কিন্ডলে বাংলা পিডিএফ পড়ার সহজ উপায়

Technology

বই হাতে নিয়ে পড়ার মজাই আলাদা। কিন্তু যারা কিন্ডলের স্বাদ একবার পেয়েছেন, তারা জানেন যে কত সহজে হাজার হাজার বই পকেটে নিয়ে চলা যায়। মোবাইল বা ট্যাবে ব্লু লাইট ফিল্টার লাগিয়ে পড়লেও চোখে কষ্ট হয় বেশ কিছুক্ষণ পর। কিন্তু কিন্ডলে সেই সমস্যা নেই। বইয়ের পাতায় যেমন লেখা দেখতে পান, কিন্ডলের ই-ইঙ্কেও ঠিক তেমনই পাবেন। অধুনা কিছু কিন্ডলের মডেলে ব্যাকলাইটের ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণত কিন্ডলে ব্যাকলাইট থাকে না, তাই অন্ধকারে বইও যেমন পড়তে পারেন না, কিন্ডলও পড়তে পারা যাবে না।

যাই হোক, যে কথাটা বলার জন্য এই পোস্ট করছি আজকে, তাতেই ফিরে আসা যাক। চারিদিকে অজস্র বাংলা পিডিএফ আমরা দেখতে পাই। বেআইনি পিডিএফের কথা বাদ দিচ্ছি। সাধারণত বই প্রকাশের তিন বছর পর পিডিএফ বাজারে এলে কপিরাইটের বাধা আর থাকে না বলেই শুনেছি, তবে আমি ভুলও হতে পারি। এই পিডিএফ কিন্তু কিন্ডলে পড়তে গেলে বেশ সমস্যা হয়। কিন্ডল দুই ধরনের ফর্মাট সাপোর্ট করে। mobi আর azw ফর্মাটের বই হলে আপনি ফন্টের সাইজ অনায়াসে বাড়াতে পারেন কিন্ডলে, আর তাতে দৃশ্যমান পাতায় ফন্টের সংখ্যা নিজে নিজেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। কিন্তু পিডিএফে সেই সুবিধা পাওয়া যায় না। জুম করে পড়লে পাতার সাইজ বেড়ে যায়, তাই পাতাকে এদিক ওদিক করে পড়তে হয়। অবশ্য অনেকে পোট্রেট থেকে পরিবর্তন করে ল্যান্ডস্কেপ মোডে পড়ে থাকেন পিডিএফ, কিন্তু তাতেও অনেকসময় ফন্টের সাইজ ছোট থেকে যায়।

অ্যাডোব অ্যাক্রোব্যাট রিডারে পিডিএফ ফাইলের ফন্ট বড় করার সুবিধা তখনই পাবেন, যদি আপনি গ্যাঁটের পয়সা দিয়ে অ্যাডোবের লাইসেন্স কিনে থাকেন। সাধারণত কাউকেই দেখিনি এই লাইসেন্স কিনতে।

আমাজনের “সেন্ড টু কিন্ডল” অ্যাপ বা আপনার ব্যক্তিগত কিনফল ইমেইল আইডিতে মেইল করেও পিফিএফ পাঠাতে পারেন কিন্ডলে। কিন্তু বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে তেমন লাভ কিছু হয় না। “কনভার্ট” অপশনও আমি ব্যবহার করে দেখেছি ওপরের দুই ক্ষেত্রেই, কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। ফাইলটি ডক হিসেবে কিন্ডলে এসেছে ঠিকই, কিন্তু ফন্টের আকার পরিবর্তন করতে পারিনি।

তাই বিস্তর ঘাঁটাঘাঁটির পর একটা বেশ ভালো সমাধান পেয়েছি, যেটা আজ আপনাদের বলব। তবে একটা কথা আগে বলে রাখি, যেসব বাংলা পিডিএফ শুধুমাত্র ক্যামেরা দিয়ে পাতার ছবি তুলে তৈরি করা, তাদের জন্য এই সমাধান প্রযোজ্য নয়। ক্যামস্ক্যানারে স্ক্যান করার সময় যদি OCR (Optical Character Recognition) সিলেক্ট করা থাকে, তবেই সেই ফাইল এই সমাধানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।

আসুন দেখে নিই কী করতে হবে। খুব ছোট্ট সহজ কাজ। একবার জেনে গেলেই খুব সোজা।

আপনার ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে একটা ছোট্ট সফটওয়ার ডাউনলোড করে নিতে হবে নিচে দেওয়া সাইট থেকে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পেয়ে যাবেন।

https://www.willus.com/k2pdfopt/download/

ডাউনলোড হয়ে গেলে ইন্সটল করারও দরকার নেই। ফাইলটায় ক্লিক করলেই নিচে দেওয়া স্ক্রিনের মতো সফটওয়্যারটি খুলে যাবে। এবার আপনার বাংলা বইগুলি একে একে সিলেক্টও করতে পারেন, বা একখানা গোটা ফোল্ডারই সিলেক্ট করে নিতে পারেন যাতে আপনার সমস্ত বাংলা পিডিএফ জমানো আছে। সমস্ত ডিফল্ট অপশনেই আপনার কাজ হয়ে যাবে। শুধু দেখে নেবেন আউটপুট ফর্মাটটি “কিন্ডল পেপারওয়াইট” সিলেক্ট করা আছে কিনা। ব্যস, সব রেডি করে একটা আউটপুট খালি ফোল্ডার চিনিয়ে দিয়ে “কনভার্ট” বাটন প্রেস করুন। একটা স্ক্রিন চলে আসবে আপনার সামনে যাতে দেখতে পাবেন একের পর এক বই কনভার্ট হচ্ছে। সময়ও বেশি লাগবে না। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি একটা ১০০০ পাতার বই কনভার্ট করতে বড়জোর ৫ মিনিট লাগবে।

এই কনভারসনের পরে যে বইটি তৈরি হবে সেটিও কিন্তু পিডিএফ। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে বইটি খুললেই বুঝতে পারবেন ভেতরের ফন্ট অনেক বড় বড় হয়ে গেছে, যা কিন্ডলে পড়ার জন্য আদর্শ। বইটির পাতার সংখ্যাও আগের থেকে বেশি হবে, তবে ফাইলের সাইজ খুব একটা বাড়বে না। বিদেশে বেশিরভাগ বইয়ের “লার্জ প্রিন্ট” বলে একটা ভার্সান বেরোয়, যাতে ফন্ট বেশ বড় বড় থাকে যা সবাই সহজেই পড়তে পারে। এই সমাধানটিও সেইরকমই কিছুটা।

নিচে ছবি দিয়ে দিলাম একটা বইয়ের পাতার, যাতে কনভার্ট করার আগে ও পরের সাইজ দেখতে পাবেন, আবার কিন্ডলে আপলোড করার পরও কেমন দেখতে লাগে বুঝতে পারবেন। পাতাগুলি সব হয়তো বইয়ে একই জায়গার নয়, শুধু স্যাম্পেল হিসেবে আপলোড করলাম।

ব্যস, কনভার্ট হওয়া পিডিএফ সব পাঠিয়ে দিন আপনার কিন্ডলে, বা ডেটা কেবিল দিয়ে আপলোড করে নিন কিন্ডল ডিভাইসের “ডক” ফোল্ডারে। কেল্লাফতে! পড়তে থাকুন আরামসে। 😎

স্বরূপ আমাকে কিছু ভালো বই পাঠাতে পারেন কনভার্ট করে। 😉

© অরিজিৎ গাঙ্গুলি

Leave a Reply