মানিকের পাঁচালী ~ পর্ব ৭ ~ বড়ই সুখের দিন

Anirban & Arijit, Biography, বাংলা, মানিকের পাঁচালী

আগের সব পর্ব পড়ুন এখানে

চৌরঙ্গীর ব্যস্ত রাস্তা। অফিসটাইমের ভিড় শুরু হয়ে গেছে সকাল থেকেই। বাসে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়াই যেখানে ভাগ্যের ব্যাপার, সেখানে আরাম করে বসে জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করার মতো সময় বাঙালির নেই। কিন্তু আজ এই মোড়েও কিন্তু চোখ আটকে যেতে বাধ্য হচ্ছে বারবার। রাস্তা পার হওয়ার সময়েও অনেকে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছে সামনের চারতলা বাড়ির মাথার দিকে তাকিয়ে। মাঝে মাঝে কয়েকজন সেদিকে তাকিয়েই নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে বোঝার চেষ্টা করছে ব্যাপারখানা।

সবার চোখ উঁচু বাড়ির মাথায় লাগানো বিলবোর্ডের দিকে। একটা কুড়ি ফুট বাই আট ফুটের প্রকাণ্ড ডিসপ্লে তে বর্ষাকালের কালো বিশাল একখানা মেঘের ছবি। আর সেই মেঘের নিচেই ছুটন্ত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে একটা বাচ্চা ছেলে আর মেয়ে। দুটো মাত্র শব্দ লেখা আছে তার তলায়।

পথের পাঁচালী!

||

– মানিক দা, মুক্তির দিন তো এগিয়ে আসছে। আপনার ডিজাইন করা পাঁচখানা বিলবোর্ড নিয়ে কিন্তু মানুষের মধ্যে বেশ কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

– হবেই তো অনিল, শুধু নাম ছাড়া আর কিছুই লেখা নেই যে। যাকগে, কোন কোন হলে অরোরা ডিস্ট্রিবিউট করছে লিস্ট পেলে?

– দক্ষিণ, মধ্য আর উত্তর কলকাতায় সিনেমা হলগুলোর একটা নির্দিষ্ট চেনে ওরা দেবে বলেছে। বসুশ্রী আছে এদের মধ্যে।

– মনে রেখো, বিধানবাবুকে একবার ইনভাইট করে দেখাতে হবে। রিলিজের পরেই ব্যবস্থা করা যাবে খন।

দুটো মাস যে কোথা দিয়ে কেটে গেল বোঝাই গেল না। আসলে ব্যস্ততা আর চাপা টেনশনের মধ্যে সময়জ্ঞান রাখা শক্ত হয়ে পড়ে। মানিকের ঘাড়ে ব্যথাটাও ইদানীং বেড়েছে আগের থেকে। এদিকে রিলিজের কয়েকদিন আগেই একটা খারাপ খবর এসে গেল। পড়ে গিয়ে হিপবোন ভেঙেছে চুনিবালা দেবীর। মানিক গোটা দল মিলে চুনি দির বাড়ি গিয়ে দেখা করে এল, সাথে ডাক্তার ওষুধ সবকিছুর ব্যবস্থাও করে দিল কয়েকজনকে বলে। খুব একটা চিন্তার কিছু নেই, তবে এই বয়সে পড়ে যাওয়া খুব একটা ভালো নয়।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে এল সেই দিন। ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে হয়েছিল প্রথম শুট। আর আজকে ২৬শে অগস্ট, ১৯৫৫, সেই “পথের পাঁচালী”-র মুক্তি। তিন বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর পদে পদে বাধা বিপত্তি এড়িয়ে আজ প্রথম সন্তানের জন্মদিন।

ছোট সন্দীপের আজ আর আনন্দ ধরে না। দু বছর বয়সেই মা বাবার সাথে প্রথমবার হলে সিনেমা দেখতে যাবে। সকাল থেকেই বায়না ধরেছে, “মা, অপু দেখব চলো।” বসুশ্রী হলেই যাওয়া হবে ঠিক করেছে মানিক। ওকে একটু আগেই চলে যেতে হয়েছে আজকে। বাবু, মানে সন্দীপকে নিয়ে বিজয়া যাবে শো শুরু হওয়ার একটু আগে।

মানিকের আর বিজয়ার বাড়ির অনেক আত্মীয়রাও আজ সবাই আসবে বসুশ্রী তে। একদিকে টেনশনও হচ্ছে, আবার ভেতর ভেতর একটা উত্তেজনাও রয়েছে। বিজয়াই একমাত্র জানে মানিকের কাছে এই ছবি কতোটা মূল্যবান। তবে এও জানে যে মানিক শুধু আশাবাদীই নয়, ও মন থেকে নিশ্চিত যে এই ছবি সকলের ভালো লাগবে। অ্যাডভার্টাইজিং ক্লাবের ঘটনাটাই যা একটু উদ্বেগজনক, তবে তার পিছনে অনেক ফ্যাক্টর ছিল, এখানে সে সব সমস্যা হবে না।

অবশেষে তৈরি হয়ে বাবু কে নিয়ে বিজয়া উঠল গাড়ি তে। বসুশ্রীর সামনে যখন গাড়ি এসে থামল, তখন সিনেমা সবে শুরু হয়েছে। হলের কর্মচারীরা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে দুজনকে অভ্যর্থনা করে নিয়ে গেলেন দোতলায় আলাদা বসার জায়গায়। মানিক বসেছিল সামনে। বিজয়া দের আসতে দেখেই উঠে চলে এল পিছনে। ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,

– আসতে কোনও অসুবিধে হয়নি তো?

– না না, তবে শেষ হওয়ার একটু আগেই বেরিয়ে যাব, নয়তো বাবুকে নিয়ে ফিরতে সমস্যা হবে।

– হ্যাঁ, ঠিক আছে। অনেক লেখক, সমালোচক আর ফিল্মের লোকজন এসেছেন। কথা হল অনেকের সাথেই শোয়ের আগে, তবে শেষ হলে রেজাল্ট জানা যাবে। বাবু কি বলছে?

– ও তো ওর অপু কে পেয়ে গেছে, দেখো না হাঁ করে তাকিয়ে আছে।

– হা হা, দেখো তোমরা বসে, আমি সামনে গেলাম।

সিনেমা চলতে লাগল। আশেপাশে বসে থাকা চেনা অনেকজনের মুখের অবস্থা এর মধ্যেই লক্ষ্য করেছে মানিক। দুর্গার মৃত্যুর খবরে হরিহরের বিলাপের সিনেই চোখ লাল হয়ে গেছিল অনেকের।
গরুর গাড়ি তে করে হরিহর, সর্বজয়া আর অপু গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে কাশীর উদ্দেশ্যে। শেষ সিন। টাইটেল কার্ড দেখানোর কয়েক সেকেন্ড আগে থেকেই শুরু হল হাততালি। আস্তে আস্তে হলের এক কোণা থেকে আর এক কোণায় ছড়িয়ে পড়ছে সমবেত সেই হাততালির ঝড়। সবাই দাঁড়িয়ে উঠেছে নিজের সিটের সামনে। হলের আলো জ্বলে উঠতেই মানিককে ঘিরে ফেলেছে অল্পবয়সী সব ছেলেমেয়ে। কেউ ছুঁতে চায়, আবার কেউ চায় অটোগ্রাফ। এই ভিড়ের মধ্যেই প্রচার দপ্তরের মিস্টার মাথুর কাছে এসে একগাল হাসি দিয়ে মানিকের হাত ধরে ঝাঁকাতে শুরু করলেন। ভদ্রলোক মনে হয় এবার বুঝতে পেরেছেন যে সরকার যা টাকা ঢেলেছে, তা এবার দ্বিগুণ হয়ে ফিরতে চলেছে। হাততালি এখনও চলছে, ক্রমে যেন আরও বাড়ছে। হলের দরজা খুলে গেছে, কিন্তু ভিড় তো মানিকের দিকেই এগিয়ে আসছে। এ জিনিস তো মানিকের কাছে অচেনা, অজানা। মানিকের মুখে হাসি, হাত আপনা হতেই হ্যান্ডশেকের জন্য এগিয়ে যাচ্ছে, কেউ খাতা পেন বাড়িয়ে দিলে তাতে সইও করে দিচ্ছে, কিন্তু ওর মন এখন অন্য কোথাও। পেরেছে,… সে পেরেছে মানুষের মন জয় করতে। সে পেরেছে বাংলা সিনেমার চেনা গতে বাঁধা ছককে ভেঙে তছনছ করে দিতে। সে পেরেছে ভারতবর্ষের একটা প্রত্যন্ত গ্রাম্যজীবনের ছবি এঁকেও দর্শকদের হাততালি কুড়িয়ে নিতে।

সে পেরেছে মানিক থেকে সত্যজিৎ রায় হয়ে উঠতে!

||

একেই বলে বক্স অফিস হিট!

প্রথম দু সপ্তাহের দুর্দান্ত ওপেনিং এর পর তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই তিনটে হলে হাউসফুল শুরু হলো সবকটা শো তেই। ছয় সপ্তাহের অগ্রিম বুকিং নিয়ে রেখেছে অরোরা ফিল্ম কর্পোরেশন। তবে যে হারে চলছে, তাতে ছয় সপ্তাহের পরেও বেশ ভালো চাহিদা থাকবে। কিন্তু মুশকিল শুধু এক জায়গায়। সাউথের বিখ্যাত পরিচালক এস এস ভসনের “ইনসানিয়ত” মুক্তি পাবে ঠিক এর পরেই একই চেনে। দেব আনন্দ, দিলীপ কুমারে ছবি, তাই ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই। তবে অনিল গিয়ে অরোরার সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে যে ওরা অন্য চেনে “পথের পাঁচালী” কে আরও সাত সপ্তাহের জন্য বুকিং করার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে এর মধ্যেই। জাঁকজমকের হিন্দী ছবির ভিড়েও অনেকদিন পর মানুষ আবার বাংলা ছবির দিকে ঝুঁকেছে, তাই ব্যবসা বুঝে নিতে ওরা ওস্তাদ।

ছয় সপ্তাহ পরে যেদিন অন্য সব থিয়েটারে “পথের পাঁচালী” রিলিজ হলো, তার ঠিক পরের দিন ভোরবেলা নাগাদ বাড়ির কাজের লোক এসে মানিক কে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলল, “দাদা, একজন ভদ্রলোক এসেছে আপনার সাথে দেখা করতে। আমি বসিয়েছি বাইরের ঘরের সোফায়।”

– নাম কি বললেন?

– বললেন কিছু একটা, ভাষাটাই বুঝতে পারলুম না। ধুতি পরে আছেন, কিন্তু অদ্ভুতভাবে।

– আচ্ছা, তুমি কফির ব্যবস্থা করো, আমি আসছি।

ভদ্রলোক চুপ করে সোফাতেই বসেছিলেন। মানিক কে দেখেই দাঁড়িয়ে উঠলেন। ধুতি পরার ধরন দেখে সাউথ ইন্ডিয়ানই মনে হচ্ছে।

– আপনিই কি মিস্টার সত্যজিৎ রায়?

– হ্যাঁ।

– আমার নাম এস এস ভসন। আমি “ইনসানিয়ত” ছবির পরিচালক।

– আরে! এ তো আমার পরম সৌভাগ্য যে আপনি আমার বাড়িতে এসেছেন। বসুন বসুন। আমাকেই একবার খবর দিতে পারতেন, আপনি এতদূর আসতে গেলেন কেন?

– কারণ তো আপনিই!

– সেকি! কেন বলুন তো?

– গতকাল রাতে আপনার ছবিটা আমি দেখে এসেছি। আগে যদি জানতে পারতাম যে অমন ছবিকে সরিয়ে দিয়ে তার জায়গায় আমার ছবি দেখানো হবে, তাহলে আমি “ইনসানিয়ত” এর মুক্তির দিন পিছিয়ে দিতাম। সত্যিই একটা মহৎ ছবি আপনি তৈরি করেছেন!”

||

কাগজে কাগজে প্রশংসায় ভরে যাচ্ছে রোজ। অর্থের অভাবে সাবটাইটেল করা যায়নি, কিন্তু সাবটাইটেল ছাড়াই ভারতের অন্য অনেক শহরেও এই ছবি দেখানো শুরু হয়েছে। একইরকম ফিডব্যাক আসছে সেইসব জায়গা থেকেও। দর্শকদের বুঝতে কোনও অসুবিধাই হচ্ছে না।

প্রশংসার সাথেই লেগে রয়েছে সম্বর্ধনার ঠেলা। তবে শুধু মানিককেই নয়, সাথে ইউনিটের সবাই আর অভিনেতা অভিনেত্রীদেরও সম্মান জানাচ্ছে নানানরকম সংস্থা। কখনও সেটা প্রকাশ্যে, আবার কখনও ঘরোয়া। সেনেট হলের সম্বর্ধনা সভা মনে রাখার মতো। মিস্টার মাথুরও সেখানে একটা পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন। ভদ্রলোক খুব খুশি।

কিন্তু বিজয়ার এখন চিন্তা বাড়ল। গতকালই ডাক্তারকাকুর কাছে নিয়ে গেছিল মানিককে বেশ জোর করেই। উনি দেখে বললেন, “এবার একটু সাবধানে থাকতে হবে তো মশাই। হাই প্রেশার ধরিয়ে ফেললেন এই বয়সেই!” নিজে থেকে কোনওদিন ওষুধ খাওয়ার অভ্যেস নেই। মুখের সামনে ধরে মনে করিয়ে দিলে তবেই খায় মানিক। সিনেমা সংক্রান্ত টেনশন থেকেই এই রোগের উৎপত্তি এমনটাই অনুমান ডাক্তারকাকুর।

তবে এসবের মধ্যেই মানিক ভোলেনি চুনিবালা দেবীকে। ১৬ মিলিমিটারের একটা স্পেশাল প্রিন্ট বানিয়ে তার বাড়ি গিয়ে পুরো সিনেমা দেখিয়ে এসেছে মানিক। চুনিদির আনন্দ আর ধরে না। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরেই মানিক দেখে বছর পঁয়তাল্লিশের এক বিদেশি ভদ্রমহিলা এসে চুটিয়ে গল্প করছেন বিজয়ার সাথে। হাসি ঠাট্টা সবই চলছে। মানিক কে দেখেই ভদ্রমহিলা উঠে দাঁড়ালেন। মানিকও সঙ্গে সঙ্গে হাত দেখিয়ে বলল,

– আরে আরে, প্লিজ বসুন।

– আপনার সাথে দেখা করার খুব ইচ্ছে ছিল। আজ আমার সেই শখ মিটল মিস্টার রে। দিল্লীতে একটা এগজিবিশানে আপনার “পথের পাঁচালী” দেখলাম। মন ভরে গেল বিশ্বাস করুন। তখনই ঠিক করলাম কলকাতায় এসে আপনার সাথে একবার দেখা করতেই হবে। আর আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার সুন্দরী স্ত্রীর সাথে আমি জমিয়ে গল্প জুড়ে দিয়েছিলাম। আপনি খুব লাকি বিজয়ার মতো স্ত্রী পেয়েছেন।

পাশ থেকে হাসতে হাসতে বিজয়া বলল,

– তুমি কি চিনতে পেরেছ এনাকে?

– না, সরি, আসলে….

– তোমার ফেভারিট ম্যাগাজিন “সাইট অ্যান্ড সাউন্ড”-এর মেরি সেটন কে মনে আছে?

– মাই গড! হাউ ক্যান আই ফরগেট হার!

– ইনিই মেরি!

মানিকের চোখদুটো খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। যে প্রাক্তণ ব্রিটিশ অ্যাকট্রেস আর ফিল্ম ক্রিটিকের লেখা এতদিন প্রায় গিলত মানিক, আজ সে সামনেই বসে।

– আমি অভিভূত মেরি আপনার সাথে সাক্ষাৎ হয়ে।

– এই আনন্দ আমার মিস্টার রে। আমার বাবা ব্রিটিশ আর্মির হয়ে আফ্রিকা আর ভারতে অনেকদিন ছিলেন। সেই সূত্রে আমিও ভারতের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। তবে এবারে দিল্লীতে এসেছিলাম সারজেই আইজেনস্টাইনের চলচ্চিত্রের ওপর কিছু বক্তৃতা দিতে। ওনাকে নিয়ে একটা জীবনীও লিখছি আমি।

– আমি বিশাল ফ্যান আইজেনস্টাইনের। “সাইট অ্যান্ড সাউন্ড”-এও ওকে নিয়ে আপনার আর্টিকেল আমি পড়েছি। সত্যি বড় মাপের পরিচালক।

বিজয়া উঠে পড়ল কথার মাঝে। বলল কফি আনতে যাচ্ছে সবার জন্য।

– আপনি এবার বলুন “পথের পাঁচালী” আপনার ঠিক কেমন লাগল? একেবারে ফিল্ম ক্রিটিকের মুখেই শুনি তার অভিজ্ঞতা।

– বিশ্বাস করুন, আপনার বাড়িতে বসে বলছি বলে নয়, এমন নিখুঁত যত্ন নিয়ে তৈরি করা ছবি আমি শেষ কবে দেখেছি মনে করতে পারছি না। দারিদ্র্যের স্বচ্ছ অথচ সুন্দর প্রতিচ্ছবিকে এমন জীবন্ত ভাবে ফুটিয়ে তুলে আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ আপনার কাছে।

– অনেক ধন্যবাদ। তবে এই একই কারণে জনাকয়েক মন্ত্রী আমার ওপর বেশ খাপ্পা হয়ে আছেন।

– আমি তাহলে দিল্লীতে থাকাকালীন ভুল শুনিনি মিস্টার রে। আমিও বলতে শুনেছি অনেককে যে আপনি নাকি ভারতের দারিদ্র‍্য বেচতে চাইছেন বিদেশের বাজারে। আপনি যদি কিছু মনে না করেন, তাহলে আমি আপনার ছবির স্বপক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সওয়াল করতে প্রস্তুত।

– ধন্যাবাদ। আমার কোনও আপত্তি নেই। এতে বরং কিছু ভিত্তিহীন সমালোচনা কমবে।

– আমি আজই চিঠি লিখব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। ছবিটার প্রভূত প্রশংসা তো থাকবেই, সাথে এও লিখব যে এই ছবি বিদেশে দেখানোর সত্যিই প্রয়োজন রয়েছে।

||

মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় যখন হল থেকে বেরোলেন, ওনাকে দেখে বেশ প্রসন্নই মনে হল।

– বুঝলে সত্যজিৎ, বড় ভালো বানিয়েছ এই সিনেমা। চোখে জল এনে দিলে।

– আপনি পাশে না দাঁড়ালে সম্ভব হত না এই কাজ।

– আমি নিজেও গর্বিত তোমাকে সাহায্য করতে পেরে। মাথুর বলছিল আমাকে যে ছবি নাকি দারুণ ব্যবসা করছে। খাসা বানিয়েছ বলে কথা। তা, আর একখান কাজ করো দেখি।

– বলুন না।

– কয়েকমাস বাদে পন্ডিত নেহরু আসছেন কলকাতায়। পারবে ওঁকে একবার দেখাবার ব্যবস্থা করতে। আমিও থাকব তোমার সাথে। যা পারমিশন দরকার, আমাকে বলো।

– আলবাত পারব। এ তো বিশাল ব্যাপার!

– লেগে পড়ো তো দেখি। দেখা হবে আবার। তা হ্যাঁ, এর পরে কি করবে বলে ভাবছ?

– প্ল্যান তো অনেক, এখনও কিছু ফাইনাল তো করতে পারিনি। চাকরিও করতে হচ্ছে, সময় বার করাই তো বেশ শক্ত।

– আমার মন বলছে চাকরি আর তোমার দ্বারা হল না।

এই বলেই হাসতে হাসতে বিধানবাবু গাড়ি তে উঠে চলে গেলেন। মানিক কিছুক্ষণ ভাবল এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। চাকরি আর প্যাশন কি গুলিয়ে যাচ্ছে ওর জীবনে? এই সিদ্ধান্ত নিতে এতো অসুবিধা হচ্ছে কেন? যাকগে, সময়ই বলে দেবে কি আছে ভাগ্যে। তবে ভাগ্যকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা মানিকের বেশ ভালোই জানা আছে।

বিধানবাবুর অনুরোধ মতো কয়েকমাস পর লাইটহাউসের মিনিয়েচার হলে আয়োজন করা হলো “পথের পাঁচালী”-র এক স্পেশাল স্ক্রিনিং এর। মুখ্যমন্ত্রী তো আগেই খুশি হয়েছেন, এবার প্রধানমন্ত্রীর পালা। ঠিক সময়ে কনভয় এসে দাঁড়ালো হলের সামনে। একই গাড়ি থেকে নামলেন ডঃ রায়, পন্ডিত নেহরু আর তাঁর দুই বন্ধু। ঢোকার মুখেই বিধান বাবু মানিককে দেখেই আলিঙ্গন করে নেহরু কে দেখিয়ে বললেন, “এই সেই ছেলে পন্ডিতজী, কামাল করে দেখিয়েছে, আজ বুঝবেন।”

– নাইস টু মিট ইউ মিস্টার রে। আপনার অনেক সুনাম শুনেছি। নিউ ইয়র্কে এই সিনেমার উদ্বোধন তো আমাদের ভারতীয় সিনেমার জন্য খুব গর্বের খবর।

– থ্যাংক ইউ!

বিধান বাবু তার মাঝেই বললেন,

– পন্ডিতজী, আগামী বছর ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে এই সিনেমা পাঠানো নিয়ে অনেকে বাধা দিচ্ছেন। আপনি যদি একটু দেখে দেন।

– আগে চলুন সিনেমাটা দেখি।

ছোট হলে প্রাইভেট শো। তার ওপর সিকিউরিটির ছড়াছড়ি। আলো বন্ধ করে শুরু হল সিনেমা। নেহরু একমনে দেখছেন, আর মানিক ও বিধান বাবু মাঝে মাঝেই বাংলা ডায়লগের ইংরাজি অনুবাদ করে ফিসফিস করে নেহরুকে বলে চলেছেন। দুই কোণে বসা বডিগার্ডের চোখও একমনে পর্দার দিকে।

শো শেষ হতেই নেহরু বললেন বিধানবাবুকে,

– আপনার কাছে নাম আছে যারা বাধা দিচ্ছে এই ছবিকে ফ্রান্সে পাঠাতে?

– আছে তো, আপনাকে দেব।

– মিস্টার রে। আমি আপনাকে এখানেই বলে দিচ্ছি এই সিনেমা সামনের বছর কানে পাঠাবার ব্যবস্থা শুরু করে দিন। বাকি সবকিছু আমি সামলে নেব। দিস ইজ আ ফ্যান্টাসটিক মুভি আই হ্যাভ এভার সিন! আপনি একটা অসাধারণ কাজ করেছেন।

||

কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমা পাঠানোর তোড়জোড়ের মধ্যেই বেশ কয়েকটা ঘটনা ঘটে গেল যার জন্য মানিক একেবারেই প্রস্তুত ছিল না।

খবরটা অনিল দিল সকালে এসে। হাতে একটা খবরের কাগজ, ইংরাজিই হবে।

– মানিক দা, পড়ুন এই খবরটা।

মানিক কাগজটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগল। পুরোটা এক নিঃশ্বাসে পড়েই অনিলের হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলল,

– জাস্ট এক মিনিট দাও আমাকে, জামাটা গলিয়ে নিয়েই আসছি। তুমি গাড়ি তে বসো।

– আরে, কিন্তু যাবেন কোথায়?

– এই খবরটা যাঁর সবচেয়ে আগে পাওয়ার দরকার, তাঁকে দিতে যাব।

গাড়ি এসে থামল একটা পুরনো বাড়ির সামনে। যে মানুষটা এই বয়সে এমন একটা সম্মানের অধিকারী হতে পারেন, তাঁর শেষ সময়ে যাতে কষ্ট না হয় তার জন্য মানিক চেষ্টা করছে যতটা সম্ভব সাহায্য করার। গাড়ি থেকে নেমেই মানিক ঢুকল ঘরে যেখানে খাটের ওপর শুয়ে চুনিবালা দেবী। হিপবোন ভাঙার পর থেকে আর নামতে পারেননি খাট থেকে। দমকে দমকে কাশি আসায় নিঃশ্বাস নিতেও অসুবিধা হচ্ছে।

মানিক খাটের সামনে একটা চেয়ার টেনে বসল। অনিল দাঁড়িয়ে রইল পাশেই।

– চুনি দি, আপনার শরীর কেমন?

– মানিক বাবু, এই আছি, ডাক আসার অপেক্ষায়।

– শরীর ভালো করার মতো একটা খবর আছে আপনার জন্য।

– কি যে বলেন, এ আর ভালো হওয়ার নয়। সর্দিকাশি তো বেড়েই চলেছে।

– অনিল, ডাক্তার কে খবর দিও। চেক আপের দরকার আছে। দরকার হলে হসপিটালাইজ করবে। তবে চুনি দি, আপনি কি জানেন যে প্রথম ভারতীয় হিসেবে আপনি একটা কান্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন?

– কি করলুম আবার?

– ফিলিপাইন্সের ম্যানিলা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে “পথের পাঁচালী” তে অভিনয়ের জন্য আপনাকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ভারতের কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রী এর আগে বিদেশ থেকে পুরস্কার পাননি।

চুনিদির অসুস্থ মুখেও একটা প্রসন্নতার ছাপ পড়ল যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য। হাত বাড়িয়ে মানিকের হাতের ওপর রেখে বললেন, “এবার শান্তিতে যেতে পারি তাহলে।”

মানিকের এই খবর চুনিবালা দেবীকে তাড়াহুড়ো করে দেওয়ার মধ্যেও যে এক অজানা কারণ ছিল, তা হয়তো বিধাতাই জানতেন শুধু। হয়তো এই সম্মান পাওয়ার জন্যই শুধু অপেক্ষা করছিলেন। সুস্থ থাকলে পুরস্কার গ্রহণ করতে ম্যানিলা যেতে পারতেন, কিন্তু তার সুযোগ না দিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই বড্ড বেশি দূরে চলে গেলেন চুনিবালা দেবী।

খুব কাছের আত্মীয় চলে গেলে যে কষ্টটা হয়, ঠিক সেটাই যেন মানিকের বুকে চেপে বসে রইল চুনি দি চলে যাওয়ার পর দুদিন অবধি। তবে মন শক্ত করে সামলে উঠতে অসুবিধা হল না। সামনে অনেক কাজ।

এদিকে দেশের “থার্ড ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড”-এ নেহরুর হাত থেকে পুরস্কার নিল মানিক। “বেস্ট ফিচার ফিল্ম” আর “বেস্ট বেঙ্গলি ফিচার ফিল্ম” দুটোই “পথের পাঁচালী”-র ঝুলিতে।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠাতে হবে এই ছবিকে। খুব বড় মাপের ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ফ্রান্সের এই কান শহরে অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছর। তবে মানিক নিজে যাচ্ছে না। ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিনিধি হিসাবে যাচ্ছেন হিতেন চৌধুরী। ইনিও বাঙালি চিত্র পরিচালক, কিন্তু থাকেন বোম্বাইতে। মানিকেরও চেনা।

||

১৯৫৬ সাল।

হিতেন চৌধুরির চিঠি টা মেলে ধরে পড়তে শুরু করল মানিক।

শ্রদ্ধেয় সত্যজিৎ বাবু,

চিঠি লিখতে একটু বিলম্ব হল, ক্ষমা করবেন। আসলে শহরটার প্রেমে পড়ে গেছি। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যোগ দেওয়ার আগে কিছু সময় পেয়ে ঘুরে ফিরে দেখলাম চারিদিক, আর মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ফ্রেঞ্চ ভাষা সেইভাবে না জানার জন্য একটু অসুবিধা তো হচ্ছেই, তবে আর একজন আছেন আমার সাথে, তিনি হেল্প করছেন।

এবার আসি আসল কথায়। “পথের পাঁচালী”-কে প্রমোট করার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও আরও উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ ছিল। অন্তত একটা পার্টির আয়োজন তো সবাই করে, তাও এঁরা করেননি।

উৎসবের মধ্যে এক ছুটির দিনে আপনার ছবিটা দেখানো হল। আবার দেখানো হল সেদিন মধ্যরাতেও। তবে এর আগে সেদিন চারটে সিনেমা দেখানো হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল আকিরা কুরোসাওয়ার “ইকিমোনো নো কিরোকু”, যার ইংরাজি নাম “আই লিভ ইন ফিয়ার”। তবে বিশেষ কদর পায়নি এই ছবি। জুরি মেম্বারদের অধিকাংশই সেদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। ছুটির দিন হলে যা হয় আর কি। তবে আপনি যে কজন বিদেশি অভিনেতা আর পরিচালকদের নাম বলেছিলেন, তাঁরা সবাই এসেছিলেন। লিন্ডসে অ্যান্ডারসন, লটি আইসনার, আঁদ্রে বাজিন, জর্জ সাদুল, জিন মস্কোভিতস এঁরা সবাই আপনার ছবি নিয়ে কথা বলছিলেন। জুলে দাস্যাঁও এঁদের সাথে যোগ দেন। এঁদের “পথের পাঁচালী” এত ভালো লেগেছে যে এঁরা উৎসব কমিটি কে চাপ দিচ্ছেন যে সকল জুরি মেম্বারদের উপস্থিতিতে এই ছবি আবার দেখাতে হবে।

আশা করি আগামী চিঠিতে ভালো খবর দিতে পারব। ভালো থাকবেন।

ইতি
শ্রী হিতেন চৌধুরি

চিঠিটা ভাঁজ করে পাশের টেবিলে রেখে মানিক টেনে নিল একটা বড় সাদা কাগজ আর পেনসিল। পা দুটো তুলে দিল সামনের একটা চেয়ারে। লেখা, আঁকা বা অন্য যেকোনও কাজের সময় পা দুটো সামনে কোথাও তুলে না রাখলে মানিকের ঠিক মন বসে না। সিগনেট প্রেসের একটা বই বেরোবার কথা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায়। তার প্রচ্ছদ আঁকার দায়িত্ব মানিকের। তবে এই কাজে নিজের সম্মতি থাকলেও বিজ্ঞাপণ অফিসের কাজ আর কতদিন করতে পারা যাবে, তাই নিয়ে মনের মধ্যে টানাপোড়ন চলেই যাচ্ছে। চাকরি ছেড়ে দিয়ে যে ফিল্ম মেকিং-এই পুরো সময় দেবে তাও হচ্ছে না, কারণ অনেক উপন্যাস পড়লেও মনের মতো কিছু পাওয়া যাচ্ছে না, যা দিয়ে সিনেমা হতে পারে। ১৯৪৬ সালে “প্রিজনার অফ জেন্ডা”-র বাঙলা ভার্সানের জন্য মানিক একটা স্ক্রিপ্ট লিখেছিল। কিন্তু বিমল রায়কে নিউ থিয়েটার স্টুডিও তে সেই স্ক্রিপ্ট দেখাতে গেলে উনি মানিককে অপেক্ষা করতে বলে আর দেখা করেননি। “পথের পাঁচালী” করার আগে “ঘরে বাইরে”-র স্ক্রিপ্ট নিয়েও কাজ অনেকটা এগোলেও মাঝপথে থামিয়ে দিতে হয়। প্রডিউসারের হাজার রকমের দাবীর অনেকটা মেনে নিলেও শেষ পর্যন্ত কন্ট্রাক্ট ক্যানসেল হয়ে যায়।
তাই এখন শুধু ভালো গল্পের অপেক্ষা।

হিতেন বাবুর দ্বিতীয় চিঠি এল এক সপ্তাহ পরেই। বিজয়া এসে চিঠিটা দেওয়ার সময় মানিক বলল,

– তুমিই পড়ো, আর বলো কি লেখা আছে।

বিজয়া চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করল।

প্রিয় সত্যজিৎ বাবু,

আশা করি বেশি অপেক্ষা করালাম না। সংক্ষেপেই লিখতে বাধ্য হচ্ছি এই চিঠি, বাকিটা সবিস্তারে বলব ফিরে এসে।

প্রথমদিনের জুরি দের চাপে কান উৎসব কমিটি বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে আপনার ছবি আবার দেখায়। এইদিন সকল জুরি মেম্বার উপস্থিত ছিলেন। আর ফল বেরোয় রাতের বেলা।

আপনার “পথের পাঁচালী” স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে “বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট” বিভাগে। এছাড়াও আর একটা “ও সি আই সি” অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে “স্পেশাল মেনশন” বিভাগে।

আপনি মিষ্টি তৈরি রাখুন। আমাদের ভারতীয় সিনেমা আজ অনেক উচ্চতায় পৌঁছে গেল আপনার জন্য।

ভালো থাকবেন।

ইতি,
শ্রী হিতেন চৌধুরি

||

বোম্বাইয়ের বিখ্যাত মেহবুব স্টুডিও। কিশোর কুমার হাঁটছেন একটা শুটিং ফ্লোরের সামনের মাঠ দিয়ে। হঠাৎ দেখলেন সেই ফ্লোরের সামনে ইউনিটের সবাইকে নিয়ে খুব গম্ভীর মুখে বসে রয়েছেন রাজ কাপুর। এই ফ্লোরেই ওনার শুটিং চলছিল তো বেশ কয়েকদিন ধরেই। আজ কি হল হঠাৎ। চিন্তিত মুখে কিশোর এগিয়ে গেলেন সেদিকে। রাজ কাপুরের সামনে এসে জিজ্ঞেস করলেন,

– ব্যাপার কি কাপুর সাহেব! এমন গোমরা মুখে বসে কেন কাজ বন্ধ করে?

– আরে কিশোর যে! এসো বসো। আজ কাজ করার মুডটাই চলে গেল।

– সে কি! কেন?

– আজ সকালে ইউনিটের সবাইকে নিয়ে পাশের হলে একটা সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম।

– কোন সিনেমা?

– নাম তার “পথের পাঁচালী”। অভিভূত হয়ে গেলাম দেখে জানো তো। ফিল্ম জগতে প্রায় অপরিচিত একজন বাঙালি আমাদের মতো পরিচালকদের বুদ্ধু বানিয়ে ছাড়ল। বড় একটা শিক্ষাও দিয়ে গেল!

~~~♦ চলবে! ♦~~~

লেখক ~ অরিজিৎ গাঙ্গুলি

আগের সব পর্ব পড়ুন এখানে

|| তথ্যসূত্র ||

১. আমাদের কথা – বিজয়া রায়
২. বিষয় চলচ্চিত্র – সত্যজিৎ রায়
৩. প্রবন্ধ সংগ্রহ – সত্যজিৎ রায়
৪. একেই বলে শুটিং – সত্যজিৎ রায়
৫. সত্যজিৎ রায়, বিশ্বজয়ী প্রতিভার বর্ণময় জীবন – অরূপ মুখোপাধ্যায়
৬. পরশমানিক – অরুণেন্দ্র মুখোপাধ্যায়
৭. আমি আর ফেলুদা – সন্দীপ রায়
৮. সত্যজিৎ রায়ের চিঠি, অশোককুমার দাস কে লেখা – দেশ শারদীয় ১৪২৩
৯. সত্যজিৎ ভাবনা – উজ্জ্বল চক্রবর্তী
১০. সত্যজিৎকে নিয়ে – শঙ্করলাল ভট্টাচার্য
১১. এখন সত্যজিৎ – গুপী গাইন বাঘা বাইন সংখ্যা – নভেম্বর ২০০২
১২. দেশ – সত্যজিৎ সংখ্যা
১৩. রবিবাসরীয় – সত্যজিৎ স্পেশাল
১৪. সত্যজিতের নারীরা – রবিবারোয়ারি – এই সময়
১৫. আজব ছবি গুপী গাইন বাঘা বাইন – রবিবারোয়ারি – এই সময়
১৬. সত্যজিৎ রায় সংখ্যা – এপ্রিল ২০১৫ – আনন্দলোক
১৭. My years with Apu – Satyajit Ray
১৮. Portrait of a Director : Satyajit Ray – Marie Seton
১৯. Our Films Their Films – Satyajit Ray
২০. Manikda, Memories of Satyajit Ray – Nemai Ghosh
২১. Deep Focus, Reflections on Cinema – Satyajit Ray
২২. Satyajit Ray at Work – Bijoya Ray
২৩. Through The Eyes Of A Cinematographer: A Biography Of Soumendu Roy – Devapriya Sanyal
২৪. The Master And I – Soumitra Chatterjee
২৫. www.satyajitray.org
২৬. Ravi and Ray – Times of India
২৭. Renoir in Calcutta – Satyajit Ray
২৮. Satyajit Ray: The Inner Eye: The Biography of a Master Filmmaker – Andrew Robinson
২৯. My Adventures with Satyajit Ray – The Making of Shatranj Ke Khiladi – Suresh Jindal

One thought on “মানিকের পাঁচালী ~ পর্ব ৭ ~ বড়ই সুখের দিন

Leave a Reply