্ছি না, পাশাপাশি বসে অনার্স ক্লাস বা ল্যাব করছি না, লাইব্রেরী যাচ্ছি না, ভিডিও লেকচার দেখে দেখে একসাথে পড়ছিনা, প্রব্লেমস কষছিনা …অ্যানাটমি ফিজিওলজি বায়োকেমিস্ট্রির চাপে প্রায় ভুলতে বসেছি ম্যাথেমেটিকাল ফিজিক্স মেকানিক্স ওয়েভ অপটিক্স থার্মাল কে।

ওর সাথে রিলেশনশিপ টা কিন্তু রয়েই গেল কেমনভাবে। কিছুটা জুকারদাদার জন্যও বটে। সারা সপ্তাহে একবার আমরা বেরোই। এই কয় বছরে কলকাতার সমস্ত অলিগলি চষে ফেলেছি। প্রধান বক্তা অবশ্যই আমি নিজে, ও শুধু ঘাড় নেড়ে নেড়ে প্রায় স্পন্ডিলাইটিস বাঁধিয়ে ফেলেছে। কথা যদিবা কিছু বলত, তা হল ফিজিক্স নিয়ে। নতুন কিছু পড়লে, সেটা আমাকে পুঙ্খানুপুঙ্খ না বোঝানো অব্ধি ওর শান্তি নেই। আমার তো মনে হয়, না পড়ে শুধু শুনে শুনে এত ফিজিক্স জানার জন্য আমার একটা অনারারি মাস্টার্স ডিগ্রী অন্তত প্রাপ্য ছিল। মাঝে মাঝে গিলটি ফিলিং যে আসেনা তা নয়। অনার্সে অত ভাল মার্কস, অল ইন্ডিয়া জ্যাম-জেস্টে ওপরের দিকে র‍্যাঙ্ক, টি আই এফ আর বা আই আই এস সি পেয়েও শুধু আমায় ছেড়ে থাকতে পারবেনা বলে এই কলকাতাতেই ইন্টিগ্রেটেড পি এইচ ডি তে ঢুকল। আমি অবশ্য থ্রেটেন করে রেখেছি, পোস্ট ডক্টরাল টা বিদেশে করতেই হবে। তাতে ওই ফুলফ্রেমের ব্লু চশমার ভিতর থেকে সেই বিখ্যাত চোখে তাকিয়ে এমনভাবে হাসল…আর ওই গালের ডিম্পল দুটো। ঊফ। আমি ভাবি, আমি নিজে পারব তো? অবশ্য স্কাইপ টাইপ আছে। কিন্তু ওই ঘাম ডিও আর সিগারেট মেশানো গন্ধটা পাব কি করে জানিনা।

হোয়াটসোএভার, মাথাটা জ্যাম হয়ে যাচ্ছে কেমন। উঠি একবার। এই নাইট শিফট গুলো বড্ড বোরিং লাগে মাঝে মাঝে। জানালার কাঁচের ওপারে ছড়িয়ে আছে আলো মাখানো বাইপাস। হুস হুস করে ছুটে যাচ্ছে গাড়ি। এইমাত্র একটা অ্যাম্বুলেন্স প্যাঁ প্যাঁ করতে করতে ঢুকল হসপিটালে। পিছনে পুলিশের গাড়ি একটা। নিশ্চই মাতলামি করে অ্যাক্সিডেন্ট কেস আবার এলো এমারজেন্সির ঘুম ভাঙ্গাতে।
ওনার মেল্ টা একবার চেক করা যাক। ল্যাপটপ টা প্লাগ ইন করলাম। নিয়ে আসি রোজ পড়াশুনো করব বলে, কিন্তু তা আর হয় কই। ল্যাদ খেতে খেতেই আমার জীবন টা যাবে, এমডি এম এস আর হচ্ছেনা কপালে। দেখি কি পাঠালো। এটা তো একটা গেম লিঙ্ক। “প্রেস দিস বাটন অ্যান্ড গেট টেলিপোর্টেড টু অ্যানাদার ডাইমেনশন বিয়ন্ড রিয়ালিটি থ্রু অ্যা সেলফ ট্রিগারড ভারচুয়াল এক্সপ্লোশন। “ ও… আজকাল রিসার্চ ছেড়ে এইসব হচ্ছে বুঝি ? স্টিফেন হকিং রজার পেনরোজ নিয়ে ছেলেখেলা? দাঁড়া, উইকএন্ড টা আসুক, এইসান ধুচুনি দেব না, যাকে বলে ওই শান্তিপুরী ধোপার পাটে আছাড় মেরে আড়ং ধোলাই , মজাটি টের পাবে বাছাধন। ডিসগাস্টিং লাগে আমার এই ঢপের চপ মোবাইল আর কম্পিউটার গেমস গুলো। মানুষকে একেবারে স্লেভ বানিয়ে ছাড়ে। আমার চেনাজানা অনেককেই দেখেছি, ভীষণ অ্যানসোশ্যাল হয়ে যাচ্ছে এইগুলোর খপ্পরে পড়ে।

রাউন্ড দিয়ে এসে বসলাম আবার। মুখে একটা গাম রাখি, ঘুমটা কাটবে। ওয়াশরুমের আয়নায় নিজের মুখটা দেখতে দেখতে ওর পি এইচ ডি সুপারভাইজার স্যারের কথা মনে পড়ল হঠাত করে। কেমন যেন গৌতম বুদ্ধ মার্কা শিবনেত্র টাইপের চোখগুলো। আদ্যপ্রান্ত সাধুসন্ন্যাসী টাইপের মানুষ। ওর সিঙ্গেল অথারশিপে একটা পেপার ফিজিকাল রিভিউ লেটারস এ অ্যাক্সেপ্ট হওয়ার পর উনি ট্রিট দিয়েছিলেন আমাদের দুজনকে। শুনেছি ওনার পড়াশুনো প্রায় পুরোটাই বিদেশে। অ্যাসট্রোফিজিক্স কসমোলজির লোকজন একডাকে চেনে ওনাকে।

গেমটা এখনো খোলা ল্যাপটপে। একবার বাটনটা টিপে দেখাই যাক কি হয়। ব্যাস, ডান। একি, লোডশেডিং হল নাকি? চারদিকটা কাঁপছে মনে হচ্ছে। ইলেক্ট্রিকাল স্টাফ জেনারেটর অন করেনি এখনো। বাইপাস ঘুটঘটে অন্ধকার। মাথাটা এমন ঘুরছে কেন? উফ মাগো… সিস্টার, সিস্টার…… নিজের গলাটাই শুনতে পাচ্ছিনা যে। কি হল আমার? ব্ল্যাক আউট হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ……মাথাটা খালি…

এই তো আলো দেখতে পাচ্ছি মনেহচ্ছে। বাবা কি ঘুমটাই না দিলাম। কেউ ডাকেওনি। কিন্তু জায়গাটা এমন অচেনা লাগছে কেন? জানালা দিয়ে একটা ফ্লাইওভার দেখা যাচ্ছে, প্রচুর গাড়ি, ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুর, আরে এটা তো পিজি হসপিটাল। বাইপাস থেকে এখানে কি করে এলাম রে বাবা। আমি ওপরে ভাসছি কেন? কে যেন কাঁদছে জোরে জোরে। ওই টেবিলে কি হচ্ছে? দীপ্র, দীপ্র …ফরেন্সিক মেডিসিনের পিজিটি, আমার ক্লাসমেট, কি বলছে ওই বয়স্ক ভদ্রলোকটি কে? ছিঁচকাঁদুনে স্বভাবটা আর গেলনা দেখছি। কলেজের সেই পাঁচ বছর ওর অসংখ্য ব্রেক আপের কান্নাসহ গল্প আমায় শুনিয়েছে। “স্যার …আমার বন্ধু……রাতেরবেলা সুপারস্পেশ্যালিটির ডিউটি থেকে হঠাত বাইপাসে বেরিয়ে আসে, একটা রানিং ট্রাক…উফ আমি ভাবতে পারছিনা স্যার…
বেডে ওটা কে? খুব চেনা নীল লিভাইস, সাদা ফ্লানেলের আরবান লেজেন্ডস শার্ট টা রক্তে মাখামাখি, হাতে ড্যাডের প্রেজেন্ট করা রাগা ঘড়ি টা পর্যন্ত…আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি? ওটা তো……লাল লাল চোখ মুশকো মত একটা ডোম টাইপের লোক বেডের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে জুলজুল করে তাকিয়ে আছে যে শরীরটার দিকে, ওটা আমার …

দৃশ্যটা দেখতে পারছিনা আর। বাইরে যাই। বেঞ্চে নির্জীব হয়ে শুয়ে আছে মম। পাশে পাথরের মত মুখ করে বসে থাকা ড্যাড জড়িয়ে ধরে কে কি যেন বলছে পিকলুদা। ছোটবেলায় হাল্কা করে ক্রাশ খেতাম যাকে দেখে। চোখে পড়ার মত হাইট, চশমা, পড়াশুনোয় ভাল, তুখোড় রেজাল্ট হায়ার সেকেন্ডারি আর জয়েন্টে, ইঞ্জিনিয়ারিং, কগ্নিজেন্ট, বর্তমানে ইংল্যন্ড বাসী। কলকাতা এল কবে?
ওই তো দূরে বসে আছে সবাই। দুই বছরের সিনিয়র গ্যাস্ট্র-এন্টেরিক সার্জেন, পিকলুদার অভিন্নহৃদয় বন্ধু অনির্বাণদা, সৌম্য আর অনন্যা, অনীক আর নীলাঞ্জনা, অর্ক আর জ্যোতি …আমার ক্লাসমেট রা। পরের পর গাড়ি ঢুকছে এস এস কে এমের গেট দিয়ে। সব্বাই আমার চেনা, খুব ভালবাসে ওরা সবাই আমায়। সবার চোখে জল। আমার জন্য । শুধু ওকে দেখতে পাচ্ছিনা কোথাও।

বিদ্যুতের মত হঠাত মাথায় এল… ও-ই বলেছিল কোনদিন গল্প করতে করতে বিষয়বস্তুটা। ম্যাস বা ভর বা এনার্জি আশপাশের স্পেস টাইমকে দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মানে ওর পাঠানো গেম টার বাটন প্রেস করা মাত্র ভারচুয়াল এক্সপ্লোশন প্রচুর এনার্জি রিলিজ করে একটা ওয়ার্মহোল বানিয়ে দিয়েছিল আমার জন্য। তা আমার এত বড় উপকার টা করে তিনি গেলেন কোথায়? ওই তো মনে হয় দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু জায়গাটা বড্ড ঘিঞ্জি। কোথায় রে বাবা? নির্ঘাত নর্থ কলকাতা। আমার আবার ওই পাঁচমাথার ভয়ঙ্কর ঘোড়াটার দিকে তাকালেই শরীর টা কেমন খারাপ খারাপ লাগে। বলেছিল যেন কার সাথে দেখা করতে যাবে, ওর বাবার ইনকাম ট্যাক্স লয়্যার। আচ্ছা আজ কত তারিখ যেন? মার্চের একত্রিশ, ফিনান্সিয়াল ইয়ার এন্ড।

একটা কান ফাটানো আওয়াজ পেলাম। হাঁ করে দেখলাম, একদম আমার সামনে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ছে একটা অর্ধেক তৈরি ফ্লাইওভার। চারদিকে আর্তনাদ, কান্না, চিৎকার, রক্ত, ভিড়, ঠেলাঠেলি, পুলিস গাড়ির সাইরেন। ও কই ? পাগলের মত খুঁজছি। দেখতে পেলাম অবশেষে। একটা ফাঁকা মত জায়গায় একা দাঁড়িয়ে। মুখটা ম্লান। হয়ত আমার খবরটাই পায়নি এখনো। ছুটে গেলাম, ইম্মিডিয়েটলি নিড টু হাগ হিম ওয়ান্স। আমায় দেখতে পেল। শুধু ওই পেল, একা। যখন জড়িয়ে ধরলাম, বুঝতে পারলাম মাথার পিছনটা, পিঠ থেকে গলগল করে ব্লিড করছে। আমার কানের কাছে মাথাটা এনে শুধু সেই বিখ্যাত ভয়েস, ওয়েলকাম, টু দ্য এক্সট্রা ডাইমেনশন। তোকে ছেড়ে একা থাকতে পারতাম না রে। আই হ্যাড টু……কোডিং টা কেমন করেছি শুধু বল।

~~~♣ সমাপ্ত ♣~~~

লেখক ~ পার্থ ঘোষ

ছবি ঋণ ~ গুগল

Leave a Reply