সাতরঙা

ওই দৃশ্য দেখে কাকিমা নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি, কোনো কথা না বলে নিঃশব্দে ঘর থেকে চলে গিয়েছিলেন,কয়েক মাসের মধ্যেই কাকিমা সুইসাইড করেন।

লেখক ~ ছন্দক চক্রবর্তী

স্কুলের পোশাকে ছবি

বাচ্চাকে যত ভালো স্কুলেই পড়ান না কেন, সে কোন স্কুলে যাচ্ছে, সেই তথ্য দেবেন না ফেসবুকে। স্কুলড্রেস পরা ছবি থেকেও খুব সহজেই কোন স্কুল জানা যায়। সেইরকম ছবি দেবেন না ফেসবুকে বা ইন্সটাগ্রামে।

লেখিকা ~ ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী

অন্য এক দোলগাথা

ওই দেকো, ওদিকপানে একবার চেয়ে। মুখে বাঁশি, মাথায় পালক, হলুদ ধুতি পরনে কেমন মিটিমিটি হাসে আমার পানে চেয়ে। রাধারাণী কি বলচে যেন কানের কাছে মাতা ন্যে এসে। মনটা অস্থির হয়ে আছে কদিন থেয়ে।

লেখক ~ পার্থ ঘোষ

অপেক্ষা

সে আর দেরি না করে প্যাকেটটা বার করে। একমাত্র সেই জানে, যে দোতলার জানালাটা এখন খোলা থাকে। বাড়ির আর অন্য জানালাগুলো শক্ত করে আঁটা থাকলেও এই জানালাটা কোন এক অজানা মন্ত্রবলে খুলে যায় এই দিনটাতেই। নাহ, ঘরে কোনও আলো জ্বলছে না। জানালাটার দুটো পাল্লাই হাট করে খোলা।

লেখক ~ স্পন্দন চৌধুরি

সরষেক্ষেত ও খৈনি

যাই হোক রডে পোজিশন লে লিয়া। তরুণ কুমারের মত বডি আর উত্তম কুমারের অ্যাটিচ্যুড নিয়ে পকেটে হাত বুলালাম। বিড়ির তাড়াটা মিসিং। ধ্যার্বাল! ঝনঝন্ করে হৃদয়ের গুঁড়ো ঝরে পড়তে লাগল। উড়ে যেতে লাগল বাইরে রানিং গাছপালা, ল্যাম্পপোস্টের গায়ে।

লেখা ~ দেবপ্রিয় মুখার্জি

লাভ ইউ রোহিতা

কিন্তু সবথেকে যা পারে , তা হলো নাকে নথ লাগিয়ে সিঁদুর পরে সম্বন্ধ করতে। যা চিংড়ি পারেনা পোকা বলে। তাত্ত্বিকের তত্ব কিন্তু বিয়ের আয়োজনের তত্বে চুপ করে থাকে। ডালায় সে সেজে ওঠে সুন্দরী হয়ে। আর রাজ্ করে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে।

রূপকথা

মানিক পাড়ার মোড়েই একটা মুদির দোকান চালায়। আগে যদিও কিছু বিক্রিবাটা হতো এখন সেসব আরো কমে গেছে। সেই বাড়ির ছেলে বুবাই, মাথায় খালি ফুটবল আর ফুটবল। পাশের পাড়ার একটা ছোট আধা সরকারী স্কুলে পড়ে। পড়াশোনা চাড়া বাকি সময়ে খালি ফুটবল আর ফুটবল।

লেখক ~ সাবর্ণ্য চৌধুরি

স্বৈরিণী

মার অনুশাসন কানে যায় না তিথির। বাথরুমের ঠান্ডা জল গায়ে ঢালতে ঢালতে দেওয়ালে লাগানো ঝাপসা আয়নাটার দিকে তাকায় ও। চাঁপাকলির মত ফর্সা সরু আঙুলে ধীরে ধীরে ঠোঁটটাকে ছোঁয় ও। আলতো করে, ঠিক যেমন ভাবে অবনীর ঠোঁট দশমিনিট আগে ছুঁয়েছিল ওকে। আঙুল নেমে আসে গলায়, মণিকন্ঠে হাত বুলিয়ে দুই পূর্ণ সুডৌল মালভুমিতে। জলের ধারা শরীর বেয়ে নামে, শিহরিত হয় তিথি। ওর শরীর আজ পূর্ণতা পেতে চায়, কিন্তু অবনী বলেছে অপেক্ষা করো। মৌমিতাকে ডিভোর্স দেওয়া অবধি।