তেমাথার যীশু

Friends, আদতে আনাড়ি, বাংলা

“কয়গো দিবে দশ টাকায়?”
তিন চার বছরের আধা ল্যাংটো বাচ্চাটার দিকে একবার তাকিয়ে মুখটা কুঁচকিয়ে গুটকার পিক ফেলে ভিকি। উত্তর না দিয়ে মন দিয়ে একটা একটা করে স্টার, লাল লাইট লাগানো স্যান্টাক্লজ, মেরি ক্রিসমাস লেখা ঝালর গুছাতে থাকে ও। বাচ্চাটা হাত বাড়িয়ে গ্লিটার লাগানো বেলগুলো চাইছিল। এমন ভরা সিজনে আদিখলা বাচ্চাটার সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করতে চায় না ভিকি। দশটাকা! বাল!শালা বিহারীগুলো সব জিনিসকে সস্তা লিট্টি ভাবে।দশটাকায় কয়গো দিবে?!বোককাচোদা শালা। দশটাকায় একটাই বিক্রি নেই তো কয়গো।কপালটাও আজকে তেমন জুতের নেই। ঠান্ডাটাও বেড়ে পড়েছে। সাতটা বাজলেও লাস্ট দু ঘন্টায় মেরেকেটে দেড়শ টাকার বিক্রি হয়েছে, মোড়ের ট্রাফিকের হাবলদারটা তার থেকে দশটাকার সিগারেট ফুঁকে গেছে। একটু একটু টেনশন হচ্ছিল ভিকির। পরাগের কথা শুনে এতগুলো টাকা ইনভেস্ট হয়ে গেছে। আড়াই হাজার টাকার মাল তুলেছিল গত সপ্তাহে এজরা স্ট্রিটের মার্কেট থেকে। একটা বিরাট সাইজের জিঙ্গল বেল কিনেছে, সুইচ টিপলে সেটায় জোরে মিউজিক বাজে। হাতে আছে আর দুদিন। যীশুর জন্মদিন যাবে, আর এ মাল কেউ পুঁছবেও না। ফেরত নিতেও চাঁদুদা খিস্তিয়ে মা বাপ ভুলিয়ে দেবে। লম্বা লম্বা ক্রিসমাস ট্রিগুলোর সবুজ চিকচিকে পাতাগুলোর উপর দিয়ে টুনির মালাটা ফিট করতে করতে ভিকি একবার রাস্তার ওপারে তাকায়। কুইন অফ মেরী চার্চের গেটটা ওপারের ফুটপাতে খোলে। নীল সাদা আর হলুদ বিল্ডিংটা দেখতে হেব্বি লাগে এ কদিন..বেশ বিদেশ বিদেশ ফিলিং হয়। তিনকোণা মাথাটার উপর আরেকটা তিনকোণা কাঁচের বক্সে একটা বড় সোনালী ক্রসে যীশু সাজানো আর বাইরে একটা দুফুটিয়া বাঁধানো জায়গায় ঝাক্কাস জামা পরে একটা পরী দাঁড়িয়ে একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে। পরাগ বলছিল ওটা যীশুর মা। এই বিদেশীগুলোর মাগুলোও একদম ঝাক্কাস। ফিটফাট, টিপটাপ। গোলাপী গাউন পরা, তলায় ঝালর দেওয়া। ঋতুপর্ণা বলত স্মার্ট। ভিকি তখন ওদের পুলকার চালাত। অঞ্জনদার গাড়ির ঋতুপর্ণাদের বাড়িতে পিক আপ টাইম ছিল সাড়ে দশটা। ভিকির ফার্স্ট ট্রিপ ওটাই। ঋতুই ফার্স্ট পিক আপ। ঋতুপর্ণাদের স্কুলে ছেড়ে তারপর আরও দুটো স্কুলের চক্কর কেটে আবার সাড়ে পাঁচটায় ওদের স্কুল ছুটির সময় ভিকি গিয়ে দাঁড়াত স্কুলের গেটে।

ঋতুপর্ণা, ঋতুপর্ণা দাস। মাঝে মাঝে হেসে ভিকি ওকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলত। যদিও , মা কসম, পোস্টারে দেখা চল্লিশ বছরের বুড়ি, ময়দা লাগানো মাগীটার থেকে ঢের সুন্দর ছিল ঋতুপর্ণা দাস।একদম ফুলের মত, সুন্দর। ক্লাস ইলেভেনে পড়ত তখন। স্কুলের ড্রেসটা ছিল লালকালো স্কার্ট আর লাল বর্ডার দেওয়া সাদা শার্ট। পাশে বসলে কুঁকড়ে যেত ভিকি। চোখ চলে যেত ওর নিজের বিনা ইস্তিরির শার্টে, কুঁচকানো তার হাতা, বগলে ঘামের গন্ধ। কলারের ময়লাগুলো ভাগ্যিস দেখা যায় না বাইরে থেকে। রোজ রোজ কাচা শার্ট পরার মত শার্টও ছিল না ভিকির কাছে। একদিন নাম জিজ্ঞাসা করেছিল ঋতু। সবাই নেমে গেছে তখন। ভরতকুমার নস্কর নামটা ঠোঁটে এসেও নিজের অজান্তে পাল্টে গিয়েছিল কখন, মুখ থেকে বেরিয়েছিল ভিকি। হা হা করে হেসেছিল ঋতুপর্ণা। ভিকি ? বাহ! খুব স্মার্ট।

ঋতু নেমে যাওয়ার পর গাড়িটাকে হাওয়ার বেগে উড়িয়ে নাকতলা উদয়নের সামনের মাঠটায় এনে দাঁড় করিয়েছিল ভিকি। খানিক বসে বুকের হাপরটাকে শান্ত করেছিল। আজ শ্লা কপালে যা থাকবে তাই। অঞ্জনদার পেট্রল পুড়বে পুড়ুক শ্লা, গোটা দুয়েক হাওয়াই ট্রিপ তো ভিকি মারবেই মারবে। ফোনটা বন্ধ করেছিল ভিকি। সার্দান বাইপাসের দিকটা ফাঁকা, গাড়ি চালাতে চালাতে রিয়ার ভিউ মিররে নিজের চেহারাটার দিকে তাকিয়ে গর্ব হয়েছিল ওর। ভিকি, স্মার্ট বয় । স্মার্ট বয় ভিকি। ফটা পোস্টার নিকলা ভিকি। না না, শুধু ভিকি নয়, ভিকি আর ঋতু। হাত ধরাধরি করে, সুইজারল্যান্ডের রাস্তায়। লালা জামা আর ঝালর দেওয়া স্কার্টের ঋতু আর হলুদ টিশার্ট জিনের প্যান্টের ভিকি। সুপারহিট বই শালা।

বিহারির বাচ্চাটা এ পাশের সবজিয়ালি দিদিমার কাছে গিয়ে বসেছে। এই দিদিমার পাশেই পার্মানেন্ট জায়গা ভিকির,পাঁচ বছর ধরে। ভিকির অবশ্য চুনোপুটি ব্যবসা, সারাটা বছর নাইলনের দড়ি, সাবানের কৌটো,মেলামাইনের প্লেট আর সিজন বুঝে কখনও দিওয়ালির বাতি, কখনও এক্সমাসের লাইট। তবে এতদিনে একবারও কোনো বাচ্চাটাচ্চাকে দিদিমার সাথে দেখেনি, হতে পারে বিহার থেকে বেড়াতে এসেছে। দিদিমার মুখের হাজার আঁকিবুকি কাটা চেহারাটার সঙ্গে বাচ্চাটার আদল মেলানো মুশকিল। আর মানুষে মানুষে আদল মিললেও মন তো মেলে না, সেখানে শালা ভগবান এমন কারুকাজ করে রেখেছে। এই যে দিব্যি উপরের দিকে তাকিয়ে থাকে পেরেকে ঝুলে ঝুলে, মানুষের দিকে তাকাচ্ছে কই? নিজের ব্যথা ভুলতে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে,উপরে আকাশের
দিকে আর একটা ভগবানের দিকে। ভাবতে ভাবতে নিজেই হেসে ফেলে ভিকি, ভগবান আর ভগবানের সাব এজেন্ট।কে আসলি আর কে নকলি? কে জানে?
ওপার থেকে মার হাত ধরে দুই বিনুনী একটা মেয়ে এদিকেই এগিয়ে আসছে। দু পয়সা কামাইয়ের সুযোগ আসছে মনে হচ্ছে। মুখটা খুলে ভিকি হাঁকতে থাকে, রশনাই রশনাই রশনাই। যীশুবাবা, সান্তাক্লজ , মেরি ক্রিসমাস, জিঙ্গল বেল..ডজন একশ.. ডজন একশ। দুই বিনুনীর মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে এদিকে।একবার ভিকির সামনে সাজানো পসরার দিকে, আরেকবার মার দিকে। মার মুখ নির্বিকার। ভিকি আবার হাঁকে। ওকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায় মা আর মেয়ে।দুই বিনুনীর মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতে তাকাতে আগে এগোয়।

ঋতুপর্ণাও ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতো, গাড়ি থেকে নেমে, ভিকির দিকে পেছন ফিরে তাকিয়ে। হয়ত বন্ধুদের টা টা করত, হয়ত অন্য কাউকে খুঁজত। কিন্তু সে অছিলায় এক আধবার নজর ভিকির উপরও বুলিয়ে যেত। ভিকি জানত, একটা সেকেন্ড হলেও ঋতুর নজরটা গোলাপী হাওয়ার মত ভেসে ভেসে আসছে ভিকির কাছে। দুই বিনুনী নয় চুলটা ও চুড়ো করে বাঁধত । একবার পাশে বসে ভেজা খোলা চুলটা চুড়ো করেছিল। ভিকির নাকে ভক করে এসে লেগেছিল একটা গন্ধ, সেদিন আর নেশা করতে লাগে নি, এমনিই গোটা দুনিয়া টাল টাল লাগছিল। মনে হয়েছিল, অঞ্জনদার গাড়িতেই রাতটা কাটুক সেদিন। চুলের গন্ধটা তেল কালি গ্রিজের গন্ধে হারিয়ে যায়নি যে, সে কথা আর কেউ মানুক না মানুক ভিকি মানত। আর যেটা মানত সেটা কাউকে কখনও ও বলতে পারেনি। প্রাণের বন্ধু পরাগকেও না।

চার্চের নীল সাদা টুনিগুলো জ্বলছে নিভছে, রাত নটা বাজতে চলল। আজ আর কাস্টমার জুটবে বলে মনে হচ্ছে না। সব ওই হারামি বাচ্চাটার জন্য। সন্ধ্যেবেলা লক্ষ্মীবেলায় এমন ভিখিরিগিরি করল , পুরো ব্যবসা চৌপাট করে দিল। বাচ্চাটা দিদিমার পাশে ঘুমিয়ে পড়েছে। সেদিকে তাকিয়ে আরেকবার গুটকার পিক ফেলে পলিথিনের ব্যাগে একটু একটু করে মাল ঢোকাতে শুরু করে ভিকি। মালের প্লাস্টিক রাখবে পুরণদের গেরেজে, তারপর বাস ধরে বোড়ালে ঢুকতে ঢুকতে রাত সাড়ে দশ এগারো।মেলামাইনের প্লেটগুলো বান্ডিল বাঁধতে বাঁধতে হঠাৎ চার্চের গেটের দিকে চোখ পড়ে ভিকির। নীল শাড়ি পরে ওটা কে? ঋতুপর্ণা না ? একটু মোটা আগের থেকে কিন্তু মুখটা..না, এত দূর থেকে হলেও ভুল হয়নি ভিকির। ওটা ঋতুপর্নাই, ঋতুপর্ণা দাসই বটে। সিঁথিটা এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে না কিন্তু শরীর যা ভরাট তাতে বোঝাই যাচ্ছে বিয়ে হয়ে গেছে। শুনেছিল দূরে কোথাও বিয়ে হয়েছে, হয়ত ছুটিতে বাপের বাড়ি এসেছে। রাস্তা ফাঁকা হয়ে এসেছে, হয়ত ঠান্ডার জন্যই। খানিক ইচ্ছে করেই লাল চোঙা বেলটা তুলে বাজিয়ে দেয় ভিকি। চেষ্টা সার্থক, এদিকে তাকিয়েছে ঋতুপর্ণা দাস। অবাক চাউনি, রাস্তা পার হয়ে আসছে এদিকে। বুকের হাপরটা হঠাৎ আইঢাই শব্দ করে খুলছে, বন্ধ হচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে বেলটা না বাজালেও হত।

“তুমি..তুমি এখানে?”

“এই..এখানেই আছি।”

“ও! গাড়ি চালাও না আর? এই কাজই কর?”

“আর কী?”

“কেমন আছ? “

“চলে যাচ্ছে। তুমি?”
“ভালো! আমি..আমি মানে আমি জানতাম না তুমি বাঁশদ্রোণী বাজারে বস।”
হা হা করে হেসে ফেলে ভিকি।
“জানলে কী করতে ? আসতে না?”
“না! ..তা কেন?”
“বাড়ির জন্য কিছু লাগবে না? বাচ্চার জন্য ক্রিসমাস ট্রি..মেরি ক্রিসমাস ব্যানার। দেখ, প্রচুর মাল তুলেছি।”

“বিয়ে করেছ? বাচ্চাকাচ্চা নেই?”
ঋতুর প্রশ্নের উত্তরটা দুম করে অন্যরকম বেরিয়ে যায় ভিকির।
“হুম, আছে তো। ওই তো ঘুমিয়ে পড়েছে। “
“ওহ! ওটা তোমার ছেলে?”
“হুম।”
“বাহ, খুব মিষ্টি। আমায় এক ডজন গ্লিটার বল দাও, আর ওই কটা..ওগুলো কী?”
“এই গ্লিটার স্টিকগুলো?”
“হ্যাঁ…হ্যাঁ..ওই হাফ ডজন দিয়ে দাও।”
পলিব্যাগে কাগজ মুড়ানো বল আর স্টিকগুলো ভরে ঋতুর হাতে তুলে দেয় ভিকি।
“কত?”
“একশ চল্লিশ।”
“ আসি?” হাত বাড়িয়ে টাকাটা দিয়ে ঋতু বলে।

ঋতুর মুখের দিকে তাকিয়ে ভিকি ছোট্ট করে হাসে, উত্তর দেয়, “ হুম।”.

পলিথিনের ব্যাগটা দুলাতে দুলাতে শ্রী হাউসিংয়ের গলিটার দিকে মিলিয়ে যায় ঋতু।লাল গোলাপী বেলটার দিকে একবার তাকায় ভিকি। অনেক অনেকদিন আগে অঞ্জনদা এক্সমাসে একটা কেকের বাক্স দিয়েছিল সবাইকে। তাতে সান্টাক্লজের হাতে ছিল একটা সোনালী রঙের বড় একটা বেল। বেল বাজল মানে নতুন জগতের দরজা খুলল।আলো আলোয় ভরা, লাল নীল স্বপ্নের মতো, জ্বলছে নিভছে। বাঁশদ্রোণীর বাজারের এই জায়গাটায় যখন বছর সাতেক আগে বসেছিল ভিকি একটা হাল্কা আশা ছিল..যদি কোনোদিন..একবার হলেও। না, ওপারের পেরেকে ঝোলা লোকটা আর যাই হোক একেবারে কালা নয়। সাত বছর আগের প্রার্থনা মনে করে রেখেছে..ভিকি নিজেই মনে হয় ভুলে গেছিল।
গিফ্ট পেলে রিটার্ণ গিফ্ট দিতে হয় ঋতুপর্ণা বলেছিল। শেষের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় একটা হলুদ গোলাপ ভিকির হাতে দিয়ে। আজ এতদিন পরে রিটার্ন গিফ্ট দেওয়ার সুযোগটা এসেও হাতছাড়া হয়ে গেল..ভিকি ঠোঁট কামড়ায়। কিন্তু গিফ্টটা তো ফেরত দিতেই হবে। ডানদিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে ভিকি। চাদরের তলায় চাপা দেওয়া ক্রাচটা বার করে আস্তে আস্তে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ভাগ্যিস ঋতু দেখতে পায় নি। ভাগ্যিস জিজ্ঞাসা করেনি কেন আর গাড়ি চালাও না!
নীচে ঝুঁকে লাল জিঙ্গল বেলটা তুলে নেয় ভিকি। দিদিমার চাদরের উপর নেতিয়ে শুয়ে থাকা বাচ্চাটার কাছে গিয়ে একবার বেলটা নাড়ায় । বাচ্চাটার ঘুম ভাঙে না..বিক্রি না হওয়া আরও দশটা গ্লিটার বেলগুলো বাচ্চাটার মাথার কাছে রেখে মালের পুটলিটা কাঁধে ফেলে পুরণদের গ্যারেজের দিকে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে থাকে ভিকি।

নাকতলা সেকেন্ড স্কিমের ২৫৭/১ নাকতলা লেনের বাড়িটায় দরজা খুলে ঢোকে ঋতুপর্ণা। বিদেশে বিয়ের পর এটাই বাপের বাড়িতে প্রথম ক্রিসমাস পালন। জাঁকজমক করে সাজানো ক্রিসমাস ট্রিটায় অসংখ্য চাঁদ তারা সূর্যেরা অলরেডি ঝুলছে, প্লাস্টিকের প্যাকেট থেকে ভিকির দোকানের জিনিসগুলো বার করে লাগাতে থাকে ঋতুপর্ণা।
“হোয়াই সো মেনি মম? অলরেডি উই হ্যাভ লট অফ দেম?”
আধো অাধো গলার আওয়াজটাকে চুমু দিয়ে আদর করে নিজের ঘরে ঢোকে ঋতুপর্ণা।একটা পুরোনো বাক্স ছিল না..কিছু কার্ড, কিছু শুকিয়ে যাওয়া ফুল..একটা লাল শুকিয়ে যাওয়া গোলাপ যেটা দিতে গিয়েও হলুদ গোলাপটা হাতে উঠে এসেছিল ঋতুর। আর..আর ছিল একটা ফ্যাকাশে কালিতে লেখা কবিতা। লাল গোলাপটার মতই পকেটে থেকে গিয়েছিল সেদিন। কী যেন বেশ লিখেছিল লাইনগুলো ঋতু..অল্প অল্প মনে আসছে..

“তোর চেয়ে ভাল হাজার আছে, কিন্তু তারা তুই তো নয়,
সবটা জেনেও আগলে রাখিস,তোর মত কি পাগলা হয়?

আচ্ছা এবার উল্টে দিলাম, তুই হাইফাই আমিই চিপ,
তখন কি তুই বাসতি ভালো,আমার পরা ছোট্ট টিপ?

আঁকতে দিতিস আমাকে তোর,কাজল দিয়ে গোঁফ খানা?
চুমু খেয়ে চোখ পাকিয়ে, বলতি “গুরু মন্দ না”।

থাকনা এসব বিষের কথা, স্বপ্ন কি আর সত্যি রে?
মিথ্যে গুলোই থাক সাজানো,ইচ্ছেগুলো মরুক গে।”

নাকতলার ছোট্ট ঘরটায় হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোকে আরেকবার হাতড়িয়ে খুঁজতে থাকে ঋতুপর্ণা। বোড়ালের শেষ বাসটায় চেনা কন্ডাকটরের হাত ধরে উঠে পড়ে ভিকি।বিহারি বাচ্চা দিদিমার কোলে চেপে অবাক চোখে লালনীল জিঙ্গল বেল দেখতে দেখতে ঘরের পানে রওনা দেয়। আর কুইন অফ মেরি চার্চে কাঁটার মুকুট মাথায় জাগ্রত থাকেন মানুষের ঈশ্বর। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া এক ফোঁটা জলেই যে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মের সার্থকতা..ভালোবাসার সার্থকতা..তা তাঁর চেয়ে বেশী আর কে জানে?

~~~♠~~~

লেখিকা ~ পিয়া সরকার

কবিতা ঋণ- দেবপ্রিয় মুখার্জ্জী

Leave a Reply