মেসিকে লেখা চিঠি

Friends, Humor, Other Review, Reviews

নাহ, আমি মেসি ভক্ত এরম কথা কস্মিনকালেও কেউ বলবে না। ইনফ্যাক্ট দু্:স্বপ্নেও কেউ বলবে না। যারা আমায় ভালো করে চেনেন বা জানেন তারা জানেন আমি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কত বড় ভক্ত। তাই এই লেখাটা পড়ে অবাক হয়ে কিংবা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকলে এড়িয়ে যেতে পারেন।

একটা ছেলে বল নিয়ে ছুটছে।গায়ে নীল সাদা জার্সি তবে সেটা কলকাতা কর্পোরেশন একাদশের না। বাঁ-পা টা সোনায় মোড়ানো, ডান পা টা কিছুটা কমজোরি কিন্তু সেটাও বাকি অনেকের থেকে শত যোজন এগিয়ে। গায়ের উপর ডিফেন্ডাররা ক্ষুধার্ত হায়নার মত ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ভেতর থেকে হুংকার আসছে, ‘আজকে তোর পা খাবো’। এরম অবস্থায় এক দৈত্যাকার ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল গলিয়ে চকিতে বাঁ পায়ের নিখুঁত ভাঁজে কেটে গেল আরো দুই দৈত্য। সামনে আর দুজন, তার পরেই তেকাঠি। পলক পড়ার আগেই আর একজনকে কাটিয়ে নিয়েই শেষ জন কেও প্রায় কাটিয়ে নেবে এরম সময় আর পারলো না। বিশালাকার ডিফেন্ডার আর আটকাতে না পেরে বাধ্য হয়ে পা চালালো বক্সের ভেতর। কারন সে জানে এই সু্যোগ ফস্কে গেলে নিশ্চিত গোল। বিপক্ষ পেনাল্টি পেলেও তবু একটা চান্স থাকে কিন্তু এই ক্ষেত্রে নিল। তাই দিল পা বাড়িয়ে। স্বপ্নের দৌড় থামল, মুখ থুবড়ে পড়ল ছেলেটা। গ্যালারি জুড়ে চিৎকার ‘পেনাল্টি’। গা ঝেড়ে উঠে স্পটে বল বসালো ছেলেটা। চোখেমুখে একরাশ প্রশ্ন, “আমি কি পারবো? কিন্তু পারতে তো আমায় হবেই।” এই পারা না পারার দোলাচলেই বাঁ পায়ে শট নিল ছেলেটা। প্রশ্নচিহ্ন, ফুলস্টপে বদলানোর আগেই থেমে গেল। এক অতিমানবীয় ভাবে গোলমুখ বন্ধ করে দিল কিপার। পেনাল্টি মিস, গ্যালারিও থেমে গেল। সবাই চুপ। বিপক্ষে তখন উল্লাস। নি:শ্বাস পড়ার আগেই ফিরতি বলকে বিপন্মুক্ত করল ডিফেন্ডারেরা। থমকে গেল আরও একটা স্বপ্ন। ছেলেটা পারলো না। ক্যামেরা বার বার সেটা ফোকাস করলো। দু:খ বেশি বিকোয় বলে।

থামল না, আবার দৌড় শুরু করল। সবুজ ঘাসে নীল সাদা ছবি এঁকে দিতে দিতে সামনে দেখল বিপদ। এক ঝাঁক দৈত্য দাঁড়িয়ে আছে রক্তচক্ষু নিয়ে। গোল করা কার্যত অসম্ভব। একটা ছোট্ট চেষ্টা করেই বুঝলো এভাবে হবে না, সবার নজর তার দিকে। তাই দেরি না করে সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েই বল ঠেলে দিল অরক্ষিত প্লেয়ারের দিকে। এরম সু্যোগ পেয়ে তার কদর করতে পারলো না। বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো হেলায় হারিয়ে দিল। কয়েক যোজন দূর দিয়ে বল চলে গেল। পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার দাম কেউ দিতে পারে না। ছেলেটা থেমে গেল, ভাবলেসহীন হয়ে। খেলার শেষে দলকে জেতাতে পারল না ছেলেটা। নজর কাড়ল ওই পেনাল্টি মিস। কাগজের পাতায় পাতায় সেই ছবি, সেই লেখা। অনেক কাগজ বিকোলো, ভালো ব্যবসা হল। কিন্তু সেই ছেলেটা…!!! তার কথা কেউ ভাবলো না।

সবাই বললো এটাই কি শেষ, আর কি হবে? সবাই দাঁত নখ বের করে ছুটে এসেছে রক্তের খোঁজে। হাসাহাসি, ইয়ার্কি ঠাট্টা চলছে অনবরত। বেঁটে খাটো ছেলেটার মুখে বেশি কথা নেই, বা কথা বলার মতো ভাষা নেই। জবাব দেওয়ার জায়গা শুধু মাঠই।যারা শুধু হাসছে বা এতো কথা ওড়াচ্ছে তারা কি কেউ ভাবছে ওই ছেলেটার কাঁধে কতটা চাপ রয়েছে? কেউ জানতে চেয়েছে সে সকালে কতটা প্র‍্যাক্টিস করে? তারা কি জানে কোন ভাবে, কত জোরে মারলে নুয়ারের মাথার উপর দিয়ে বলটা টপকে জালে জড়ানো যায়? জানে না, ওরা শুধু হাসতে জানে।

কিন্তু এই চাপ নিয়েই তো তোমায় এগোতে হবে, নতুন করে শুরু করতে হবে আবার শূণ্য থেকে। জীবনে সবাই বিফল হয়, তুমিও হয়েছ। সে সব ভুলে আবার নতুন করে দৌড় শুরু করতে হবে। তোমার দিকে তাকিয়ে যে কোটি কোটি মানুষ এখন স্বপ্ন দেখে নতুন করে। নিজের জন্যে না হয় তাদের জন্যে তোমার ফিরে আসাটা যে অনেক জরুরী। তুমি কাঁদলে তারাও কাঁদে, তুমি হাসলে তারাও বাঁধন ছেড়ে হাসে। তোমাকে এভাবে দেখতে যে আমরাও চাই না। আমি জানি তুমি ফিরে আসবেই, ফিরতে তোমায় হবেই; ওদের জন্যে, আমাদের জন্যে।

ইতি-
তোমার তথাকথিত শত্রুপক্ষের এক প্রতিনিধি

©সাবর্ণ্য চৌধুরী

Leave a Reply